প্রধান খবর রাজনীতি

সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিলেন খালেদা জিয়া

80093_36652নিজস্ব প্রতিবেদক : কর্মসূচি পালনে বাধা, দলীয় নেতাকর্মীদের উপর পুলিশ-আওয়ামী লীগের হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

সোমবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে অবরুদ্ধ নিজ কার্যালয়ে পুলিশি বাধার মুখে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

খালেদা জিয়া বলেন, পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত সারাদেশে অবরোধ চলবে। পরবর্তীতে পরিবেশ স্বাভাবিক হলে সমাবেশ করা হবে।

তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি দেশের মানুষ তাদের ভোট দেয়নি। তারা (আওয়ামী লীগ) অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক সরকার। আজকে শুধু আমি নিজেই নই, গোটা দেশ আজ অবরুদ্ধ। দেশটা কারাগারে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না।

নেতাকর্মীদের উপর হামলা নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আমাকে কি কারণে বন্দি করা হলো। বলা হচ্ছে, আমাকে বন্দি হয়নি। তাহলে কেনো আমাকে দলীয় কার্যালয়ে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এখানে পিপারস্প্রে মারা হলো কেন?

‘গোটা দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে’ মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগের গুন্ডারা পুলিশের সহায়তায় আমাদের নেতাকর্মীদের উপর আক্রমন করছে। আজকে পুলিশের মধ্যে বিশেষ জেলার ও ছাত্রলীগের এজেন্ট ঢুকে গেছে। তাদেরকে বলছি, বেশি বাড়াবাড়ি ভালো হবে না। এই বাড়াবাড়ির জন্য একদিন আপনাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

পুলিশের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আপনারা এ দেশেরই নাগরিক। কি করে আপনারা মা-ভাই- বোনদের উপর গুলি চালান প্রশ্ন রাখেন খালেদা জিয়া।

সরকারকে আবারো আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা বরাবরই আলোচনায় বসার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছি। দেশের জনগণ শান্তি চায়, তারা পরিবর্তন চায়। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন। সরকার গুলি করে হামলা-মামলা চালিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, কিন্তু তাদের মনে রাখা উচিৎ জনগণের উপর অত্যাচার চালিয়ে কোনো সরকারই বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি।

তিনি বলেন, এদের (সরকারের) পায়ের নিচে মাটি নেই। সরকার দুর্বল ও ভীত। তারা আমার কর্মসূচি দেখলেই ভীত হয়ে পড়ে। তারা এতোটাই ভীতু জনগণের রক্ত দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তাই নির্বাচন দিতে তাদের এত ভয়। সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য সারাদেশকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। কোথাও গাড়ি-ঘোড়া চলছে না। এভাবে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না।

এ সময় নিজের “নিরাপত্তা” নিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, নিরাপত্তার নামে আমাকে কেন অবরুদ্ধ করে দেয়া হবে? মিডিয়ার মাধ্যমে সরকার ও জাতির কাছে প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, আমার কি অপরাধ? আমাকে কেন বন্দি করে রাখা হয়েছে? খালেদা জিয়া বলেন, জনগণে আমার কোনো সমস্যা নেই। বরং আপনারাই আমার ক্ষতি করতে চান।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশে গণতন্ত্র নির্বাসিত। অবৈধ সরকারের কারণে দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন। আমাকে কার্যালয় থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। আজকে শুধু আমি একা অবরুদ্ধ নই, দেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা দিলে পুলিশ নয়াপল্টনে নিয়ে যেতে পারত আমাকে।

এ সময় তিনি আজকের কর্মসূচি সফল করার জন্য দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

এর আগে সোমবার বিকাল চারটার দিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসে’র কর্মসূচিতে অংশ নিতে বের হওয়ার চেষ্টা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু আগে থেকেই কয়েক স্তরের পুলিশি ব্যারিকেড ও কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগানো থাকায় তিনি বের হতে পারেননি।

বেগম খালেদা জিয়া বের হওয়ার জন্য নিচে নেমে গাড়িতে বসেন। এ সময় তার উপদেষ্টা সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম ও বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস গেটের তালা খুলে দেয়ার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানান। তাদের অনুরোধের সাড়া না দেয়ায় উপস্থিত মহিলা দলের নেতৃরা গেট খোলার জন্য সজরে ধাক্কা দিতে থাকেন। এ সময় পুলিশ অতর্কিত পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে। এতে আহত হন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কর্তব্যরত সংবাদকর্মীরা। বেগম খালেদা জিয়াও ঝাঁঝালো তেজষক্রিয়ার মুখে বক্তব্য রাখেন।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কার্যালয়ের প্রধান ফটকসহ সব গেটে তালা লাগিয়ে দেয় পুলিশ। সকাল থেকে  বিএনপির গুলশান কার্যালয় ও আশপাশ এলাকা ঘিরে রেখেছে শত শত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা।

শনিবার রাত থেকে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন খালেদা জিয়া। বিপুলসংখ্যক আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তার কার্যালয় ঘিরে রেখেছেন। সেখানে কাউকে প্রবেশ বা বের হতে দিচ্ছে না।

এদিকে রবিবার রাত ১২টার দিকে বালু, ইট ও পাথরবোঝাই প্রায় ১২টি ট্রাক কার্যালয়ের সামনে এনে জড়ো করা হয়।