প্রযুক্তি

এক যুগেও তৈরী হয়নি ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস নীতিমালা

imagesনিজস্ব প্রতিবেদক : নির্দিষ্ট শর্ট কোডের মাধ্যমে ব্রেকিং নিউজ, ভর্তি তথ্যসহ বিভিন্ন ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন কনটেন্ট প্রোভাইডার কোম্পানি। কিন্তু, দীর্ঘ এক যুগেও ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস নীতিমালা তৈরি না হওয়ায় মোবাইল ফোন অপারেটররা নিজস্ব নিয়মে এই সার্ভিসের লাভের হার নির্ধারণ করছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের উদীয়মান এ শিল্প, একই সাথে মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

অবশ্য, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি বলছে, এ ধরণের সম্ভাবনা থাকলে প্রয়োজনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

একটা সময় ভয়েস কল ও এসএমএস’ই ছিলো মোবাইল ফোনের মূল সেবা, বর্তমানে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মোবাইলে বিভিন্ন কনটেন্ট দেয়া। এর মধ্যে রয়েছে, সংবাদ, ভর্তি তথ্য, কৃষি তথ্য, রিংটোন এবং ওয়ালপেপারের মতো সেবা। মূলত, নির্দিষ্ট এসএমএসের চার্জের বিনিময়ে দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরদের মাধ্যমে এসব কনটেন্ট গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করছে কনটেন্ট প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠান। এই মুহূর্তে দেশে প্রায় ৫০ টি এ ধরণের প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তিন হাজারেরও বেশি তরুণ প্রোগ্রামার। কনটেন্ট প্রোভাইডার কোম্পানিগুলোর অভিযোগ, রাজস্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন অপারেটররা একচেটিয়া কর্তৃত্ব করার পাশাপাশি তাদেরকে বঞ্চিত করে যাচ্ছে।

উইনটেল লিমিটেড-এর এমডি মো.মাহবুব আলম বলেন, ‘এক এক অপারেটর তাদের নিজস্ব পলিসি মোতাবেক রেভিনিউ শেয়ারিংটা ঠিক করছেন। আমরা যারা কনটেন্ট প্রভাইড করি আমাদের যে কাউন্ট সেটা আমরা তাদের সাথে শেয়ার করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপারেটরদের যেটা প্রভাইড করে সেটাকে আমাদের মেনে নিতে হয়েছে সেই বিক্রিটা যদি কোন অংশে বা কোন ভাবে কমে যায় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার রাজস্ব ক্ষেত্রে, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমাদের অংশের ক্ষেত্রে। সরকারেরও একটা দায়িত্ব থাকা উচিত যে এই রেভিনিউটা একজন সাধারণ মানুষ যেটা পে করল সেটা শেষ পর্যন্ত আসল কিনা তা দেখা।

এ ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি বলছে শিগগিরই এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন তারা।

বিটিআরসি’র সচিব মো.সরওয়ার আলম বলেন, ‘বিটিআরসি স্টেক হোল্ডার হচ্ছে টেলিকম অপারেটর আর অন্যদিকে হচ্ছে গ্রাহক। আমরা এজন্য গ্রাহক স্বার্থের সাথে যদি কিছু হয়, তাই আমরা কনজুমার প্রটেকশন একটা গাইড লাইন করছি আবার সেখানে আমরা দেখব যে এখানে গ্রাহক স্বার্থ যেনো ক্ষুণ্ণ না হয়।’

পাশাপাশি, সরকারের রাজস্ব হারানোর কোন আশঙ্কা থাকলে প্রয়োজনে সেটি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানালেন বিটিআরসি’র এই কর্মকর্তা।