অর্থ ও বাণিজ্য প্রযুক্তি

দেশে স্মার্টফোনের আমদানি বেড়েছে

হটনিউজ২৪বিডি.কম,ডেস্ক: চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দেশে স্মার্টফোনের আমদানি বেড়ে গেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্মার্টফোনের আমদানি বেড়েছে ২২০ শতাংশ।

সম্প্রতি ভারতভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাইবার মিডিয়া রিসার্চের (সিএমআর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। দেশে বাণিজ্যিকভাবে থ্রিজি প্রযুক্তির সেবা চালুর পর স্মার্টফোনের চাহিদা বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তৃতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশে স্মার্টফোন আমদানি হয়েছে ১৬ লাখ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ লাখ। সে হিসাবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এর আমদানি বেড়েছে ২২০ শতাংশ। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোন আমদানি হয় ৭ লাখ।

স্মার্টফোনের এ প্রবৃদ্ধি খুবই স্বাভাবিক বলে মনে করছে থ্রিজি সেবা চালু করা সেলফোন অপারেটররা।

প্রতিষ্ঠানগুলোর সূত্রে জানা গেছে, তারাও বান্ডল অফারের আওতায় গ্রাহকদের স্মার্টফোন দিচ্ছে। থ্রিজি সেবার সুবিধাগুলো পেতে হলে স্মার্টফোন প্রয়োজন। তবে দেশে সেলফোন সংযোগের তুলনায় স্মার্টফোন ব্যবহারের সংখ্যা এখনো অনেক কম।

সিএমআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্মার্টফোনের বিক্রি প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে এ খাতের সামগ্রিক আয়ও বাড়বে। ফিচার ফোনের তুলনায় স্মার্টফোনের দাম বেশি হওয়ার কারণে এ আয় বাড়বে।

পাশাপাশি মুনাফার হারও তুলনামূলক বেড়ে যাবে। আর বাজারের প্রসারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা আরো বাড়বে, যার ফলে পছন্দের হ্যান্ডসেট কেনার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পাবেন ক্রেতারা।

এদিকে স্মার্টফোনের আমদানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ঘটলেও ফিচার ফোনের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলক কম। তৃতীয় প্রান্তিকে ফিচার ফোন আমদানি হয়েছে ৬৪ লাখ, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ বেশি।

২০১৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ৬৩ লাখ ফিচার ফোন আমদানি করা হয়। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে ফিচার ফোনের আমদানি ১০৭ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফিচার ফোন আমদানি হয়েছে ৩১ লাখ।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোন ও ফিচার ফোন মিলিয়ে হ্যান্ডসেট আমদানি করা হয় ৭৯ লাখ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনা এটি ১৬ শতাংশ বেশি।

২০১৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে হ্যান্ডসেট আমদানি হয়েছে ৬৮ লাখ। আর চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে হ্যান্ডসেট আমদানি ১০৮ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩৮ লাখ হ্যান্ডসেট আমদানি করা হয়।

বাংলাদেশ মোবাইল হ্যান্ডসেট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বাজারে হ্যান্ডসেটের সরবরাহ নির্ভর করে। এদেশে ক্রেতারা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চ সুবিধাসম্পন্ন হ্যান্ডসেট কিনতে আগ্রহী।

বাজারে এ ধরনের হ্যান্ডসেটের সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকসেবার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন ক্রেতারা। এ কারণে বিক্রয়োত্তর সেবা রয়েছে এমন ব্র্যান্ডের তুলনামূলক স্বল্পমূল্যের হ্যান্ডসেটের বিক্রি বেড়েছে।

হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে এখনো শীর্ষে রয়েছে দেশীয় ব্র্যান্ড সিম্ফনি। তৃতীয় প্রান্তিক শেষে হ্যান্ডসেট বাজারের ৩৫.৮ শতাংশ নিয়ে এ অবস্থানে রয়েছে সিম্ফনি। এছাড়া নকিয়া ৬.২, ম্যাক্সিমাস ৬ ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের দখলে রয়েছে ৫২ শতাংশ।

স্মার্টফোনের বাজারেও শীর্ষ অবস্থানে থাকা সিম্ফনির দখলে রয়েছে বাজারের ৫২.৬ শতাংশ। দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন বাজারের ১১.৮ শতাংশ নিয়ে রয়েছে পরবর্তী অবস্থানে।

এছাড়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড স্যামসাং এ বাজারে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ১৪.১ শতাংশ নিয়ে। অন্য ব্র্যান্ডগুলোর দখলে রয়েছে ২১.৫ শতাংশ।