জাতীয় রাজশাহী

নাটোরে পৈত্রিক সম্পত্তির বিরোধেই মিন্টুকে হত্যা করা হয়েছে

মোঃ মাহফুজ আলম মুনী, নাটোর: পৈত্রিক সম্পত্তির বিরোধই সৎ বড় ভাই নজরুল ইসলাম ভাড়াটে খুনী দিয়ে মিন্টুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। এমনকি মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সুপরিকল্পিতভাবে তাকে নেশাখোর হিসাবে প্রচার দেয়াসহ মামলা না করা এবং স্থানীয় ভাবে আপোষ করার জন্য তিনি বাদীপক্ষকে নানা ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত মিন্টুর মা, স্ত্রী ও তার স্বজনেরা এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, বনপাড়া পৌর এলাকায় নিহত মিন্টুর বাবা মৃত জহুরুল ইসলাম পাঠানের প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ৮ বিঘা জমি রয়েছে। এসব জমি এককভাবে ভোগ দখল করার উদ্দেশ্যে তার প্রথম পক্ষের বড় ছেলে নজরুল ইসলাম তাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। তার তিন ভাইয়ের মধ্যে দু’জন মারা গেছেন। সম্প্রতি তার সৎ ভাই মিন্টু সম্পত্তির ভাগ দাবী করলে মিন্টুর সঙ্গে তার বিরোধ বাধে। মিন্টুকে হেনস্থা করতে তার নামে তিনি একাধিক মিথ্যা মামলা করেছেন। কিছুদিন পূর্বে মিন্টু ওয়ারিশ দাবী করে ৮ লাখ টাকা মূল্যে ১৪ শতাংশ জমি একই এলাকার মহিষভাঙ্গা গ্রামের আবুল হোসেনের কাছে বিক্রি করে দিলে তাদের বিরোধ তুমুল আকার ধারণ করে। মিন্টুর বিক্রিত সম্পত্তি নিজের দখলে রাখতে এবং অবশিষ্ট সম্পত্তি এককভাবে ভোগদখল করার লোভে নজরুল ইসলামই মিন্টুকে ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে হত্যা করিয়েছে। এখন এসব ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তিনি মিন্টুকে নেশাখোর হিসাবে প্রচার করছেন এবং পুলিশকে ম্যানেজ করে মামলার এজাহারেও বাদীপক্ষের অজ্ঞাতসারে এসব বিষয় উল্লেখ করেছেন। নিহতের স্ত্রী আসমা খাতুন বলেন, কিছু কিছু সাংবাদিকরা আমার সাথে কোন কথা না বলে আমার উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদে মিন্টুকে নেশাখোর হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি নেশাখোর ছিলেন না। তিনি এ ধরণের মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানান। সংবাদ সম্মেলনে তারা মামলায় নজরুল ইসলামের নাম অন্তর্ভূক্তির দাবী জানিয়ে বলেন, থানা পুলিশকে বার বার তার নাম বলা স্বত্ত্বেও পুলিশ অজ্ঞাত কারণে তাকে আসামী করেনি। এমনকি আসামীরা প্রকাশ্যে নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও পুলিশ আসামীদেরকে আটক করছে না। তারা অবিলম্বে নজরুল ইসলামসহ আসামীদেরকে আটক ও উপযুক্ত বিচারের দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত মিন্টুর স্ত্রী আসমা খাতুন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে মামলার বাদীনী ও নিহতের মা রেজিয়া বেওয়া, মামা নাকু মোল্লা, মামাতো ভাই লাবলুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিন্টু হত্যাকান্ডের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। মামলা প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগও সঠিক নয়। তবে আপোষ মিমাংসার প্রস্তাব দেয়া ও জমির ভাগ এখনও না দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মোন্নাফ জানান, মামলা নিজ গতিতেই চলছে। বাদীনীর ইচ্ছানুযায়ী মামলার আসামী করা হয়েছে। আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে (২৮ মে) উপজেলার জোয়াড়ি ইউনিয়নের মির্জাপুরে মিন্টু পাঠান (৩০) নামে এক যুবককে মাসুম, রসুল ও রমিজুল নামে তিনজন বাড়ি থেকে ডেকে এনে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করে।