গোপালগঞ্জ সারাদেশ

টুঙ্গিপাড়ায় প্রথম বারের মতো রাউজানবাসীর ঐতিহ্যবাহী মেজবান

Mezban-Photo-1-(-10.1.15)গৌরাঙ্গ লাল দাস, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শনিবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, খতমে কোরআন, দোয়া মাহফিল ও ৫০ হাজার মানুষের জন্য প্রথম বারের মতো মেজবানের আয়োজন করে চট্টগ্রামের রাউজানবাসী।
সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর ওবায়দুল কাদের এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি চট্টগ্রাম ৬ আসনের এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী রাউজানবাসীকে নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
রাউজান বাসীর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর শাহাদতের ৩৯ বছর হিসেবে ৩৯ বার কোরআন খতম দেওয়া হয় টুঙ্গিপাড়ায়।
সকাল ১১ টায় সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের টুঙ্গিপাড়া সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে রাউজানবাসী আয়োজিত চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিশাল মেজবানের উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ প্রশাসসেনর পদস্থ কর্মকর্তা, আওয়ামীলীগও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে প্রথম বারের মতো টুঙ্গিপাড়া শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠ ও বালাডাঙ্গা এসএম মুছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল ১১টার দিকে খাবার পরিবেশন শুরু হয়। চলে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত। কলেজ মাঠের আয়োজনে ছিল চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি গরুর মাংস, সাদা ভাত, চনার ডাল দিয়ে লাউ আর নলির ঝোল। বালাডাঙ্গা এস.এম মুসা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হিন্দুদের জন্য আয়োজন হয় মুরগির কোর্মা, ডিম, চনার ডাল ও সাদা ভাত দিয়ে।
আগতদের আপায়্যান করেন এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির নেতৃত্বে রাউজান উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধূরী বেবী, উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধূরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফৌজিয়া খানম মিনা, আওয়ামীলীগ নেতা শ্যামল কুমার পালিত, সাংবাদিক সন্দীপ নাথ,এস.এম লোকমান হাকিম, এমপির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ নিছারুল বশার নিপনসহ একটি দল।
মেজবান আয়োজন সম্পর্কে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা  মোঃ নিছারুল বশার জানান, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে প্রথমারের মতো রাউজান বাসীর উদ্যোগে মেজবান আয়োজন করা হয়।
তিনি আরো জানান,কলেজ মাঠে প্রায় ৪৩ হাজার এবং স্কুল মাঠে ৭ হাজারের কিছু বেশি লোক মেজবানে অংশ নেবেন। খাবারের আয়োজন সম্পর্কে তিনি আরো জানান মোট ১৫০ মণ ওজনের ৩৫টি গরু,  দেড় হাজার মুরগি, ১০ হাজার ডিম রান্না করা হয়। গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মেজবানে অংশ নেন।
মেজবান আয়োজনের জন্য গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের রাউজান থেকে দলীয় নেতাদের নেতৃত্বে বাবুর্চিসহ  একটি দল টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছায়।  স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সারাদেশ থেকে মানুষ জাতির জনকের কবর জিয়ারত করতে আসেন। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্যই এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে এখানে মেজবানের আয়োজন হয়েছে।