রংপুর

কমিটি গঠনের সাতমাসেও রংপুরে বিএনপি’র দ্বন্দ্ব নিরসন হয়নি

Rongpurইকবাল হোসেন, রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর বিএনপি’র জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের সাতমাসেও দ্বন্দ্ব নিরসন হয়নি। কমিটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত আরো বেড়েছে। এতে করে সরকার বিরোধি আন্দোলন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৫ বছর পর গত ৬ জুন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকে কাংখিত পদবঞ্চিতরা আন্দোলনে নামে। তারা ওই কমিটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ সমাবেশসহ বেশকিছু কর্মসূচি পালন করে। নতুন কমিটি যেখানে সভা সমাবেশের ডাক দেয় তা প্রতিহতের ঘোষণা দেয় পদবঞ্চিতরা। এতে করে নিজেদের মধ্যে অন্তত ২০ বার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণার পর থেকেই কাঙ্খিত পদবঞ্চিতরা কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামে। তারা নতুন কমিটির কর্মসুচি প্রতিহতের ঘোষণা দেয়। এনিয়ে নিচেদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে করে পিছিয়ে পড়ছে দলটি। এভাবে চলতে থাকলে জানুয়ারিতে বিএনপিনেত্রী সরকার পতনের যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তা সফল হবে না রংপুরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপিনেতাকর্মীরা জানান, এমনিতেই রংপুরে বিএনপির অবস্থা ভাল নয়। কোন্দলের কারণে এরআগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরে একটি আসনও পায়নি তারা। নতুন জেলা ও মহানগর কমিটি হঠন করার পর থেকেই কোন্দল আরো বেড়ে গেছে নিজেদের মধ্যে। নতুন জেলা ও মহানগর কমিটি ৮ উপজেলায় আলাদা আলাদাভাবে কর্মসুচি দিলেও পদবঞ্চিতদের দ্বারা বাধার সন্মুখিন হয়েছে। মঞ্চ ভাংচুর, ককটেল বিস্ফোরণ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় এক পক্ষ বলছে অযোগ্য ও অগণতান্ত্রিক ভাবে কমিটি গঠন করায় এমন পরিস্থিতির সৃাষ্ট হয়েছে। আরেক পক্ষ বলছে দলের দুর্দিনে যারা মাঠে ছিল না তারাই বিশৃংখলা সৃষ্টি করে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে। এনিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কোন মাথা ব্যাথা নেই।
কমিটির গঠনের পর নতুন কমিটির উদ্যোগে মিঠাপুকুর উপজেলা আলোচনা সভায় আযোজন করা হয়। এতে করে কাঙ্খিত পদবঞ্চিতরা বেশ কয়টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মঞ্চ ও চেয়ার টেবিল ভাংচুর চালায়। এনিয়ে শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এতে আন্তত ১০ জন আহত হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
এরই অবস্থা হয়েছিল তারাগঞ্জ উপজেলা, পীরগঞ্জ উপজেলা, রংপুর সদর উপজেলাসহ অন্যান্যস্থানে। এসবস্থানে পদবঞ্চিতদের হামলার শিকার হন নেতাকর্মীরা। তাদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এছাড়া দলীয় কেন্দ্রীয় কর্মসুচিও পালন করা হয় আলাদা আলাদাভাবে।
কাংখিত পদবঞ্চিতরা কমিটি ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলন করে অবিলম্বে কমিটি বাতিল ও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুকে রংপুরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।
বিএনপি সমর্থক হাকিম মিয়া ও মোবারক হোসেন বলেন, এভাবে চলতে থাকলে রংপুরে বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যাবে, অস্তিত্বই থাকবে না। তাই দ্রুত এসব বিষয় সমাধান জরুরি। তারা আরো বলেন, এভাবে থাকলে জানুয়ারিতে নেত্রীর ডাকা সরকার বিরোধি আন্দোলন রংপুরে সফল হবে না।
রাজনৈতিক বিশে¬ষক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, এমনিতে রংপুরে বিএনপির অবস্থান ভাল নয়। এরপরও যদি নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত লেগেই থাকে তাহলে দলটি আরো পিছিয়ে পড়বে।
এব্যাপারে কাংখিত পদবঞ্চিত নেতা শহিদুল ইসলাম মিজু জানান, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অযোগ্য লোকদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে করে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে নেতা কর্মীরা। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরাই নতুন কমিটি যেখানে অনুষ্ঠান করছে সেখানেই তাদের প্রতিহত করছে। এতে করে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং দল পিছিয়ে পড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু তার মনগড়া এ দুটি কমিটি করেছেন। জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি বাতিল করে সকলের মতামতের ভিত্তিতে পুনরায় কমিটি করা না হলে এধরনের বিশৃংখলা চলবে বলে তিনি জানান।
নব গঠিত মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন জানান, রংপুর জেলা ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কিছু নেতার নির্দেশ ও ইন্ধনে এসব ঘটনা ঘটছে। ওইসব নেতারাই দলের মধ্যে বিশংৃখলা সৃষ্টি করে দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করছে দলকে পিছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সামু আরো বলেন,  যারা এখন এসব করছে তারা কখনই দলের আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলো না। তিনি এসব ভুলে দলের পতাকাতলে এসে এক সাথে কাজ করার জন্য আন্দোলনকারিদের প্রতি আহবান জানান।