ঢাকা রাজনীতি

আলাল তিন দিনের রিমান্ডে

 আদালত প্রতিবেদক: রাজধানীর চকবাজার থানার নাশকতার মামলা যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আলী মাসুদ সেখ এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন আলালকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। এসময় আসামির আইজীবী সানাউল্লহ মিয়া রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর বকশিবাজারের অস্থায়ী বিশেষ আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের ফজলে রাব্বী হলের কাছে জড়ো হন এবং বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। এক পর্যায়ে তারা পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে আদালতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা হত্যার উদ্দেশ্যে দুই পুলিশ সদস্যের মাথায় আঘাত করলে তারা গুরুতর আহত হন। পওে পুলিশ এ সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর করেন। তাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেও নাম ঠিকানা ও মূল পরিকল্পনা জনার জন্য আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। এরআগে শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে আলালকে তার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গত বুধবার দুর্নীতি মামলার হাজিরা দিতে বকশিবাজার এলাকায় আলিয়া মাদরাসার মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার আগমানকে কেন্দ্র করে ওই দিন সকাল থেকেই ওই এলাকায় অবস্থান নেয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সগযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় ছাত্রলীগকর্মীরা সেখানে মিছিল নিয়ে এসে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। এতে মুহূর্তেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বকশিবাজার, চানখারপুলসহ টিএসসি এলাকায়। ওই ঘটনায় সংঘর্ষের ঘটনায় চকবাজার থানায় মামলা করে পুলিশ।
এদিকে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় করা দ্রুত বিচার আইনের একটি মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ ২৩ নেতাকর্মীর অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি ধার্য্য করেছেন আদালত।

আসামি পক্ষের অন্যতম আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগ গঠনের জন্য সময়ের আবেদন করা হলে আদালত শুনানি পিছিয়ে ২০ জানুয়ারি ধার্য্য করেন। মামলার অন্যতম আসামির হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ ২৩ জন রয়েছে।