কৃষি ভোলা

সরকারী সহযোগীতা প্রদানের দাবী স্থানীয় পান চাষিদের

এম. শরীফ হোসাইন,হটনিউজ২৪বিডি.কম;ভোলা প্রতিনিধি: অনুক‚ল আবহাওয়া আর উৎকৃষ্ট মানের মাটি থাকায় ভোলায় উৎপাদিত পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন আর পোঁকার আক্রমনে দিন দিন আগ্রহ হারাতে বসেছে এখানকার পান চাষীরা। অন্যদিকে ভারতীয় পান বাংলাদেশে আমদানী হওয়ায় বাজার হারাতে বসেছে দেশে উৎপাদিত পান। নানা রকম ভেষজ গুণ সম্পন্ন পান বাংলাদেশের একটি অন্যতম অর্থকরী ফসল। বিভিন্ন ধরণের ধর্মীয় উৎসবসহ, বিয়ে-শাদীতে পানের চাহিদা আছে। আমাদের দেশে বরিশাল, ভোলা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, যশোর, জামালপুর, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে পানের চাষ হয়।
সূত্রে জানা যায়, প্রাচীনকাল থেকেই বরিশাল অঞ্চলে পানের চাষ হতো। বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত ভোলা জেলায় পানের আবাদ তুলনামূলক ভাবে বেশী। এখানকার পান সুস্বাদু হওয়ায় দেশ-বিদেশে এর বেশ চাহিদা রয়েছে অনেক। এখানে আবাদ হচ্ছে ভারতীয় বাংলা প্রজাতির গাছপান, ভবানী, বেনারসী, রাজনগর ইত্যাদি জাতের পান। এছাড়াও বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র রহমতপুর থেকে উচ্চফলনশীল, বিভিন্ন গুণাবলী সম্পন্ন এবং রোগ প্রতিরোধে সক্ষম বারিপান-১, বারিপান-২ এবং বারিপান-৩ নামে তিনটি পানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। সাধারণত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পান চাষ করেন একটু বেশি। পান চাষে তাদের সাফল্যে বর্তমানে মুসলমান চাষীরাও পান চাষে আগ্রহী হয়েছে। অনেকে আবার বাড়ির আঙ্গিনায় পান চাষ করছেন। কৃষি জমিতে ধান চাষের পাশা-পাশি পান চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন হাজার হাজার চাষী। গ্রামের ভাষায় পান গাছকে টাকার গাছ ও বলা হয়। সারা বছর এর চাষ করা যায় এবং অর্থ উপার্যন করা যায় বলে অনেকে এ লাভজনক পান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
বর্তমানে প্রতিটি পানের মূল্য ২/৩ টাকা থেকে ৫/১০ টাকা কোন কোন ক্ষেত্রে এর দাম ২০/৫০ টাকা পর্যন্ত, কিন্তু কৃষক একটি পান বিক্রি করে ২৫ পয়সারও কম দামে। এভাবে কৃষকরা কম দাম পেয়ে দিন দিন ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হচ্ছে। সাধারণত বরজ তৈরি করে পানের চাষ করতে হয়। সাড়িবদ্ধ ভাবে নির্দিষ্ট দূরত্বে পানের চাড়া রোপন করা হয়। উষ্ণ ও আর্দ আবহাওয়া পান চাষের জন্য উপযোগী। সূর্যের আলোতে পান ভালো হয়না তাই পাট খড়ি দিয়ে পানের মাচা তৈরা করে ছায়ার সৃষ্টি করতে হয়। উঁচু জমি যেখানে পানি দাঁড়ায় না এমন দো-আঁশ মাটি পান চাষের জন্য নির্বাচন করা হয়। আমাদের দেশে বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পানের চারা লাগানো যায়। চারা রোপণ করা হলে ৫-৬ মাস পর থেকেই পাতা তোলা শুরু হয়। একটি পাতা সম্পূর্ণভাবে পরিণত হতে ৬-৮ সপ্তাহ সময় লাগে। এরপর তা বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়। পান সংগ্রহের পর তা বাছাই করে স্থানীয় বাজারে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে চাষীরা। পাইকাররা দেশের পানের চাহিদা মিটিয়ে তা বিদেশেও রপ্তানি করছেন। উন্নত পদ্ধতিতে ভালো জাতের পান চাষ করে তা রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু ভারতীয় পান বাংলাদেশের বাজারে আসায় আমাদের দেশে উৎপাদিত পানের চাহিদা দিন দিন কমতে শুরু করেছে। তাই ভারতীয় পান বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধের দাবী জানিয়েছেন পান চাষীরা।
ভোলা সদর উপজেলার চর সামাইয়া ইউনিয়নের বড় চরসামাইয়া গ্রামের আব্দুল মালেক নামের এক পান চাষির সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, আগের মত এখন আর পান চাষ করে লাভবান হওয়া যায় না। কারণ পান চাষের জন্য যেসব উপকরণ প্রয়োজন তার দাব বেড়ে গেছে এবং বিভিন্ন সময়ে রোগ-বালাই লেগেই থাকে। সব সমস্যা পুষিয়ে তেমন লাভ হয় না।
তিনি আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদি পান চাষিদের সহযোগীতা করা এবং তাদের প্রতি সু-দৃষ্টি দেয়া হতো, তাহলে হয়ত তারা আগের মত আরো ভালোভাবে পান চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারতো। অন্যথায় তার মত অনেক পান চাষি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্রে আরো জানা যায়, বর্তমানে ভোলায় মোট ৫৩৬ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পান চাষ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে পান গাছের গোড়া পঁচা ও পাতার দাগ রোগ, পাতায় মাছি পোঁকার আক্রমণতো রয়েছেই এর ওপর পুষ্টি ঘাটতি, সেচ ব্যয়, ও কিটনাশক প্রয়োগের কারণে রপ্তানি সমস্যা পান চাষকে অবক্ষয়ের মধ্যে ফেলছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য উপযুক্ত সরকারি পদক্ষেপ না নিলে পান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে চাষীরা।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রমেন্দ্র নাথ বাড়ৈ জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পান চাষ করে চাষী যাতে বেশী লাভবান হতে পারেন সে জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তারা। অর্থকরী ও ভেষজ গুণ সম্পন্ন এ ফসলটি উৎপাদনে সরকারী সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলবে এটাই দাবী সংশ্লিষ্টদের।