রংপুর শিক্ষাঙ্গন

বছরের প্রথমদিনেও ক্লাস হয়নি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে

BRUইকবাল হোসেন, রংপুর প্রতিনিধি : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের একাংশের আন্দোলনের কারণে বছরের প্রথমদিনেও ক্লাস করতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। কর্মকর্তা-কর্মচারিরা সকালে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে করে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে প্রবেশ করতে পারেনি। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ০২ নভেম্বর থেকে উপাচার্য বিরোধি বিক্ষোভ সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনও বন্ধ করে দিয়েছে। এরই মধ্যে তারা উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নুর-উন-নবীর অপসারন দাবি করে একদফা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। শীতকালিন ছুটি শেষে ২৯ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও শিক্ষক সমিতির আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তারা প্রশাসনিক ভবনে তালাবদ্ধ করে ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসুচি পালন করে। সেখানে তারা ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
এদিকে, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের একাংশ তাদের বিভিন্ন দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি একাডেমিক ভবনের মুল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে করে ওই ভবনে প্রবেশ করতে পারেনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। তাই সেখানে কোন ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী লুবনা আকতার ও বেলাল হোসেন জানান, শিক্ষক আর কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আন্দোলনের ফলে আমরা বছরের প্রথম দিনেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে ক্লাস করতে পারলাম না। এরচেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে ? তারা জানান, শিক্ষক আর কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আন্দোলনের ফলে আমরা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছি। এটা থেকে আমরা মুক্তি চাই।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মমতাজ বেগম বলেন, বড় আশা নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। যাতে করে সেশনজটের কবলে পড়তে না হয়। ঠিক সময়ে লেখাপড়া করে চাকুরি জীবনে যেতে পারি। কিন্তু সে আশা আর হবে না। সংঘর্ষ আর সহিংসতা, শিক্ষক আন্দোলনে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এতে করে আমাদের শিক্ষা জীবনের মুল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। আমরা দেড় থেকে দুবছর পিছিয়ে পড়ছি।
শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক ড. পরিমল চন্দ্র বর্মন বলেন, আমাদের এক দাবি উপাচার্য  প্রত্যাহারের। তিনি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে এবং আমরা তার কোন কার্যক্রম মানব না। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন চললেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা হচ্ছে ঠিকই। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ রয়েছে।
নীল দলের সভাপতি আপেল মাহমুদ বলেন, বছরের প্রথম দিন আন্দোলন ঠিক হয়নি। আন্দোলনের নামে যারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে চায় তাদের সাধারন শিক্ষার্থীরাই প্রতিহত করবে।
আমরা অবিলম্বে হল চালু এবং ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবি জানাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি। সেই সাথে শিক্ষকদের একাংশের আন্দোলন বন্ধের দাবি জানাই। এসব দাবিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।  তাই দ্রুত এর সমাধান দাবি করেন তিনি।
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নুর-উন-নবী অসুস্থ থাকায় তিনি ঢাকায় রয়েছেন। তার অবর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. তাজুল ইসলাম জানান, আন্দোলনের ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা সমুহে কিছুটা ব্যাঘাততো হচ্ছেই। তিনি একাডেমিক ভবনে কয়েক ঘন্টা তালাবদ্ধ থাকার কথাও স্বীকার করেন। তবে এসব সমস্যা সমাধান জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো জানান বছরের প্রথম দিন আন্দোলন করা ঠিক হয়নি।