জাতীয় বরিশাল

শিববাড়িয়া নদীর তীর দখল করে অবৈধ স্থাপনা তোলার হিড়িক চলছে

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া: কলাপাড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন শিববাড়িয়া নদী দখল করে দেদারছে তোলা হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা। ইতোমধ্যে নদীর দুই পাড় ঘেঁষে অন্তত দেড় শ’ স্থাপনা তোলা হয়েছে। ফলে ফিশিং বোট লোড আনলোড করা দুরুহ হয়ে পড়ছে। নদী হারাচ্ছে নাব্যতা। হাজার হাজার ফিশিংবোট দুর্যোগকালীন সময় তাদের আশ্রয়স্থল হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনিতেই প্রাকৃতিকভাবে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ভাঁটার সময় মাছ ধরার ট্রলারসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। তার মধ্যে দুই পাড় দিয়ে পাকা আধাপাকা শত শত স্থাপনা তোলার কারণে নদীর পরিধি আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহিপুর ও আলীপুর মৎস বন্দরে নদীর দুই পাড় দিয়ে শত শত স্থাপনা তোলা হয়েছে। বর্তমানে দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। একই দৃশ্য চাপলী ও লক্ষ্মীর বাজার সংলগ্ন এলাকার। জেলেরা জানায়, তারা আন্ধার মানিক নদীর শেষ প্রান্ত সাগর মোহনা দিয়ে শিববাড়িয়া নদীতে দুর্যোগকালে দ্রুত আশ্রয় নিতে পারে। এই নদী দিয়ে সাগরের দুই মোহনা দিয়ে মাছ শিকার করতে যেতে পারে। কিন্তু যেভাবে দখল হচ্ছে তাতে নদী দিয়ে এক সঙ্গে দুই তিনটি ট্রলার চলাচল সম্ভব নয়। এছাড়া মাছ বোঝাই করে তীরে ভিড়তে এখন সমস্যা হচ্ছে। আলীপুর ও মহিপুর এলাকায় নদীর দুই দিকে অন্তত দুই কিলোমিটার জুড়ে এমন অবৈধ স্থাপনা তোলা হচ্ছে। উপজেলা ভূমি প্রশাসন মাঝেমধ্যে এসব স্থাপনা তুলতে বাধা দেয়। কয়েকদিন দখল কর্মকান্ড বন্ধ থাকে। আবার ফ্রি-স্টাইলে শুরু হয় নদী দখল সন্ত্রাস। আলীপুর বন্দরের রাখাইন পল্লী কালাচানপাড়া ঘেঁষে এমন দখল প্রক্রিয়া এখন চলছে বেপরোয়াভাবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে কোথাও কোন প্রশাসন নেই। যার যেমন ভাল লাগছে সেভাবেই চলছে শিববাড়িয়া নদীর তীর দখল। সরকারিভাবে এই নদীটির গুরুত্ব অনুধাবন করে সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর তলদেশ খনন করে জেলেদের জন্য পোতাশ্রয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এলক্ষ্যে কয়েকদফা সমীক্ষা চালানো হয়েছে। কিন্তু এখন যেভাবে নদীর দুই পাড় দখল করে স্থাপনা তোলা হচ্ছে তাতে শিববাড়িয়া নদীর অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। অভিজ্ঞ মহলের অভিমত দ্রুত এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদী রক্ষা করা হোক। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মাহবুবুর রহমান জানান, শিববাড়িয়া নদী তীর যারা দখল করে অবৈধ স্থাপনা তুলেছে তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।