চট্টগ্রাম চাঁদপুর জাতীয় রাজনীতি

২৯ মার্চ চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন ; ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা

 শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, চাঁদপুর: পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর শহরে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন মেয়র, কাউন্সিলার এবং সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলরদের প্রচারনা তুঙ্গে। বিএনপি, জামাত আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচন বর্জন করলেও ওই দুই দলের অনেক নেতাই পরোক্ষভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। চাঁদপুর প্রতিনিধি শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলমের পাঠানো তথ্য ও ভিডিও চিত্রের উপর ভিত্তি করে একটি ডেক্স রিপোর্ট:
১৮৯৬ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত চাঁদপুর পৌরসভার সব শেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালে। এই পৌরসভায় সর্বপ্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯২০ সালের ৪ জুন।  পাঁচ বছর পর ২০১১ সালে পুনরায় চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলে মামলা-মোকদ্দমার কারণে তিনবার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরও নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যায় নি। সবশেষ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চতুর্থবারের মত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ ৯ বছর পর আগামী ২৯ মার্চ রোববার চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবার মেয়র পদে ২ জন, ১৫ টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলার পদে ২৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঢাকা থেকে ১শ’ ৭২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ২২ বর্গ কিলোমিটারের চাঁদপুর পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ৬৩ হাজার ২শ’৩৫ জন। এর ভেতর পুরুষ ৮৪ হাজার ’২ জন এবং মহিলা ৭৯ হাজার ২শ’৩৩ জন। উল্লেখিত জনসংখ্যার  মধ্যে ভোটার ১ লাখ ১ হাজার ১শ’২২ জন। তার মধ্যে পুরুষ ৫১ হাজার ৩শ’৩৯ জন এবং মহিলা ৫০ হাজার ৭শ’ ৮৩ জন। মোট ৪৯ টি কেন্দ্রে ৩শ’৪৫ টি বুথে এবার ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এটি দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভার একটি। এখানে শিক্ষার হার ৬২ দশমিক ৯১ ভাগ। ভোটাররা বলছেন, তারা বুঝে-শুনে, যাচাই-বাছাই করে প্রার্থীদের ভোট দেবেন। অবশ্যই সেইসব প্রার্থীরা ভোট পাবে যারা, শিক্ষিত, ভদ্র, মার্জিত, পরোপকারি এবং সৎ। তবে তাদের অনেকেই নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন। সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলার এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রার্থীদের সবাই বলছেন তারা মানুষের সেবা করতে প্রার্থী হয়েছেন এবং বিজয়ী হলে এলাকার মানুষের পাশে থাকবেন। আবার অনেক কাউন্সিলার বলেছেন, তারা তাদের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে প্রার্থী হয়েছেন। কাউন্সিলার রেবেকা সুলতানা বকুল, ফরিদা ইয়াসমিন, সাবেক কাউন্সিলার জোহরা আনোয়ার হীরা, প্যানেল মেয়র সিদ্কিুর রহমান টালী, কাউন্সিলার আলী আহাম্মদ সরকার, চাঁন মিয়া মাঝি, সাবেক কাউন্সিলার বিল্লার হোসেন মাঝি, ফরিদ আহমেদ বেপারী, মোঃ সালাহউদ্দিন, নতুন কাউন্সিলার প্রার্থী মনি বেগম, ফারুক দেওয়ান, আমজাদ হোসেন টুটুল – সবার একই কথা, তারা মানুষের ও এরাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। মেয়র পদে মাত্র দু’জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন বর্তমান মেয়র ও আ’লীগ নেতা নাছিরউদ্দিন আহমেদ এবং অন্যজন বিএনপি’র বহিস্কৃত নেতা ও পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান ভ’ঁইয়া। তারা দু’জনই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে সফিক ভ’ঁইয়া অভিযোগ করেছেন তার প্রতিপক্ষ প্রার্থীর হয়ে কিছু কিছু লোক তার কর্মীদের নানাভাবে হমুকি ধমকি দিচ্ছে। ২৯ মার্চ ভোট কেন্দ্রে না যাবার জন্যও ভোটারদের বলা হচ্ছে। কিন্তু এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের নিয়ে গত ১৫ মার্চ বিকেলে শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত আচরণবিধি সংক্রান্ত এক সভায় পুলিশ সুপার মোঃ আমির জাফর ও  জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেন আশ্বাস দিলেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের। তারা জানালেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে কোন ছাড় কাউকে দেয়া হবে না। নির্বাচনের দিন পুলিশ, আনসারের পাশাপাশি স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে র‌্যাব, এপিবিএন, বিজিবি মোতায়েন থাকবে। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। সভায় কোন কোন প্রার্থী অভিযোগ আনলেন কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারার। কিন্তু জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বললেন, ভোটের কোন বিকল্প নেই। কোনভাবেই কাউকে কেন্দ্র দখল বা ভোট জালিয়াতির সুযোগ দেয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হবে। সভায় জানানো হয়, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত প্রার্থীদের এজেন্টরা মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে যেতে পারবেন না এবং ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের পর ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন এজেন্ট কেন্দ্র থেকে বের হতে পারবে না। তবে তাদের জন্য প্রার্থীরা খাবার সরবরাহ করতে পারবেন। সভায় আরো জানানো হয়, কাউন্সিলার প্রার্থীরা বোটের দিন শুধু একটি গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি পাবেন এবং মেয়র প্রার্থীরা দু’টি করে গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি পাবেন। তবে ওইসব গাড়িতে কারা কারা থাকবে তাদের নাম-ঠিকানা ও ছবি আগেই নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে। সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আমির আব্দুল্লা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সূত্রধর, মডেল থানার বারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল কাইয়ুমও উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় দুই মেয়র প্রার্থী তাদের বক্তব্যে যে কোন মূল্যে চাঁদপুরের সহাবস্থানের রাজনীতি বজায় রাখার ঘোষণা দেন।  নির্বাচনের রিটানিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমান জানালেন, তারা সব প্রস্তুতি গ্রহন করে ফেলেছেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয় তার সবই তারা করছেন। দীর্ঘ নয় বছর পর দারুন উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে অপেক্ষা করছে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য। জনসাধারণের সেই অধিকার যেন কোন অপশক্তি কেড়ে নিতে না পারে সে দিকে নজর রাখবে প্রশাসন – এমনটাই প্রত্যাশা চাঁদপুর পৌরসভার অধিবাসীদের।