জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর শিক্ষাঙ্গন

আমরা গত কয়েকবছর ধরে ভারতকে চাপ দিয়ে যাচ্ছি

seminar ঢাবি করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজ২৪বিডি.কম, ঢাবি: প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, ‘তিস্তা চুক্তি একদিন না একদিন হবেই। আমরা গত কয়েকবছর ধরে ভারতকে চাপ দিয়ে যাচ্ছি, আগামী দুইদিনে আরো চাপ দেব। এ সফরে হয়তো চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে না, তবে এবার একটি ভালো সম্ভাবনা তৈরি হবে।’

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: আঞ্চলিক উন্নতি ও সৌহার্দ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতি আয়োজিত এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সেমিনারের মূল আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জাতিসংঘের সাবেক দূত ব্যারিষ্টার হারুন অর রশীদ। সেমিনারটির সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দীন মোল্লা।

ড. গওহর রিজভী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সবসময়ই অভিযোগ ব্যবসায় বৈষম্যের বিষয়ে। সবাই বলেন, আমরা ভারতের থেকে এতকিছু আমদানি করি কিন্তু আমরা তাদের কাছে কতো টাকার পণ্যই বা রপ্তানি করে থাকি? আসলে আমরা সবাই একে অপরের সাথে এভাবেই ব্যবসা করে থাকি। ইউরোপের বাজারে আমরাও অনেক রপ্তানি করি কিন্তু তাদের থেকে আমরা কতো আমদানি করি? আমাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে কীভাবে সবার সঙ্গে ব্যালেন্স করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি, অর্থনৈতিকভাবে যেন নিজেদের স্বচ্ছল করতে পারি।’

ভারতে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল সম্প্রচার বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই সমস্যাটি আসলে দুই দেশের সরকারের মধ্যকার সমস্যা নয়। এটি ব্যবসায়ীক সমস্যার কারণে সমাধান করা যাচ্ছে না। তারপরও আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি যেন ওদের দেশে আমাদের চ্যানেল সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়।’

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে অকৃত্রিম বন্ধুত্ব তার ফলে আমরা ৪১ বছর পর একটি চুক্তির সফল বাস্তবায়ন দেখলাম। আমাদের দেশে অনেক সরকার আসলেন-গেলেন কেউই সমুদ্রসীমা নিয়ে কথা বললেন না। এ সরকার সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিনি খালি হাতে আসতে চান না। আমরা মনে করি, তার দুই হাত এখনো ভরেনি। তার এবারের সফরে তিস্তা চুক্তি, অবাধ ট্রেন চলাচল চুক্তি ও ভিসা সহজীকরণ চুক্তি স্বাক্ষরের একটি সম্ভাবনা দেখা দেবে বলে আমরা আশা করি।’

তিনি মোদির আগমনকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত উল্লেখ করে এই সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে ইতিহাস গড়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন। এই সফরে নতুন অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের গুনমান প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধিতে বৈষম্য বাড়েনি, এর মাধ্যমে দারিদ্র্যতা কমেছে। তিনি দক্ষ জনশক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে একটি নতুন অর্থনৈতিক উন্নত কাঠামো দেখা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক সম্ভাবনা আছে। এই সময়ে আমরা আমাদের রক্তসম্পর্কীয় প্রতিবেশী ভারতকে পাশে চাই। আমাদের এবং তাদের স্থানীয় বাজারে ব্যবহার করা যাবে এমন একটি রপ্তানি বাজার খুলতে পারলে উভয় দেশেরই বাণিজ্যের প্রসার ঘটতো।’

যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো যেন তাদের দেশের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করতে পারে তার সুযোগ করে দিতে তিনি ভারতের প্রতি আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে রেলওয়ে ও বিদ্যুৎ বিভাগে ভারত বিনিয়োগ করার যে অঙ্গিকার করেছে তার সফল বাস্তবায়ন হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হারুন উর রশীদ বলেন, ‘মোদির আগমনে চমকও থাকতে পারে। সে হিসেবে সেখানে হয়তো তিস্তা চুক্তির রূপরেখাও থাকতে পারে। ভারতে আমরা ২ বিলিয়নের মতো রপ্তানি করতে পারি। শুধু ভারতকে না বলে আমরা যদি আমাদের পণ্যের মান ভালো করতে পারি তবে আমরা আরো বেশি রপ্তানি করতে পারবো।’