খুলনা জাতীয় যশোর শিক্ষাঙ্গন

লক্ষীনাথকাটি বিদ্যালয়টিতে বেড়া বিহীন ঘরে চলছে পাঠদান

 আব্দুল ওয়াহাব মুকুল: একটি ব্লাক বোর্ডে চলে ৫টি শ্রেণীকক্ষের পাঠদান। বেঞ্চ তো দূরের কথা মেঝেতে ছেড়া পাটিও নেই। মজবুত চালা না থাকায় বর্ষা হলেই বেজে যায় ছুটির ঘন্টা। স্যাঁত স্যাঁতে পরিবেশ, চারপাশে বেড়া বিহীন ঘর। এভাবেই র্দীঘ ১৫ বছর ধরে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে কেশবপুরের লক্ষীনাথকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বাধ্যতামূলক প্রথমিক শিক্ষা কায্যক্রম এ অঞ্চলে মুখ থুবড়ে পড়ছে। জানা গেছে, একটি গ্রামে একটি বিদ্যালয় সরকারের এ উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের লক্ষীনাথকাটি গ্রামে ১৯৯৯ সালে ৩৩ শতক জমির ওপর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। এলাকাবাসির সহযোগিতা ছাড়াই শিক্ষকদের আর্থিক অনুদানে বাঁশে খুটির ওপর গোলপাতার  চালা দিয়ে ৩২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রশস্ত একটি ঘর নির্মিাত হয়। যাত্রা শুরু করে শিক্ষাদান কায্যক্রম। দীর্ঘ ১ যুগ পর ২০১১ সালে বিদ্যালয়টি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও চালু সংক্রান্ত  প্রাথমিক অনুমতি প্রাপ্ত হয়। ২০১২ সালের ১৬ মার্চ বিদ্যালয়টি রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত হয় এবং ওই বছর থেকে ছাত্রছাত্রীরা উপবৃওি পাওয়া শুরু করে। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের আওতায় আনা হয়।  বিদ্যালয়টিতে বর্তমান প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ১৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী ও ৪ জন শিক্ষক রয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে আসছে।সরেজমিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন কালে দেখা গেছে, ১২টি ইটের গাথুনি পিলারের ওপর গোলাপাতার ছাউনির ঘরে আসবারপত্র বলেতে একটি ভাঙ্গা চেয়ার ও একটি ব্লাক বোর্ড ছাড়া আর কিছুই নেই। দ্বিতীয় শ্রেণীতে শিক্ষিকা জাহানারা পারভিন দাঁড়িয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। বিদ্যালয়টির অর্ধেক চালা না থাকায় ৩য় শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে শিক্ষকের পাঠদানে মগ্ন রয়েছে। বিদ্যালয়ের চালের গোলাপাতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভেতর থেকে আকাশ দেখা যাচ্ছে। ছেড়া চটে ধুঁলে বালি শিক্ষার্থীদের নিত্যসঙ্গী। সহকারী শিক্ষিকা  দিলারা পারভিন বলেন, প্রায় দেড়যুগ ধরে শিক্ষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে পাঠদান দিতে গিয়ে বেতনভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিদ্যালয়ের চারপাশে বেড়া না থাকায় স্থানীয় বখাটে যুবকরা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ আসবারপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। বৃষ্টি হলেই সমস্ত ঘর ভিজে যায়। স্যাঁত স্যাঁতে মেঝেতে বসে পাঠদানের  করণে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে আজ পর্যন্ত কেউ সাহায্যের হাত বাড়ানি। প্রধান শিক্ষক আবু মুছা জানান, প্রতিষ্ঠানটির দন্যদশার চিত্র তুলে ধরে একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য সাহায্য চেয়ে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। অফিসের যাবতীয় কাজ নিজ খরচে করতে হয়। শত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও গত বছর সমপানী পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাশ করেছে।তিনি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা খাতুন জানান, প্রতিষ্ঠানটির বেহাল দশার কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।