কুড়িগ্রাম জাতীয় রংপুর

সোনাহাট স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠায় শিল্পপতি গোলাম মোস্তফাকে নাগরিক সংবর্ধনা

unnamed ডাঃ জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ সোনাহাট স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার প্রবাদ পুরুষ দেশবন্ধু গ্রুপের  চেয়ারম্যান শিল্পপতি গোলাম মোস্তফাকে নাগরিক সংবর্ধনা দিয়েছে ভূরুঙ্গামারী উপজেলাবাসী। সোনাহাট স্থলবন্ধর আমদানী-রপ্তানীকারক সমিতি, সোনাহাট ইউজার কমিটি এবং সিএন্ডএফ সোনাহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শনিবার এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গোলাম মোস্তফাকে ক্রেস্ট ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদ, সোনহাট বন্দর সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন, ভুরুঙ্গামারী ব্যবসায়ী সমিতি, ভুরুঙ্গামারী প্রেসক্লাব, ভুরুঙ্গামারী মটর মালিক সমিতি, সোনাহাট লোড আনলোড লেবার এসোসিয়েশন, হ্যান্ডেলিং শ্রমিক সমিতি, ভুরুঙ্গামারী কবি নজরুল শিল্পকলা একাডেমী, নাগেশ্বরী উপজেলা আওয়ামীলীগ, ভুরুঙ্গামারী উপজেলা আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠন ও সাধারণ মানুষ।
আমদানী রপ্তানী কারক সমিতির সভাপতি আবু তাহের ফারাজির সভাপতিত্বে সংবর্ধনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুন্নবী চৌধুরী খোকন, সাইথ ইস্ট সোয়েটার কোম্পানীর চেয়ারম্যান রোকসানা আরা মোস্তফা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপাতি শাহাজান সিরাজ, প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল, নাগেশ্বরী আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরী, আমদানী রপ্তানী কারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক প্রমূখ।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুন্নবী চৌধুরী খোকন বলেন, কুড়িগ্রামসহ ভুরুঙ্গামারী- নাশ্বেরীর এলাকার মানুষের উন্নয়নে এই বন্দর বিশেষ ভুমিকার রাখছে। আর এই বন্দর চালুর জন্য গোলাম মোস্তফার অবদান চিরন্তন হয়ে থাকবে।
সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল বলেন, গোলাম মোস্তফার দূরদৃষ্টি এবং নিরন্তর চেষ্টার কারণেই এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে সোনাহাট স্থল বন্দর। পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলের মানুষের জন্য সৃষ্টি হয়েছে কর্মক্ষেত্রের।
নাগেশ্বরী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরী বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের জন্য আশীর্বাদ হিসাবে জন্ম নিয়েছেন শিল্পপতি গোলাম মোস্তফা। তার ঐকান্তিক চেষ্টায় বর্তমানে সোনাহাট স্থল বন্দর আলোর মুখ দেখেছে।
আমদানী রপ্তানী কারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এখানে এখন আমরা নির্বিঘেœ ব্যবসা করছি। এই ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়ার সফল কারিগর আমাদের প্রাণ প্রিয় শিল্পপতি গোলাম মোস্তফা।
সাইথ ইস্ট সোয়েটার কোম্পানীর চেয়ারম্যান রোকসানা আরা মোস্তফা বলেন, গোলাম মোস্তফা এই এলাকার সন্তান। আপনারা তার সাথে রয়েছেন বলেই সোনাহাট স্থল বন্দর প্রতিষ্ঠায় তিনি যুক্ত ছিলেন।  আপনারা যদি তাকে সবসময় উৎসাহ দেন এবং সাথে থাকেন তবে তিনি নিশ্চয় এ অঞ্চলের উন্নয়নের আরও নানামূখি কর্মকান্ড পরিচালনা করবে। তার সাথে আমরা থাকবো আপনাদের পাশে।
শিল্পপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, এই সোনাহাট স্থলবন্দরটি চালু হওয়ায় কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের অভুতপূর্ব উন্নয়ন শুরু হয়েছে। বন্দর চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত আন্তরিকতার কথা স্মরণ করে বলেন, জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আন্তরিকতার কারণেই এই বন্দর চালু আসলে সম্ভব হয়েছে। এ সময় তিনি মন্ত্রী পরিষদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব, এনবিআর, কাস্টমস কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানান।
এছাড়াও সাংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে বিভিন্ন সময় সংবাদ, ফিচার, টক শো’র মাধ্যমে সরকারের কাছে এক ধরণের চাপ তৈরি করতে পেরিছিলেন।
তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বন্দরটি টিকিয়ে রাখার জন্য আপনাদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু আন্তর্জাতিক ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা আপনাদের অনেক কম সে কারণে আরও সজাগ এবং যৌক্তিক প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে। তাতে যেমন আপনার ব্যবাসায়ী হিসাবে লাভবান হবেন তেমনি এই অঞ্চলের মানুষসহ বাংলাদেশ উপকৃত হবে।
এ সময় তিনি দ্রুত এ বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালুর জন্য সরকারের কাছে দাবী জানান।
উল্লেখ্য গত ১বছর ধরে এ বন্দরটি দিয়ে ভারতীয় পাথর, কয়লা বাংলাদেশে প্রবেশ করায় প্রায় ২শত কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে সরকার। তবে বন্দরের অবকাঠামো না থাকায় ব্যবসায়ী ও দুই সহস্রধাধিক শ্রমজীবি মানুষদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় এবং দেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।