কৃষি মৌলভীবাজার

শ্রীমঙ্গলের জুলেখানগর চা বাগানে নতুন প্লান্টেশনে বাঁধা

Julekha Tea Garden news====--

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী মহলের হামলা ও হুমকীর কারণে নিজের প্রাননাশ ও বাগান দখলের আতঙ্কে রয়েছেন জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার জুলেখানগর চা বাগানের পরিচালক, চা শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ইতোমধ্যে বাগানের নতুন রোপনকৃত প্রায় এক লক্ষ চারা গাছ পুড়িয়ে দেওয়া ও যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। এমনকি বাগানের তিন কর্মচারীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বাগান কর্তৃপক্ষ ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬০/৭০ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ও চা শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বক্তব্য রাখেন, জুলেখানগর চা বাগানের পরিচালক সৈয়দা গুলশান আরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গুলশান আরা জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলার জুলেখানগর চা বাগানটি তিনি ও তার স্বামীর পরিবার ৪০ বছরের অধিক সময় ধরে পরিচালনা করে আসছেন। সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে বাগানে কর্মরত চা শ্রমিক, পার্শ্ববর্তী জুলেখা ও ধনছড়া দুটি খাসিয়া পুঞ্জির মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই তারা চা শিল্পকে এগিয়ে নিতে এতোদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। বাগানের বন্দোবস্তুকৃত জমির সর্বপ্রকার কর সরকারকে বাগান কতৃপক্ষ প্রদান করলেও খাসিয়া পুঞ্জির অধিবাসীরা বিনা কর প্রদান করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন নির্বিঘেœ। এই বাগানে বন্দোবস্ত মূল জমির পরিমাণ ৯০০ একর। আর ৪২৮ একর জমি বন্দোবস্তের প্রক্রিয়া চলছে। সুদীর্ঘকাল ধরে সরকারের সকল প্রকার কর প্রদান করেই তারা বাগান পরিচালনা করে আসছেন। জুলেখানগর চা বাগানের পরিচালক সৈয়দ গুলশান আরা বলেন, প্রতি বছর চা বাগানের লীজ চুক্তি অনুযায়ী চা বাগানের মোট ভূমির আড়াই ভাগ নতুন করে প্লান্টেশন করার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী তারা প্লান্টেশন করতে গেলে তাদের উপর হামলা করা হয়। হামলাকারীরা প্রায় ১ লাখ চারা গাছ কেটে ফেলে, এবং আগুন ধরিয়ে দিয়ে দুইটি গাড়ি পুড়িয়ে ফেলেছে।
কিন্তু কিছুদিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের কুদৃষ্টি পড়েছে বাগানের উপর। এরই জের ধরে গত ১৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে যখন বাগানের ৭ ও ৮ নম্বর সেকশনে শ্রমিকরা কাজ করছিলো। এসময় পাশের টিলা থেকে প্রভাবশালী কাদির মিয়া, আব্দুল আহাদ, দমেশ কুন্দ, বিমল, ফাদার কিরণ, গোপাল গোয়ালাসহ মামলায় উল্লেখিত আসামী ছাড়াও শতাধিক সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, রাম দা, গুলতি, কপের দা, সুলফি, কুড়াল, কোদাল, তীর-ধনুক ইত্যাদি অস্ত্র নিয়ে নগ্ন হামলা চালায়। এসময় কয়েকজন বাগানের কর্মচারী সাদেক, দিলীপ তাঁতী, উজ্বল রায়সহ কয়েকজন শ্রমিক মারাত্মক আহত হয়। এসময় সন্ত্রাসীরা প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে বাগানের পরিচালক সৈয়দা গুলশান আরাকে খুঁজতে থাকে এবং তাকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিতে শ্রমিকদেরকে বলতে থাকে। এদিকে আহতদের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় প্রথমে তাদেরকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল হয়ে কয়েকজনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী সৈয়দ হাফিজুর রহমান বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকেও প্রাণে মারার হুমকী দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। এছাড়া সময়ে সময়ে বিনা ইস্যুতে স্বার্থান্বেষী মহল বাগানের শ্রমিক অসন্তোষের নামে বিভিন্ন পাঁয়তারা করে আসছে। তিনি উৎপাদনমূখী বৃহৎকর্মসংস্থানের এই শিল্প প্রতিষ্ঠানকে লাগাতার ষড়যন্ত্র, বাগান দখলসহ ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতে সাংবাদিক, প্রশাসন, রাজনীতিবিদসহ সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি আরও জানান, চা বাগানের উন্নয়নের পাশাপাশি সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চা শ্রমিক ও কর্মচারীদের কল্য্ণাসহ আশেপাশের বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর সকল শ্রেণি ও পেশা এবং শান্তিপ্রিয় খাসিয়া পুঞ্জির সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১০ ফেব্র“য়ারি শ্রীমঙ্গলের সবুজ টি কোম্পানীর একটি বাগান দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ২জন নিহতসহ অনেকেই হতাহত হয়েছেন।