শিক্ষাঙ্গন সাহিত্য

তসলিমা নাসরিনের হাত কেটে ফেলার গল্প!

5

হটনিউজ২৪বিডি.কম,ডেস্ক: তসলিমা নাসরিনের একটি হাত কেটে ফেলতে হয়েছে! তার ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস থেকে এ তথ্য জানা গেছে। রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য তসলিমা নাসরিনের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

‘আমেরিকার হাসপাতাল মানেই কি ভালো? একেবারেই নয়। আমার গল্পটা বলি শুনুন। আমার দাদাকে নিয়ে একদিন বড় এক হাসপাতালে গেলাম। দাদা ডাক্তার দেখাবেন। ডাক্তারের সঙ্গে দাদার অসুখ-বিসুখ নিয়ে কিছুক্ষণ কথা হওয়ার পর আমি আমার আঙুলের কথা পাড়লাম। আমার ডান হাতের তর্জনিতে সেদিন একটু ব্যথা হচ্ছিল। ব্যথাটা কম্পিউটারের কীবোর্ড অতিরিক্ত টেপার জন্য কিনা জানতে চাইলাম। ডাক্তার আঙুলের এক্সরে করতে, আর রক্ত পরীক্ষা করতে বললেন। দুটোই করলাম। এক্সরেতে কিছুই ধরা পড়ল না। কিন্তু রক্ত পরীক্ষায় নাকি খুব খারাপ কিছু ধরা পড়েছে।

আমার আঙুলে নাকি গ্যাংগ্রিন হতে যাচ্ছে। আজ হয় কাল হয় এমন নাকি অবস্থা। এরপর ডাক্তার যা বললেন, তা শুনে আমার শরীর অবশ হতে শুরু করল। আমার পুরো হাতটা, শুধু হাত নয়, বাহুটাও, কনুইএর ছয় ইঞ্চি ওপর থেকে নাকি কেটে ফেলতে হবে। তা না হলে গ্যাংগ্রিন নাকি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। ছড়িয়ে পড়লেই মরণ। কবে কেটে ফেলতে হবে? বললেন, কালই, আর এক দিনও দেরি করা যাবে না। আমার মাথা তখন আর কাজ করছিল না।

আমি ওই হাসপাতালেরই আরো কয়েকজন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বললাম। সবাই একই উপদেশ দিলেন। হাত কেটে ফেলার উপদেশ। হাতটা পরদিন কেটে ফেলা হলো। এখন থেকে বাঁ হাতেই সব কাজ করতে হবে। ডান হাতটা নেই। নিজেকে সান্ত্বনা দিই। না থাক ডান হাত, জীবনটা তো আছে। হাত বাঁচাতে গেলে জীবনটাই হয়তো হাত ফসকে বেরিয়ে যেত। কত লোক হাত-পা বিহীন বেঁচে থাকে। এ আর এমন কী! হাত কাটার পর ব্যাণ্ডেজ এখনও খোলা হয়নি। খবর এলো, যে রক্ত পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে বাহুটা কাটা হয়েছে, সেই পরীক্ষার রক্তটা আমার নয়, অন্যের রক্তকে ভুল করে আমার রক্ত বলে ভেবেছে ডাক্তাররা। এখন আমি কী করে আমার বাহুটা ফেরত পাবো! না, ডাক্তার বলে দিয়েছেন, ফেরত পাওয়ার কোনো উপায় নেই। ঘটনাটা ঘটেছে। তবে ঠিক এরকম না হলেও কাছাকাছি।