জাতীয় প্রধান খবর

আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক 46318: সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশে-বিদেশে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। আমেরিকা-ব্রিটেনসহ আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ’র টেলিফোনে চাপের মুখে সরকার।
ভারতের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। তাতে আওয়ামী লীগকে নমনীয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পত্রিকাটি, যা বিশেষ ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে পত্রিকাটি বলছে, গণতন্ত্রের স্বার্থেই নমনীয় হওয়া দরকার। আর শাসক পক্ষের দিক হইতেই নমনীয়তা অধিক জরুরি। তা না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা আছে। যার পরিণাম কেবল দেশের উদীয়মান অর্থনীতির জন্যই নয়, দেশের শাসক দলের জন্যই শেষ বিচারে বিপজ্জনক।
নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড এডামস আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছেন,বাংলাদেশ সরকারের শক্তির অপপ্রয়োগ, বিরোধী দল দমনে গ্রেফতার, গণমাধ্যমের ওপর অবৈধ নিয়ন্ত্রণারোপ ও সেন্সরশিপ, জনগণের মতকে দমনের বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে, বিশ্বসমাজের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সরকার কান দেবে- এমনটা মনে করেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান।  তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙখলা বাহিনীগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। সরকার দেশে বেশ কিছু বড় বড় অর্থনৈতিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাদের পাশে আছেন বলে  তারা মনে করছে। এ অবস্থায় আমেরিকা-ব্রিটেনের উদ্বেগ খুব একটা কাজে দেবে না। বিপরীতে আরও শক্ত ভূমিকাতে সরকারকে দেখা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে, প্যারিসভিত্তিক অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ‘ফিচ রেটিং’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থায় শুক্রবার সকালে (ঢাকার স্থানীয় সময়) উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কঠোর নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মিডিয়ার প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় সরকারের প্রতিও নিন্দা জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনেটর ইডি রয়েসসহ ছয় সিনেট সদস্য ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। বাকিরা হলেন-সিনেটর ইলিয়ট এল এঙ্গেল, স্টিভ সেভট, জসেফ ক্রাউলি, জর্জ হল্ডিং ও গ্রস মেঙ।