ধর্ম প্রধান খবর

ইবাদতে মশগুল মুসল্লিরা

image_32962নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের শেষ দিন রোববার ফজর থেকে বয়ান শুরু করেন তাবলিগ জামাতের শীর্ষ বিশিষ্ট মুরব্বি ভারতের দিল্লির হজরত মাওলানা মুহাম্মদ সা’দ। বয়ানের বাংলায় অনুবাদ করছেন বাংলাদেশের মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত।

হেদায়াতি বয়ানে সা’দ বলেন, ইসলামে নামাজের স্থান মানুষের দেহের মাথার মতো। নামাজ হলো আল্লাহর হুকুম। আল্লাহর হুকুম পুরা হলে তার ওয়াদা পূরণ হয়ে যায়। যার দিলে আল্লাহর একিন পয়দা হবে, সে আল্লাহর হুকুমকে অগ্রাধিকার দেবে। নামাজের ফজিলত বান্দা তখনই পাবে, যখন কেউ রাসুল (সা.) এর মতো করে নামাজ পড়ে। ভালো মউত তাদেরই হবে, যারা আল্লাহর হুকুম ও রাসুল (সা.)-এর হুকুমমতো চলে।

এই বয়ানের পরই তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে মোনাজাতে অংশ নিতে শনিবার রাতেই কয়েক লাখ মানুষ ইজতেমার মাঠ, আশপাশের বাসাবাড়ি, ভবন, ভবনের ছাদ ও করিডরে অবস্থান নেন।

রোববার ভোর থেকে যানবাহনশূন্য সড়ক-মহাসড়ক ও নদীপথে টুপি-পাঞ্জাবি পরা মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার শুরু হয়। চারদিকে যত দূর চোখ যায় মানুষ আর মানুষ। সকাল ৮টার মধ্যে গোটা এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। তুরাগ নদের পূর্ব পাড়ের ইজতেমা কেবল তুরাগপাড় কিংবা টঙ্গীতে সীমাবদ্ধ নেই। উত্তরে চেরাগ আলী, দক্ষিণে খিলক্ষেত, পূর্বে টঙ্গী রেলস্টেশন, পশ্চিমে এরশাদনগর ও দক্ষিণে তা ছাড়িয়ে যায় কামারপাড়া পর্যন্ত। সাভার বাইপাইল, জয়দেবপুরের চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে দাঁড়িয়েও দেখা যায় লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান অবস্থান নিয়েছেন মোনাজাতে অংশ নিতে। এদিকে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে আগের তুলনায় নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সি নারীকে মাইলের পর মাইল হেঁটে টঙ্গী পৌঁছে এতে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।

এদিকে আখেরি মোনাজাত প্রচারের জন্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আবদুল্লাহপুর ও বিমানবন্দর রোড পর্যন্ত এবং গাজীপুর জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ইজতেমা ময়দান থেকে চেরাগ আলী, টঙ্গী রেলস্টেশন, স্টেশন রোড ও আশপাশের অলিগলিতে পর্যাপ্ত মাইক সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।