চাঁদপুর প্রধান খবর

যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ যারা নেবে তাদের আমরা বর্জন করবো: দীপু মনি

chandpur,02 copy

মাকসুদুল আলম,চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দীপু মনি। গত ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর মুক্ত দিবসে মাসব্যাপী এ বিজয় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সকাল ১১টায় বিজয় মেলা মঞ্চে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে ডাঃ দীপু মনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতা অনেক কষ্টে পাওয়া, অনেক রক্তের ও সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন জাতি। স্বাধীনতা কেউ আমাদেরকে দান করেনি বা দয়া করে দেয়নি। আজ বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আর এটি সম্ভব হচ্ছে দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ। দেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, যে চেতনায় এ দেশ স্বাধীন হয়েছে তা হয়ত অনেক আগেই অর্জন হতো যদি ৭৫’র ১৫ আগস্ট না ঘটতো। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছি। আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি হয়ত এখনো আসেনি, তবে এখন আর কেউ না খেয়ে থাকে না, বিনা চিকিৎসায় মারা যায় না। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে। এমনিভাবে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন সেই পরাজিত শক্তি নতুন নতুন ষড়যন্ত্র নিয়ে আবির্ভাব হয়। দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে আল্লাহর রহমতে সব ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য মোকাবেলা করে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে, রায়ও কার্যকর হচ্ছে। কিন্তু তা বাধাগ্রস্থ করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি। কতিপয় ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীকে বাঁচাতে জামাত-বিএনপি দেশব্যাপী নৈরাজ্য করার অপচেষ্টা করছে। তাই আজকের দিনে শপথ হোক, স্বাধীনতার বিপক্ষে যা কিছু আছে সবদিক থেকে আমরা তা বর্জন করবো, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ যারা নেবে সে যেই হোক তাদের আমরা বর্জন করবো, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাবো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভার আগে ‘অঙ্গীকারে’র সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ডাঃ দীপু মনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজয় মেলা স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এম এ ওয়াদুদসহ মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, বিজয় মেলা উদযাপন কমিটি, আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী আইনজীবী পরিষদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এরপর ডাঃ দীপু মনিসহ অন্যরা ‘অঙ্গীকার’ পাদদেশে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
বিজয় মেলার চেয়ারম্যান অ্যাডঃ সেলিম আকবরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এম এ ওয়াদুদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড মনিষা চক্রবর্তী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ মোঃ জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিজয় মেলার মহাসচিব অ্যাডঃ বদিউজ্জামান কিরণ এবং মাঠ ও মঞ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির আহŸায়ক হারুন আল রশীদ।
এদিকে সন্ধ্যায় মেলার দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম এমপি উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি না আসায় প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া। তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১-এর ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দেন সে দিন থেকেই বাঙালি জাতি তাদের স্বপ্ন পূরণে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান চেয়েছিলেন সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়তে। সেই ‘জয় বাংলা’ শ্রোগান ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণা। যারা ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান হৃদয়ে ধারণ করে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিল আজ তারা এবং সকল মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা যদি একত্রিত হয়ে কাজ করতে পারি তাহলে জাতির জনকের সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলতে পারবো। তিনি বলেন, আজ জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করছেন। আজ দেশের মানুষের মাথা পিছু গড় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যদি ২০১৯ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হতে পারে তাহলে এ দেশ বিশ্ব মাঝে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নতি লাভ করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি আরো বলেন, দেশে বিভিন্ন দলমত থাকবে কিন্তু স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি কাদিয়ানী বাহিনীসহ দেশ বিরোধীদের হাতে স্বাধীন দেশের স্বাধীন পতাকা যারা তুলে দেয়ার চেষ্টা করবে তাদের স্থান এই বাংলার মাটিতে হবে না, হতে পারে না।
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা স্টিয়ারিং কমিচির সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদের সভাপতিত্ েবিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ আমির জাফর, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার মহাসচিব অ্যাডঃ বদিউজ্জামান কিরণের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন যুদ্ধকালীন সময়ের বিএলএফ কমান্ডার মোঃ হানিফ পাটওয়ারী, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার সাবেক মহাসচিব অ্যাডঃ বিনয় ভূষণ মজুুমদার, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অ্যাডঃ শেখ আঃ লতিফ, তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, অ্যাডঃ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি অ্যাডঃ মনোয়ারা বেগম বাবলী, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার (সাংগঠনিক) মোঃ মহসীন পাঠান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অ্যাডঃ মোঃ জহিরুল ইসলাম, সন্তোষ চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ।