প্রযুক্তি

পৃথিবীর সবচেয়ে হালকা লাইট

1420296692তথ্য প্রযুক্তি ডেক্স: পৃথিবীর বিস্ময়কর আবিষ্কারগুলোর এক বিদ্যুৎ। বিদ্যুতের ব্যবহারের মাধ্যমেতো আজ পুরো পৃথিবী আলোকিত। বাতি জ্বালানো থেকে শুরু করে পাখা, ফ্রিজ, টিভিসহ নানা প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। মূলত সভ্যতার আলো আসলে মানুষের কাছে আলো হয়ে আসতো না যদি না বিদ্যুতের আবিষ্কার। এখান থেকে অনেক বছর আগের কথা। ১৮০০ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী হ্যামফ্রে ডেভি বৈদ্যুতিক বাতি তৈরি করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ব্রিটেনের রাস্তায় প্রথম সেই বাতি জ্বালানো হয়েছিল। তবে খুব বেশিদিন অবশ্য লাগেনি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে যেতে সেই বৈদ্যুতিক বাতি। ১৮৬০ সালের দিকে অপর এক ব্রিটিশ মনস্তত্ববিদ জোসেফ উইলসন সোয়ান দীর্ঘস্থায়ী হয় এমন বৈদ্যুতিক বাতি তৈরি করেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এ ধারণা থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে মানুষ নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন বাতির তৈরি করেছেন। এইতো কয়েক বছর আগের কথা নয়। ১৯৯৫ সালে উত্তর আমেরিকার একটি কোম্পানি প্রথম এনার্জি সেভিং বাতি আবিস্কার করে। এরপর এই বাতির ব্যাপক উন্নয়ন করে চীন। বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই এই বাতি সমান জনপ্রিয়।
একদিকে কম বিদ্যুৎ খরচ ও উত্তাপহীন অধিক আলো উৎপাদনের জন্যও মানুষ এই বাতির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। কিন্তু, ২০১২ সালের শুরুর দিকে বেশ কয়েকজন জার্মান বিজ্ঞানী প্রশ্ন তুলেছিলেন বৈদ্যুতিক বাতির ভবিষ্যত প্রজন্ম নিয়ে। তখন অবশ্য ভবিষ্যতের বাতি নিয়ে অনেকেই অনেক ধারণা প্রকাশ করেছিলেন বিভিন্ন সায়েন্স জার্নালে। তবে সেই ধারণাগুলোর একটিও আলোর মুখ দেখতে পায়নি। ইউরোপের রোহিনি নামের একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি বাতির জগতে যুগান্তকারী এক মাইলফলক স্থাপন করেছে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তারা পৃথিবীর সবচেয়ে পাতলা লাইট আবিস্কার করেছে। যা মূলত দেখতে এক টুকরো কাগজ ছাড়া আর কিছু নয়। রোহিনি এর আগে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার আবিস্কার করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিল। কিন্তু এবার তারা কাগজ বাতির উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর আলোর উৎসের ধারনাই পাল্টে দিতে যাচ্ছে। ওই প্রতিষ্ঠানটির সিইও নিক স্মুট একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এবিষয়ে জানান, ‘বর্তমানে বাতি বলতেই লীড এবং সার্কিট বোর্ড বুঝে থাকি আমরা। কিন্তু আমরা যা আবিস্কার করেছি তার শুধু আধুনিকই নয় অত্যাধুনিক। আপনি আপনার প্রয়োজন মাফিক প্রিন্ট করে আলোর কাগজ সংগ্রহ করতে পারবেন সহজেই। বাতির কাগজটি নিজেই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। আমরা সবসময়ই আলো তৈরির যে গোপনীয়তা, তা ভাঙতে চেষ্টা করেছি। আর তা করতে গিয়েই আমাদের আজকের আবিস্কার।’
পৃথিবীর এই হালকা লাইটটি এমন যে আপনি যে শুধু প্রিন্ট করেই বাতি নিতে পারবেন তা নয়। পাশাপাশি আপনি কাগজের এই বাতিটিকে দুমরে মুচরে পকেটে কিংবা ভাজ করে রাখতেও পারবেন। তাতে একটুও উজ্জ্বল্যতা নষ্ট হবে না। যেসব স্থানে আমরা বাতি ব্যবহার করি সেখানে স্রেফ আলোর তারতম্য বুঝে এক টুকরো কাগজ রেখে দিলেই হবে। আপনিই জ্বলে উঠবে বাতি। ভাবছেন তাহলে এই কাগজ বাতি সারাক্ষনই জ্বলতে থাকবে, এবং মানুষের হাতে নিভানো কিংবা জ্বলানোর নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। এক্ষেত্রে রোহিনি জবাব, বাতির এই কাগজটির গায়ে নেগেটিভ-পজেটিভ তার ছোয়ালেই বাতি জ্বলে উঠবে। এমনকি কাগজে সেন্সর থাকার কারণে আপনি যদি অন্ধকার হয়ে যাওয়ার পরেও বাতি জ্বালাতে ভুলে যান, তবুও আপনিই জ্বলে উঠবে বাতি। আর আপনি যদি ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘর চান তাহলে ওই তারদ্বয় খুলে রাখলেই কেল্লা ফতে।