সাহিত্য

গল্প: আবু লাহাবের স্ত্রী

(আবু লাহাবের স্ত্রী উম্ম জামিল অনেক সম্পদের মালিক ছিল। সে আল্লাহ’র রাসুলের পথে খেজুরের কাঁটা বিছিয়ে রাখত)

শীতের বাতাস। গাছের পাতায় পতপতানি আওয়াজ। কুক ঝা… কুক…. ঝা থেমে থেমে বাতাস বইছে। গাছে একটা পাখি ডানা ঝাপটায়। আর একটা পাখি এক গাছ থেকে আর এক গাছে উড়ে বসে। কুক ঝা… কুক…. ঝা।  কারা এক এক করে গাছের তলা দিয়ে আসছে সেদিকে কারো খেয়াল নেই। সব চোখ আজকে নিচের দিকে। সামনে কাউন্সিলের স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামের উত্তর দিকে লোকজনের বসার বিশাল জায়গা। ফুটবল খেলা হলে লোকজনে ভরে যায়। প্রায় খালি গায়ে মাঠের মধ্য দিয়ে চলি। তবু ঠাণ্ডা লাগে না। গরমও লাগে না। কী হয়েছে? কী আছে চারদিকে? কে ঢেকে দিচ্ছে আরামের চাদরে! এ এক বিস্ময়! সেই ভাবনায় দুই চোখ ভরা যমুনা আর মেঘনার পানি! কিন্তু খালি চোখে দেখা যাবে না। কিছুক্ষণ থেমে থেমে বাতাসে ব্লু গাম আর পাইন পাতার খেলা। পাতা উড়ে উড়ে মেঘের সাথে ধাক্কা লাগে।

আজ বৈশাখ মাসের এক তারিখ। আজ রঙ বেরঙের চাঁদ, সূর্য, ফুল, ফল, পাখির ডাক। মন কী আনন্দে নাচে! লম্বা মাঠে কোকিল আর কাকাতোয়ার মেলা। যেদিকেই চোখ যায় লোক আর লোক। এত মানুষ কোথা থেকে আসে। বেশ কায়দা করে দোকানপাট ঝাঁপি খুলে বসেছে। দোকানে কতকিছু বিক্রি করছে মানুষ। শাড়ি বাড়ি জামা কাপড় খেলনা পুতুল জিলাপি ফুসকা হালিম বই খাতা টেলিফোন টেলিভিশন ব্যাংক, ব্যাংকলোন কতকিছু। থেমে থেমে মাঠের এক কর্নার থেকে গান আসে। এক সাথে অনেকগুলো গান। ছন্দের তালে তালে ঢোলক বাজে তার সাথে সাথে পা নড়ে কাপড় ওড়ে। তার ফাঁকে শাড়ি আর গহনার আড়ালে কে এই মৃদু মধু সোনার খনি চুরি করে যায়। ধোঁয়া উড়ছে যুবক ছেলেমেয়েরা সিগারেট টানছে। ব্রো.. ব্রো.. কাম নিয়ার… হ্যাভ এ পাফ ব্রো। পথের পাশে বোতল ভাঙ্গার  কড়মড় শব্দ।  ভোঁ ভোঁ গাড়ি ছুটছে। গাড়ির ভেতর আমার মুখ তোমার মুখ। মাঝখানে একটা বড় আয়না। সেখানে সবার মুখ। ঝাপসা। কাউকে ভালো করে চেনা যায় না। চোখ দেখা যায় তো আবার মুখ দেখা যায় না। একবার বড় হয় আর একবার ছোট হয়। তার সাথে সাথে এর ভাই মরে তো ওর ভাই বাঁচে। ইউরোপ যায় আমেরিকা যায়, মক্কা যায় মদিনা যায়। কারো বাড়ি এক তলা কারো বাড়ি দোতলা। কারো বাগানে গোলাপে ভরপুর, কারো বাগানে সুতানালি সাপ! কারো ছেলেমেয়ে উপরে ওঠে, কারো নিচে। কেউ বিচ-বালিতে গড়াগাড়ি খায়, কেউ হাসপাতালের বেডে শুয়ে হলুদ রঙের আলো গুনে। আয়না বলে- তাকিয়ে থেকো না। আমি যে তোমাদের মুখের দাগ আর বুকের হাড় দেখতে পাই!

সব কিছু ঝিম করে আসলে আস্তে আস্তে সোনার গেট খুলে যায়। নাফিজা, সারমিন, আদিবা, নীলু তাদের বান্ধবী বিজরি, খেয়া, পুতুল তার বোন ঝুমুর তার ভাবি মুক্তি এরকম আরো আরো স্বর্ণ আরো রুপা আরো ওরে বাবা ওরে আপা ওরে আমার সোনা বন্ধু সবাই এক সাথে ঢুকে। সঙ্গে তাদের গাড়ি গাড়ির গন্ধ তাদের বাড়ির চাঁদ তাদের শাড়ির দাগ তাদের বিছানার আদর তাদের বিচ-বালি তাদের খিলখিল হাসি। হাসির নিচে দিনে তিনবেলার দাঁত চারবেলার চুল এসব রঙ ভরা মুখ এসব কথাভরা মুখ এসব ফাল মারা শরীর। মাছ মাছ পানি পানি। হুর হুর করে মেলা বাড়ে লম্বা হয়। মাঠের মাঝখানে হঠাৎ ক্রিং ক্রিং ফোন। হ্যালো হ্যালো। হায় আপনাকে কতদিন ধরে দেখি না ভাবি। হায় আজ সারাদিন ফোন করলাম। কোথায় ছিলেন? জানেন ভাবি আজ আমার জন্মদিন। আজ অনেক খাবার আমার বাসায়। কতো লোকজন যে আসবে ভাবি। ঐযে আপনাকে বলছিলাম না সেদিন। আমার জন্মদিনের কথা। ভুলে গেলেন এত তাড়াতাড়ি? ইস ইস আপনাকে নিয়ে আর পারা গেল না।

ব্লু কালারের গান বাজে মাঠে মাঠে– থিয়া…রুম থিয়া…রুম ও বেবি ও বেবি ইউ আর মাই ড্রিম…। একটা ছোট কাকাতোয়া বাতাসে ঢেউ মেরে গুত্তা খায়। আবার  ক্রিং ক্রিং। কেয়া ভাবি আপনি এখনো শাওয়ারে এখনো তৈরি হননি? ওপারে কেয়ার হাসি চাপ খাওয়া বাংলা। কেয়ার সেই টুঙ টাঙ চলার মতো। তার না-খাওয়ানো অতিথিদের মতো। তার পরা চোস্ত পেণ্টের মত। দাঁড়ান না ভাবি দাড়ান। মাহফুজ তো এখনো আসেনি। কোথায় যে গেল লোকটা। আশ্চর্য। অল ননসেন্স। তাই দেরি। আর ঐ যে বেড়ালটা আমার অ্যাশ কালারের অ্যাশি সারাদিন কিছুই খায়নি। ওকে খাওয়াতে হবে। চলে আসব… হ্যাভ ফান।

ফোন রাখার সাথে সাথে দুই তিনটা ফোটকা ফাটে। দরাম দরাম। মানুষের ছোটাছুটি। হা হা কি মজা আজি এই বৈশাখে। নাফিজা দৌড়ায় তার সাথে সাথে তার বান্ধবীরা ভাবিরাও। তাদের চুল ওড়ে তাদের কাপড় বাতাসে চক্কর মারে। জামা কাপড়ের মধ্য দিয়ে যা দেখা যায় দূর থেকে চিলে খায় কাকাতোয়া ঠোকরায়। এক সময় স্টেজ থেকে ঘোষকের গলা শোনা যায়। লেডিস অ্যাণ্ড জেণ্টল ম্যান। এই রাফেল ড্র এই অকশন একটা গাড়ি জিতে নিন একটা বাড়ি জিতে নিন আজই সানশাইন হলিডে টিকেট। ঘোষকের গায়ে লাল চাদর পায়ে মখমলি জুতা। মাথায় পরচুলা। আরো এতো দেখি সাজ্জাদ চৌধুরি। উনি ছাড়া আর কে? যে জায়গায় ঘোষণা আর বক্তৃতা সেখানেই সাজ্জাদ চৌধুরী। আজ এক কমিটিতে তো কাল আর এক কমিটিতে। কমিটিতে থাকা ছাড়া তার আর কাজ নাই। লোকে বলে খালি মাতব্বরি। কথা আর কথা। দূর থেকে সাজ্জাদ ভাইয়ের ভারি ঘাড়টা দেখা যায়। পরচুলার নিচে কিভাবে তরমুজের মতো ঘাড়টা ফুলে উঠছে। হাতে সোনার ঘড়ি। কথা আর কথা। এক্সকিউজ মি। সরেন ভাই সরেন। আমি তো কিছুই দেখতে পারছি না আমাকেও কেউ দেখতে পায় না। আহা আহা সরে দাড়ান। প্লিজ প্লিজ। এর মধ্যে কাউন্সিল থেকে সাদা রঙের মেয়র আসে। হাত উচু করে জানান দেয়। দ্যাটস মাই প্লেজার, মাই গ্রেট অপারচুনিটি….। আবার ঘোষকের সোনার ঘড়ি চক চক করে। রাফেল ড্র লেডিস অ্যাণ্ড জেণ্টল ম্যান। এখনই শুরু হবে।  তাই শুনে ভাবী আর বান্ধবীরা দৌড়ায়। দোকানগুলোর সামনে আর তেমন একটা ভিড় চোখে পড়ে না। বেশ বড় একটা লাইন স্টেজের সামনে। ঝাক্কাস।

….কুক… ঝি… কুক… ঝি থেকে আস্তে আস্তে এটির দাম কত? এটি কি চাইনিজ না আমেরিকান? এটি কি গোল্ডের ভাই? জানেন টাকা কোনো বিষয় না পছন্দই আসল। গতবার কী যে ঠকলাম। এক পরাতেই শেষ। এবার ঠিক আছে তো? আছে আছে। হার্ণ্ড্রেট পার সেন্ট গ্যারাণ্টি ভাবী। তাহলে আপনি দেন ভাই প্যাকেট করেন। ওতো টাকা কোথায় পাব চিন্তা নেই। নাঈম দেবে, কালাম দেবে, মনোয়ার দেবে। হা হা হা। দেবে দেবে। সব দেবে। জানেন ভাই ওরা সারা দিনরাত বাণিজ্য করে। রোজ বহু পথ পাড়ি দেয়। জম্পেস বাণিজ্য করে। তাদের এত এত টাকা। তাদের ব্যাগ ভর্তি টাকা মুখ ভর্তি টাকা শুধু টাকা আর টাকা।
কোনো  চিন্তা করবেন না ভাবী এই নিন। এই যে দেখুন না দেশ থেকে কতো মানুষ আবদার করে। টাকা দাও বাচ্চাটাকে স্কুলে পাঠাই টাকা দাও মেয়েটারে বিয়া দিই।  টাকা দাও বাড়িটা পাকা করি মায়ের চিকিৎসা করি। আমি কালামকে বলি খবরদার খ.. ব..  র.. দা.. র একটা কথাও বলবে না। ফোন ধরবে না। বলবে আমরা অভাবে আছি জিনিস পত্রের দাম বেশি।  বেশি টাকা লাগে। একদম ফোন ধরবা না। তোমার মা এরকমই কেন টাকা চাইবে? প্রতিবার ফোন করার সময় টাকা টাকা।  আমাদের কি এখানে টাকার গাছ হয়?

সে কথা পাস হয়ে যায় মুক্তি ভাবির কাছে। মুক্তি আফিয়াকে নিয়ে স্মল টাউন শমিং মলে। সেও নাঈম ভাইকে আমার কথাগুলিই রিপিট করে। এই শোনো নাঈম।
নাঈম একটা সার্টের দোকানে ঢুকছিল। তোমাকে না বললাম আমাকে সব সময় বলে যাবে। গত দু বছরে দুইটা সার্ট কিনলে। এখন আবার কী?  শোনো ভাবীর কাছ থেকে এস এম এস পেয়েছি। ভাবী কী বলেছে একটু শোনো। নাঈম- জি জি। নাঈমের মুখটা লাল। কখনো আবার মাইল্ড আগুনের মতো। ওকে ওকে ডার্লিং। আমাকে আর কিছু বলতে হবে না। আমার তো কোনো  সমস্যা নাই।

এক সময় বড়  মুক্তি লেখে। বন্ধু আসো তোমরা আমার শান্তি। বন্ধু বন্ধু আহা কি স্বগীর্য় রে ভাই। সকল সুখের মূলে আছো তোমরা। তাই দেখ না দরজার সামনে লিখে রাখছি ফ্রেণ্ডস আর সানশাইন অব লাইফ। সত্যি তো। এখানে তো কোনো ভাই বোন নাই। আর থাকলেই বা কি। আমার কথা কি তারা শুনবে? তাই বন্ধু ভালো। ওরা অনেক বেশি কাইণ্ড। তাদের কথা বড় হাত বড়। তারা হলিডেতে যায়। আমাদের ভুনা খিচুরি খাওয়ায়। আর কত গিফ্ট দেয়। বেশ বেশ। বই খাতা জামা কাপড় থালা বাসন যা যা লাগে। দেখুন না কালামকে বললাম তুমি সব কাজে ভাবীদেরকে ডাকবে। বিশেষ করে কেয়া ভাবী। কেয়া ভাবী কী ভালো কী কাইণ্ড! ভালো চাকরি করে। কী যে স্মার্ট! কী সুন্দর করে কথা বলে। জোস লাগে। বন্ধুকে কাছে পেলে আমার সাহস বেড়ে যায়। আমার দম ফিরে আসে। কী যে সুখ। তোমাদের কী করে বোঝাব!  আর যেদিন বেশি রান্না করি বন্ধুদের মুখটা সুখে সুখে ভরা। তাদের ভাষা মনোরম তাদের মুখ মনোরম তাদের বিছানা মনোরম। আমাদের অনেক গল্প আছে। মনে নাই আমার ছোট বেবিটার যখন অসুখ হলো সে বছর কেয়া ভাবী আমাদের জন্য কতকিছু করল! খাবার আনলো দুধ আনলো জামা দিল। বেবিটাকে কাছে নিয়ে রাখল। তুমি তাদের তার হাজবেণ্ডকে আমাদের গাড়িটা তিন দিনের জন্য ধার দিয়েছিলে অবশ্য। কিন্তু তাতে কী? সবই তো এমনই। বন্ধু তাহলে তো আসবে না জানো। তারা কি আমার মায়ের পেটের ভাই মায়ের পেটের বোন? ডাকলেই চলে আসবে? ভাইবোন কি আর আগের জমানার মতো আছে। এক একটা স্বার্থপরের শেষ। তাই আমার জীবনের আসল মানুষ এই বন্ধুজন। তারা আমাকে প্রায় ডাকে ইনভাইট করে। ভালো মন্দ রান্না করে খাওয়ায়। আর এই বয়সে আমি আর কী করব আর কী শিখব? কী জানব? অনেক কষ্ট করেছি জীবনে। এই পুরনো একটা বাড়িতে অনেকদিন থেকেছি। মাত্র তিনটা রুম। একটা গ্যারেজ। কোনো সুইমিং পুল নাই। নাই কোনো বড় লন। কতবার কালামকে বললাম দাও দাও একটা নতুন বাড়ি কিনে দাও। দাও দাও একটা সুইমিং পুল দাও। কালামটা জানেন ভাবি ভেরি এনয়িং গাই। প্রায় বুড়ো বয়সে আমাকে বিয়ে করেছে। আমার আর তার মধ্যে পনের বছরের গ্যাপ। তারপর আবার ডায়াবেটিস। লুকিয়েছে। কী করব? পুষিয়ে নিয়েছি। দেশে থাকলে পঁচে মরতাম। বাবা রিটায়ারমেণ্টে বড় ভাই হদ্দ বেকার। টেনেটুনে সংসার চলছিল। একদিন বাবার বন্ধু এই প্রস্তাবটা নিয়ে আসল। রাজী হয়ে গেলাম। কালাম অবশ্য আমার কোনো কিছুর প্রতিবাদ করে না। গুড বয়ের মতো সব শুনে। শুনবে না কেন? আমি তো তাকে সব দিয়েছি। আমার কচি বয়স। তিন তিনটা বাচ্চা। তারপর একটা চাকরি নিলাম। সেখান থেকেও টাকা পয়সা দিতাম। ছেলেটার তিন টিচারের টিউশন ফি। গাড়ি গাড়ির পেট্রল। থাক ওসব কথা। আজ আমরা লং ড্রাইভে যাবো।  কী লম্বা সী-বিচ! মাথা খারাপ করা সমুদ্র। তার পাশে বালি আর বালি। সব ভাবীদের আসতে বলেছি। আজ আমরা এখানে বসব আর বাচ্চারা খেলবে। হা হা  দেখুন দেখুন আমি আজ কী এনেছি সাথে ভুনা খিচুরি আর হাঁসের মাংস। খান খান ভাবী। কালামকে রাতেই বলেছি আনো আনো একটা হাঁস নিয়ে আসো। নরম মাংসের হাঁস। কাল আমার বন্ধুরা আসবে। তাদেরকে নিয়ে লং ড্রাইভে যাবো। বুঝলে ইটস গ্রেট ফান। কিন্তু কালাম বলে এই সেই দিনই তোমাকে নিয়ে সানশাইন সিটি দেখতে গেলাম। হোটেল ছিলাম তুমি এটা কিনলে এটা কিনলে তারপর রেষ্টুরেন্টে খেলে। কী দামী না তোমার জুতা! তোমার বোনের জন্য এটা গোল্ডের চেইন। আমার শেষ পর্যন্ত ক্রেডিট শেষ। আজ আমি যেতে পারবো না। প্লিজ আমাকে মাফ করো। দেশে একটু টাকা পাঠাতে হবে।  ছোট বোনটাকে কে যেন দেখতে আসবে। আমাকে বাসায় থাকতে হবে। ভাবী জানেন আমি বলে দিয়েছি থাকো তুমি তোমার মা আর বোনকে নিয়ে থাকো। আমি যাবোই। কিছু হলেই মা মা। নেকামি করার আর জায়গা পায় না। আমার হয়েছে জ্বালা। যতসব বাজে আবদার। থাক ওসব কথা। ভাবি জানেন সেই ইন্ডিয়ান ভাবিটা কি জানি নাম… অ… মনে পড়ছে জয়া পাটেল। কি যে জিনিয়াস। গান পাড়ে নাচ পাড়ে। আর কী সুন্দর সুন্দর ইণ্ডিয়ান শাড়ি বিক্রি করে। জানেন তার বরটা কি সুন্দর!  জানেন তাদের বাসায় আমি একরাত ছিলাম কী মজা। সারারাত চাঁদের আলোর নিচে বসে গান শোনা আর গল্প করা। জয়া ভাবীজি বারবার খাবার নিয়ে আসে। কি সুন্দর খাবার। তার স্বামী আমার শাড়ির প্রশংসা করে আমাকে বলে দিস ইজ নাইস। আচ্ছা কি হ্যাণ্ডসাম বরটা। মানুষের কী ভাগ্য!

এদিকে শহরের এক জায়গায় মিনহাজ পারভেজের একটা বাড়ি থাকে। চারদিকে গাছপালায় ঘেরা একটা মাঠের পাশে ছোট একটা বাড়ি। মিনহাজ লেখালেখি করে আর মাস্টারি করে। প্রায় আত্মগোপন আবস্থায় লেখালেখি করে বলে এ শহরে তার বন্ধুর সংখ্যা হাতে গোনা। এ নিয়ে বউয়ের কাছ থেকে কত কথা  শুনতে হয়। এতে মিনহাজের কোনো যায় আসে না। তার ভালো লাগে লেখালেখি। কিছু করার নাই। তার বাসায় সারি সারি বই। তার বউ বাণী বড় মুক্তি ভাবীর বান্ধবী। তার বাসায় একদিন মুক্তি ভাবী আর তার বান্ধবীরা আসে। সবাই আসে কিন্তু নাফিজা য়া বিজরি আসে না। আসে না কারণ তারা দূরে হলিডেতে যায়। ওরা অন্য একদিন এসেছিল। বাণীর ছোট বাচ্চাটার জন্মদিনে এসেছিল শুধু। বাণীর বান্ধবী বড় মুক্তি  বলে ভাই কি সুন্দর আপনি লেখেন। এসব কীভাবে লেখেন? জানেন আমি হুমায়ুন আহমেদ পড়ি। কি যে সহজ সরল মায়াবী গল্প। আচ্ছা কেন এভাবে হুমায়ুন আহমেদ মারা গেল! কেন আর একটা বিয়ে করল? তার মেয়ের বয়সী মেয়ে! সাথে সাথে তারা মাংস কামড় দেয় আর লাল সুরুয়ায় চুমুক মারে। কি বড় বড় আর শার্প দাঁত এদের। আশ্চর্য!

বাণীর এক কালের কলেজ বান্ধবীর নামও মুক্তি। ছোট মুক্তি।  নাঈমের বউ। ছোট খাট গড়ন। ফর্সা গায়ের রঙ। সেও চাপ দিয়ে বাংলা বলে। কলকাতার লোকদের মতো। খেয়েছেন গিয়েছেন এসেছেন মেরেছেন গোছের বাংলা! আর যে কোনো পার্টিতে  মুক্তির গলায় স্বর্ণ জ্বলজ্বল করে। তার ফর্সা মুখ। হাসলে বা রাগলে কখনো লালচে হয়ে ওঠে। বারবার সে খেয়াকে বিজরিকে বলে– ভাবী আমার এই গাড়ি ভালো লাগে না আমার আরো বড় গাড়ি চাই। বিজরি নাফিসাদের কি সুন্দর গাড়ি! নাঈমকে কতবার বলেছি দাও দাও আমাকে একটা বড় গাড়ি কিনে দাও। নাঈম অবশ্য সারাদিন কাজ করে সারিদিন বাণিজ্য করে। তার কোনো লাইয়াবিলিটিস নেই। গ্রামে তার প্রচুর জমা জমি আছে। বাবার অনেক টাকা পয়সা। তাকে কোনো টাকা পাঠাতে হয় না। কিন্তু এই সোজাসাপটা লোকাটার একটা দোষ আছে। অনেক সময় আপনাদেরকে লজ্জায় বলতে পারিনি। আজ বলি কারণ আমি আর সহ্য করতে পারছি না। নাঈমকে আমি ডাকি বলি আসো। সে আসে না আমার পাশে বেশি করে শোয় না। আমি যদি বলি ধরো আমাকে সে ধরে না। পাশ ফিরেই নাক ডেকে ঘুম। কত কষ্ট আমার সেই প্রথম মেয়েটা হওয়ার পর কত টাইম পার হয়ে গেছে। আমার আর একটা বাচ্চা নেয়ার শখ।  তাই ঘরটাকে আরো রঙীন করি, চুলে কালার দিই গায়ে সুগন্ধ মাখি। নাঈম প্লিজ আসো। সোনামনি আসো অনেক রাত হয়ে গেছে। নাঈম কথা শোনে না। তার কিছুই হয় না কোনো কিছুই দাঁড়ায় না। বলে আমার খুব ক্লান্তি। কত কত জায়গায় আজ বাণিজ্য করি।  আমাকে ঘুমে পাইছে। তারপর নাঈম নাক ডেকে ঘুম। সান অব বিচ। বেটা মানুষ এমন থাকবে কেন? সে তো বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়বে। আমাকে ছিঁড়ে খুঁড়ে খাবে। আর একটা বাচ্চা দেবে। শালা। কিছুই পারে না। খেয়া ভাবী আমার কোনো প্রব্লেম নেই তো? নাকি নাঈম আমাকে আর ভালোবাসে না। অথচ বাণী আমার বান্ধবী স্বামী নিয়ে কত সুখি। মিনহাজ ভাই নাকি সাচ্ছা একটা পুরুষ। বাণী বলে নো প্রব্লেম। উই আর ভেরি হ্যাপি ইন লাইফ এণ্ড ইন বেড। এই কথা মনে পড়লে আমার আরো রাগ ওঠে।  আমি কী যে করি! এই বেটা তাইলে বিয়া করছিস কেন? কেন আমাকে এই বাড়ি বানিয়ে দিলি? আমাকে কাড়ি কাড়ি স্বর্ণ পরিয়ে রেখেছিস? বেটা উঠ আমার যে আর সয়না। না হলে কিন্তু আমি সোহেলের কাছে চলে যাবো। সে আমাকে কালও ফোন করছে। বলছে আমার চুল আমার ফর্সা গায়ের রঙ তার কি ভালো লাগে। সে বলছে যে কোনো দিন তাকে ফোন দিতে। তার বিদেশি বউ মারিয়াকে তার আর ভালো লাগে না। মারিয়া হ্যাজ আদার রিলেশনশিপ।  সোহেল ভাই চায় বাংলা স্বাদ। বাংলা ছাড়া তার প্রাণ ভরে না। কিন্তু বাধ সাধে মিনহাজ ভাইয়ের বউ বাণী। ছোট মুক্তির কলেজের বান্ধবী। সে বলে— দেখ মুক্তি তোর একটা সংসার আছে তোর একটা বাচ্চা আছে। নাঈম ভাইয়ের যদি কোনো দোষ থাকে তাহলে তোরা ডাক্তারের কাছে যা। কথা বল দেখ সব ঠিক হয়ে যাবে। মুক্তি আর কথা শুনে না। তার ধৈর্য থাকে না। একদিন সে চুপিচুপি বাইরে যায়। বাণীর কাছে মেয়েটাকে রেখে যায়। সন্ধ্যায় যখন সে ফিরে আসে তখন তার চোখ মুখ লাল হয়ে আছে। চুলগুলি কেমন এলোমেলো।  বলে বাণী বাণী আমাকে একটি পানি দে। আমার গলাটা শুকিয়ে কাঠ।

আমি ছোট মুক্তি বলছি। আপনাদেরকে আরো কথা বলার আছে। বাণী আমার অনেক দিনের চেনা। প্রিয় বান্ধবী। কিন্তু  আজ এই বাণীই আমার দুশমন হয়ে গেছে। আমি আর বাণী ঢাকা লাল মাটিয়া মহিলা কলেজে এক সাথে পড়তাম। আমি যখন টিভিতে অ্যাড করতাম বাণী তখন সেই ঘরের মেয়ে। সাদাসিধা। ঘরের বাইরে তেমন কোথায় যায় না। ক্লাস শেষে সোজা বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু এত বছর পর এখানে সেখানে বাণীর নাম আজ সব জায়গাতে। যেখানেই যাই বাণীর নরম ভদ্র ব্যবহার তার স্বামী আর সংসার এসব শুনি। আজ আবার শুনলাম বাণীর ছেলেটা ভালো একটা স্কুলে চান্স পেয়েছে।  আমার মেয়ে আফিয়া পায়নি।  আমার কান্না চলে আসে। আমি নাঈমকে ফোন করি। দেখ দেখ বাণীর ছেলে চান্স পেয়েছে। আফিয়া পায়নি, কি খারাপ লাগছে আমার। বাণী এখন আমার দুই চোখের বিষ।  তাকে দেখলে  আমার গা জ্বলে। সে ফোন দেয় আমি জবাব দিই না।  সে বাসায় ডাকে আমি যাই না।  আমার মেয়ে আফিয়া একদিন বলে– জানো মাম বাণী আন্টির ছেলে আমাকে আগলি বলছে। আমি নাকি আগলি। ঐ যে স্কুলের পাশে হাঁটতে হাঁটতে আমাকে বলে ইউ আর জাষ্ট আগলি। আমার বন্ধুদের সামনে। কি লজ্জা মাম! আই ফেল্ট সো অ্যামবেরেসড। এ কথা শুনে আমি তেমন রাগ করি না। ছেলেমেয়েরা এক সাথে পড়াশোনা করলে এমন তো হয়ই।  কিন্তু রাগ আসে আমার মেয়ে তো ভালো স্কুলে আর চান্স পেল না– এই মনে করে। আমি মেয়েকে বলি দাঁড়া আমি বাণীকে আমাদের শান্তি- প্রোগ্রামে আর  আসতে দেব না। বাণী আর আমার বান্ধবীদের কেউ কেউ এই শান্তি-প্রোগ্রামে আসে। তোফায়েল আর রহিম ভাইয়ের শান্তিকথা শুনে। দোয়া দুরদ পড়ে। এখানে এখন মানুষ বিভিন্ন গ্রুপ করে এই শান্তি প্রোগ্রাম শুরু করছে। উপকার হয় কিনা জানি না। তবে অনেকের সাথে দেখা হয়। খোশ গল্প হয়। বাণীরা প্রথমে এই প্রোগামে ছিল না। রহিম ভাইয়ের অনুরোধে তারা এখানে আসে। প্রোগাম শেষে একটা লম্বা আয়েশি খাওয়া দাওয়ার পালা চলে। বাণীও খাবার নিয়ে আসে। সবাই তার খাবারের প্রশংসা করে। কিন্তু বাণীকে দেখলেই আমার মাথায় পাথর পড়ে। আমার পিপাসা বেড়ে যায়, হার্টে একটা জোড়ে ধাক্কা লাগে। কান থেকে মৃদু বাতাস বার হয়। আমাকে সে কয়েকবারই জড়িয়ে ধরেছে হায় মুক্তি কেমন আছিস? আমি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি। ওকে আমি একদম সহ্য করতে পারছি না।  কিন্তু আমি তাকে কীভাবে ঠেকাই। তোফায়েল ভাইকে বলি ভাই একটা অসুবিধা হয়ে গেছে বাণীর ছেলে  আমার মেয়েকে বুলি করেছে।  আমার মেয়ে এখন বাণীর ছেলে আরিয়ানকে দেখলে বিব্রত বোধ করে। কাঁদে। আপনি বাণীদেরকে আসতে বারণ করেন।  তোফায়েল ভাই বলে আপনার এতো বড় মেয়ে!  আর তাছাড়া কো-এডুকেশনে একটু আধটু তো এমন হয়ই। আমি বলি সেই ছেলের কারণে আমার মেয়ে স্কুলে আলদা আলাদা ঘুরে। একা একা থাকে। তোফায়েল ভাই বলে তাহলে তো অন্য জায়গা সমস্যা। আপনার মেয়েকে আমার কাছে নিয়ে আসেন। আমি বলি না সে আসবে না। সে কাঁদে। আমির ভাই আবার বলে মুক্তি ভাবী এটি একটি শান্তির প্রোগ্রাম।  এটিতে সবার অধিকার আছে। আমি বলতে পারবো না আমাকে মাফ করবেন। আল্লাহ আমাকে গুনাহ দেবেন। এ কথা শুনে আমি রেগে যাই। দেখি একটু পর বাণীরা আসে। আমাকে বাণী জড়িয়ে ধরে- মুক্তি কেমন আছিস রে। আমি মুখ বন্ধ করে বসে থাকি। আমার হার্টে কে যেন একটা ঘাই মারে। কিছুই বলি না। মনে মনে বলি  দাঁড়া তোর এই মুখের হাসি আমি বন্ধ করবই। তোর শান্তি আমি বন্ধ করবই।  তাই প্রথমেই তোফায়েল ভাইয়ের বউয়ের বোনের বাড়িতে যাই। সে আবার নাঈমের বন্ধুর বউ। বলি ভাবি শুনেন বাণীকে আমি এই শান্তির প্রোগ্রামে দেখতে চাই না। এই নেন একটা শাড়ি। আপনি না খুব পছন্দ করেন। এই নেন বাচ্চাদের জন্য জামা কাপড়। আপনি মনজুর ভাইকে বলেন একটা ব্যবস্থা করতে। সে তোফায়েল ভাইকে বলুক বাণীরা যেন এখানে আর না আসে।  কিন্তু ভাবী একটা ভদ্র ফেমিলিকে কীভাবে বলি। বাণী ভাবীরা কত ভালো। আমি তো ওদেরকে চিনি। উনার ছেলেমেয়েরা খুবই ভদ্র বাচ্চা। ওরা এই শান্তির প্রোগ্রামে আসে, দীনের কথা শুনে কথা বলে। এটি তো অন্যায় হয়ে যাবে। না না আমি পারবো না। কাজ না হওয়াতে আমি মনজুর ভাইকে বলি ভাই আপনি রহিম ভাইকে বলেন। তিনি তো মাতবর টাইপের লোক। একদিন বাসায় আপনাদের সবাইকে দাওয়াত দেবো।  রহিম ভাই তো বেশ ভোজন প্রিয় মানুষ। দাওয়াত পাইলে তার মন গলে যাবে। বাণীর হাজবেণ্ড যে তার দীর্ঘদিনের পরিচিত এইগুলো আর মনে থাকবে না। ভালো খাবার আর আদর যত্ন পেলে সব মানুষকেই পোষ মানানো যায়। তাই একদিন আমি আর নাঈম রহিম ভাইয়ের বাসায় সরাসরি চলে যাই। সাথে ফল মূল নিয়ে যাই। তাকে আমার দু:খের কথা বলি। রাতে মেয়েটাকে শিখিয়ে দিই- তুই আরো বলবি বলবি আরিয়ান একটা বাজে ছেলে। ও একটা মেয়েকে আমার সামনে চুমু খায়। আর তোকে বলে আগলি। এই কথা শুনে রহিম ভাইয়ের মন গলে যায়। তাকে আমরা আমাদের বাসায় দাওয়াত করি। যখন সে বড় মাছের টুকরায় দাঁত বসায়, আমি তাকে বলি রহিম ভাই আপনি বাণীদেরকে আসতে বারণ করেন। ছেলেটা ভীষণ নটি। আমার কথা শুনে রহিম ভাই আমার দিকে একটা প্রশান্তির হাসি দিয়ে তাকায়। বলে- তুমি কিছু চিন্তা কইরনা। আমি মনজুর ভাইয়ের সাথে একটা প্ল্যান করে তোফায়েল ভাইকে বলে দেব- বাণীর জামাইরে যাতে তোমার কথা বলে দেয়। সেই কথা শুনে আমি তো খুশিতে আটখানা। যেন আকাশে উড়ে বেড়াই। পরের সপ্তাহে বাণীরা পোগ্রামে আসলে পরে তোফায়েল ভাই বাণীর হাসবেণ্ড মিনহাজ ভাইকে আমার কথাটা বলে। তারপর থেকে তাদেরকে আমাদের শান্তির প্রগ্রামে আর দেখি না। কি মজা! আমার শান্তি আর শান্তি।

নাফিজা, ইতি, আদিবা, নীলু তাদের বান্ধবী বিজরি, খেয়া, পুতুল তার বোন ঝুমুর তার ভাবী বড় আর ছোট মুক্তি এরকম আরো আরো ঝাঁকে ঝাঁকে যখন দূরে হলিডে করে বিচ বালির নরম শরীরে হাঁটে তখন সারা শহরে  কালো একটা মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। পাশে থাকা ভাইদের চোখ বেয়ে পানি নামে। দূর থেকে ছোট ভাই ছোট বোনের কথা ভেসে আসে। স্কুল আসে কলেজ আসে অসুখ আসে বিছানা আসে রাস্তা আসে মিছিল আসে হরতাল গার্মেন্টস ভবন ধ্বংস ক্রশ ফায়ার খুন আসে। নাঈম কালাম মনোয়ার আজমি ভাইয়েরা কাঁদে। তারা দেখে ভাবী আর বান্ধীরা মাথায় টুপি পড়ে বিচ বালিতে পা রেখে হাঁটছে। হাতে গোলাপি আইসক্রিম।  গলায় ফুলের মালা। কাছে মাছের বড় বড় চোখ সমুদ্রের বাতাস। এক সময় বান্ধবীরা আরো হালকা হয়। রাতে কালাম ভাইয়ের বাসায় বিরাট গানের পার্টি। সেখানে সারারাত গান চলবে। সাথে বিরানি মুরগির রোষ্ট হালিম ফুচকা। জয়া ভাবীজি তার স্বামী তার স্বামীর ভাই বিজয় যার গায়ে হিমালয়ের গন্ধ। ক্রমশ তবলা ক্রমশ হারমোনিয়াম কারোয়িকি চলবে।  স্টেজ নাই তবু বড় একটা লাউঞ্জ রুমে সবাই এক সাথে বসবে। এর মধ্যে চা আসবে গরম পুরি আবার মুরগি আর পোরাটা।  ভাইকে দাও। ভাই এই নাও। না না ডোণ্ট ওরি মায়ের জন্য কাঁদে না বোনের জন্য কাঁদে না। টাকা কোথায় আমাদের অনেক খরচ। মাছ মাংস সবজি চাল ডাল সব কিছুরই মহা দাম। এই ভাবি জয়া কোথায় আর হিমালয় ব্রাদার। ও আর ইউ অল রাইট ব্রাদার? আচ্ছা এ দেখি ছোট মুক্তি। গলায় কি দামী স্বর্নের চেইন। দুবাই থেকে কেনা ভাবী।  নাঈম ভাই তো দিব্য বসে বসে ঝিমুচ্ছে। ভাবি আপনাকে না বলেছি বাণী যেন না আসতে পারে।  বাণী ও তার ছেলে তার ভালো করা ছেলে। তার সুন্দর স্কুল আহা আমার মেয়েটা পারল না আমি সহ্য করতে পারি না। বাণী বাণী আই হেইট ইউ বিচ। তাই আজ রাতেই তোর ড্রাইভ ওয়েতে লোহার কাঁটা বিছানো হবে। লোহার শার্প কাঁটা। নাঈমকে অলরেডি বলে দিয়েছি। সাথে তার আর একটা বন্ধুকেও। লোহার কাঁটার উপর দিয়ে যখন তোর গাড়ি যাবে তখন গ্যাচ গ্যাচ করে টায়ার গুলো পাংচার হবে, গাড়ি আর চলবে না। আর চললেও ফ্রি ওয়েতে যখন ঢুকবি, ব্যাস আর যাবি কই। গাড়ি উল্টে যাবে। তুই মে বি ইনজুরড হবি। মরেও যেতে পারিস।  রক্ত রক্ত তোর পা থেকে মুখ থেকে। ততোক্ষণে আমি গান শুনব, এই যে লাল লাল তান্দুরী সেখানে আমার দাঁত লাগবে, সাথে গ্রীন স্যালাড খাবো। আহা কতদিন ধরে ভাবীদের সাথে দিল শান্তি করে গল্প করি না। আহা আহা আজ হবে। আজ তুই নেই। আই হেইট ইউ বাণী। বাণী টুডে ইউ আর ডেড!!