অপরাধ চট্টগাম চট্টগ্রাম সারাদেশ

একযোগে তান্ডব চালিয়ে দেশ অচলের পরিকল্পনা শিবিরের : এনামুলের স্বীকারোক্তি

শিবিররোমান শেখ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : একযোগে তান্ডব চালিয়ে দেশ অচলের মাস্টার পরিকল্পনা ছিলো শিবিরের। সরকারি স্থাপনাসহ দেশের ৩৭টি জেলায় বড় বড় মিল-কারখানা থেকে শুরু করে তেলের ডিপোগুলোতে আগুন দেওয়ার মহা-পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলো ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা। ৩৭ জেলায় একযোগে এ তান্ডব চালানোর জন্য দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে শিবিরের ৩৭ কেন্দ্রীয় নেতাকে। একযোগে এ তান্ডবটি চালিয়ে দেশ উত্তপ্ত করে সরকারের পতন ঘটাতে পারবে বলে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে প্রতিটি জেলায় গিয়ে অবস্থান নেওয়া শুরু করেছিলেন নেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজসেবা সম্পাদক এনামুল কবির আসেন চট্টগ্রাম।
সিএমপি’র উচ্চ পর্যায়ে থেকে চারটি টিম গঠন করে জিজ্ঞাসাবাদের প্রাথমিক পর্যায়ে আটক এনামুল কবির এসব পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে এনামুল কবির স্বীকার করেছে যে, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে একযোগে দেশের ভেতরে একটি বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে তারা মাঠে নেমেছে। এনামুলের পরিকল্পনা ছিলো চট্টগ্রামের তেলের ডিপো এবং বন্দরে আগুন দেওয়া। তেলের ডিপোগুলোতে তাদের নিজস্ব কিছু লোক রয়েছে,যাদের সহায়তায় ডিপোগুলোতে আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা ছিলো এনামুলের। এসব তেলের ডিপোতে শিবিরের যেসব লোক রয়েছে তাদেরও খুঁজে বের করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
কমিশনার আরো বলেন, শিবিরের এ নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে আন্দোলনকারী বড় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের চাপ রয়েছে বলেও স্বীকার করে এনামুল। তবে দল বা নেতৃত্বের বিষয়ে বিস্তারিত এখনও কিছু বলেনি। আস্তে আস্তে বিষয়টি এনামুল পরিস্কার করবে বলে আশা করেন তিনি।
সিএমপি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি এনামুলকে নগরীর বাকলিয়া থানার বগারবিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এর পরদিন তাকে বাসে আগুন দেয়ার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উচ্চ পর্যায়ে থেকে পৃথক চারটি টিম গঠন করা হয়েছে।
টিমে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. হাছান চৌধুরী, অতিরিক্ত উপ কমিশনার (পশ্চিম) এস এম তানভির আরাফাত, অতিরিক্ত উপ কমিশনার (বন্দর) মোস্তাক আহমেদ এবং কোতোয়ালি জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার শাহ মো. আব্দুর রউফের নেতৃত্বে পৃথক চারটি টিম গঠন করা হয়। প্রত্যেক টিমে একজন করে পরিদর্শক ও একজন করে উপ-পরিদর্শক রাখা হয়।
বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা এনামুল কবির জিজ্ঞাসাবাদে ৩৭ নেতার নাম প্রকাশ করেছে। যারা ৩৭টি জেলায় গিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে একযোগে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনার করেছে। একইসাথে এনামুল এ পরিকল্পনায় নির্দেশদাতা এবং সমন্বয়কারীদের নামও জানিয়েছে পুলিশের কাছে। চট্টগ্রামের সহিংসতার পরিকল্পনার বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে এনামুল।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এনামুল জানিয়েছেন, আন্দোলনকারী ২০ দলের মধ্যে বড় দলগুলো দেশে হরতাল-অবরোধ চাঙা করতে না পারায় নেতারা চিন্তিত। বর্তমান সরকারের আমলে জঙ্গি আন্দোলনে যেহেতু শিবিরের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আছে, সেজন্য তাদের দায়িত্ব নেয়ার জন্য শীর্ষ পর্যায় থেকে চাপ দেয়া হয়। শিবিরকে সেই পরিকল্পনায় ছাত্রদলকেও সঙ্গে নেয়ার কথা বলা হয়।
এনামুল আরো স্বীকার করে, কক্সবাজারের মহেশখালী-কুতুবদিয়া থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সাবেক সাংসদ হামিদুর রহমান আজাদ আন্দোলনকারী জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনিই মূলত শীর্ষ নেতৃত্বের ম্যাসেজ শিবিরকে এনে দেন। এরপর শিবিরের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ থেকে কেন্দ্রীয় ৩৭ নেতাকে ৩৭টি জেলায় সহিংসতা সৃষ্টির বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হয়।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) প্রকৌশলী বনজ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, এনামুল অনেক নেতার নাম আমাদের জানিয়েছে। নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিয়েছে। আমরা তার দেয়া তথ্য যাচাইবাছাই করছি। এনামুলকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি আসলে উচ্চ পর্যায় থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে।
নগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল বলেন, এনামুলকে যদি আমরা সঠিক সময়ে গ্রেপ্তার করতে না পারতাম, তাহলে অল্প কয়েকদিনে মধ্যে বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করে ফেলতো।