কৃষি চট্টগ্রাম

২০ হাজার বস্তা আলু নষ্ট হয়ে গেছে

শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, চাঁদপুর: মতলব দক্ষিণ উপজেলার মার্শাল আইচ এন্ড কোল্ড স্টোরেজের ছাদের একটি অংশ গত বৃহস্পতিবার রাতে ধসে পড়েছে। এতে ২০ হাজার বস্তা আলু বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ বছর মার্চে কৃষকরা আলু ওই হিমাগারে সংরক্ষণ করে। এতে পাঁচ শতাধিক কৃষক ও ৫০-৬০ জন এজেন্ট ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মার্শাল আইচ এন্ড কোল্ড স্টোরেজের হিমাগারের ২নং কক্ষে তিনটি পিলারের ছাদের ভিম ধসে পড়েছে। ফলে বৃষ্টির পানিতে ২০ হাজার বস্তা আলু ভিজে একাকার হয়ে যায়। হিমাগারে তাপ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাবে বলে মনে করছে ভুক্তভোগী গ্রহক ও এজেন্টরা। হিমাগারের ৪টি চেম্বারে প্রায় ৮০ হাজার বস্তা আলু রয়েছে। একটি চেম্বারের প্রায় ২০ হাজার বস্তা আলুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোনোভাবে ছাদ ধস ঠেকানো না গেলে পুরো হিমাগারের প্রায় ৮০ হাজার বস্তা আলু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে হিমাগার কর্তৃপক্ষ ত্রিপল দিয়ে ধসে যাওয়া ছাদ ঢেকে দিয়ে বৃষ্টির পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক কৃষক জানান, আমরা প্রায় ১০ হাজার বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছি। যে কক্ষটিতে পানি প্রবেশ করেছে সেখানে আমাদের প্রায় ৪ হাজার বস্তা বীজ আলু রয়েছে। সব আলুই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আমরা চরম হতাশা ও উৎকণ্ঠায় আছি। এখন আলুগুলো বিক্রি করলে ন্যায্য দাম পাবো না। পরবর্তীতে আমাদের বীজ আলুর সমস্যা হবে এবং অধিক দরে বীজ আলু ক্রয় করতে হবে।

হিমাগারের ইঞ্জিনিয়ার মাশরেফুল ইসলাম জানান, প্রতিটি পিলারে পানি সরানোর জন্য ছিদ্র করা আছে। কয়েকদিনের অতি বৃষ্টির কারণে সেই ফুটোগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিল্ডিংয়ের ছাদ ধসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ত্রিপল দিয়ে পানি ঠেকানো ও লোহার কাঠ দিয়ে ছাদ ঠেকানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

হিমাগারের সুপারভাইজার মেহেদী হাসান ও রফিক জানান, ছাদ যেখানে ধসে পড়েছে সেখানে যাতে পানি প্রবেশ না করে সেজন্য ত্রিপলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অল্প যেটুকু পানি ভেতরে প্রবেশ করেছে সেটা সমস্যা হবে না। প্রতি মাসে আলুর বস্তা উল্টানো পাল্টানো হয়। সে সময় আমরা নষ্ট আলুগুলো বের করে দিব। এছাড়া ধসে যাওয়া অংশে লোহা কাঠ দিয়ে ঠেকানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি কক্ষে মিটার বসানো আছে। তাপমাত্রার সমস্যা হলে দেখা যাবে। এখনও সব আলু নষ্ট হয়ে যায়নি।

জানা গেছে, ১৯৮২ সালে এই (মার্শাল আইচ এন্ড কোল্ড স্টোরেজ) হিমাগারটি নির্মিত হয়েছে। গ্রাাহক ও এজেন্টরা জানান, বিল্ডিংটি পুরাতন হওয়ায় ছাদ ধসে পড়েছে। এই কক্ষের ছাদটি ধসে পড়লে পুরো বিল্ডিং ধসে যেতে পারে।