চট্টগাম চট্টগ্রাম প্রধান খবর রাজনীতি সারাদেশ

সরকারকে চাপে ফেলতে চট্টগ্রামে সংগঠিত হচ্ছে শিবির

shibirplanচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চলমান অবরোধ এবং হরতাল কর্মসূচিতে সরকারকে চাপে রাখতে চলতি মাসেই বৃহত্তর চট্টগ্রামে বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েছে শিবির। অবরোধের শুরুতে শিবিরের চিহ্নিত নেতা-কর্মীরা ঢাকা এবং তার আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিলেও তারা এখন চট্টগ্রামমুখী।

আর নাশকতা চালাতে নগরীর বিভিন্ন মেসে কর্মী ও সমর্থকদের দাওয়াতের মাধ্যমে সংগঠিত করছে শিবির।  সম্প্রতি নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত শিবিরের বেশ ক’জন নেতা-কর্মীর কাছ থেকে এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও মোবাইল এসএমএস পেয়েছে পুলিশ।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ভোরে নগরীর বাকলিয়া এলাকার একটি মেসে অভিযান চালিয়ে ককটেল এবং পেট্রোল বোমাসহ তিন শিবিরকর্মীকে আটক করে পুলিশ।  এসময় ওই মেসে পাওয়া যায় অন্তত ১০টি মোবাইল সেট।  মেসের অন্যান্য শিবির নেতারা এসব মোবাইল ফেলে পালিয়ে যায়।  পরবর্তীতে মোবাইল এসএমএস পরীক্ষা এবং আটককৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে আসে বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনার নানা দিক।

সিএমপির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) আবদুর রউফ বলেন, ‘বেশ কিছুদিন তারা এলাকার বাইরে ছিলো, কিন্তু এলাকায় বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটার পর আমরা বেশ কয়েকজন নেতা এবং কর্মীকে গ্রেফতার করি। ‘

অন্যদিকে, সিএমপির বাকলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘যে কয়েকজন শিবির নেতা-কর্মীকে আমরা গ্রেফতার করেছি তারা একটি বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল, এবং যেকোনো থানা এলাকায় তারা একটি নাশকতা করবে, এমন প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ‘

এ তিন জনকে আটকের আগের দিন পাঁচলাইশ থানা আটক করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শিবিরের সভাপতিসহ ৫ জনকে।  পেট্রোল বোমা এবং ককটেলসহ আটককৃত শিবির কর্মীরাও স্বীকার করেছে দাওয়াতি কার্যক্রমের নামে নগরীতে নতুনভাবে জড়ো করা হচ্ছে তাদের।

সিএমপির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) আবদুর রউফ বলেন, ‘বেশ কিছু তথ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি, একেক সময় এক একটি গ্রুপ শহরের মধ্যে ঢুকছে, তাদের আমরা সন্ধান পেয়েছি এবং এসব বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি। ‘

এদিকে, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম শহীদুর রহমানের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য তারা যাচাই করে দেখছেন। পাশাপাশি নাশকতা প্রতিরোধে নেয়া হয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ ।

তিনি বলেন, ‘নাশকতা যাতে না করতে পারে সেই ব্যাপারে আমাদের তথ্য সংগ্রহ, গ্রেফতার অব্যাহত আছে। ‘

শিবিরকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মূলত সারাদেশ থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য শিবিরকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড-মীরসরাই এবং চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করছে।