চট্টগাম চট্টগ্রাম সারাদেশ

১৪ থানার ওসি’র কাজে ক্ষুদ্ধ সিএমপি কমিশনার

সিএমপি কমিশনাররোমান শেখ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : নগরীর ১৬ থানার মধ্যে ১৪ থানারই ওসিদের কাজে ক্ষুদ্ধ সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল। সম্প্রতি চলমান নাশকতা মোকাবেলায় সাহসী ভূমিকার জন্য অপরাধ সভায় পুরস্কার বিতরণীতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, নগরীর কোতোয়ালী এবং বাকলিয়া থানা ছাড়া সাহসী, কৃতিত্ব এবং নাশকতা মোকাবেলায় অন্য ১৪ থানার কেউই পুরস্কার পায়নি। এসব কাজে বাকলিয়া থানা কমপক্ষে ২০টি পুরস্কার অর্জন করেছেন। কোতয়ালি থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিমও তার থানার পক্ষে কমপক্ষে ১৫টি পুরস্কার গ্রহণ করেন।

এসময় সিএমপি কমিশনার অন্যান্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাকলিয়া আর কোতয়ালি থানা তো সব পুরস্কার নিয়ে গেল। সব কাজ কি বাকলিয়া আর কোতয়ালির ওসিই করবে ? আপনারা কি করেন ? আপনাদের কাজ এত কম কেন ? ভাল কাজ করেন। বাকলিয়া আর কোতয়ালির ওসিকে ফলো করেন।

গংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি থেকে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ-হরতাল শুরুর পর বাকলিয়া এলাকায় এ পর্যন্ত মাত্র একটি বড় ধরনের নাশকতার ঘটেছে। সেটি গত ১৭ জানুয়ারি বাকলিয়ার তুলাতলিতে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা মেরে আগুন দেয় অবরোধকারীরা।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় বাকলিয়া থানা পুলিশ। এছাড়া পুলিশের তদন্তে মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা হিসেবে দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নবাব খানের নামও প্রকাশ পেয়েছে।

ইদ্রিস নামে আরেক পরিকল্পনাকারী বাকলিয়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে জানিয়েছে, নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবুল হাশেম বক্করের সঙ্গে ইদ্রিস রাজনীতি করেন। বক্করের নির্দেশে ও পরিকল্পনায় নগরীতে বিভিন্ন নাশকতার ঘটনা ঘটছে। এছাড়া বাকলিয়া এলাকায় দুটি নাশকতার ঘটনা পরিকল্পনার সময়ই নস্যাৎ করা হয়েছে। দক্ষিণ জেলা শিবিরের সভাপতি তারেক হোছাইনসহ বেশ কয়েকজন নাশকতার পরিকল্পনাকারী জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে বাকলিয়া থানা পুলিশ।

সর্বশেষ পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তেলের ডিপো উড়িয়ে দেয়ার মিশন নিয়ে চট্টগ্রামে আসা শিবিরের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এনামুল কবিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কোতয়ালি থানা পুলিশ। এর ফলে শিবিরের বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

সূত্র জানায়, সভায় সিএমপি কমিশনার চলমান নাশকতা-সহিংসতা প্রতিরোধে নগরীর বাকি ১৪ ধানার ওসিকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন। এতে কোন ধরনের গাফেলতি সহ্য করা হবেনা বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

সভায় সিএমপ’র উর্দ্ধোতন সকল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।