জাতীয় প্রধান খবর

রোকেয়া ছিলেন নারী শিক্ষার প্রতিষ্ঠান

15

হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে অনগ্রর নারীদের পাশে দাঁড়াতে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বেগম রোকেয়া শুধু একটি নাম নয়, তিনি ছিলেন নারী শিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান। ঊনবিংশ শতাব্দীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন রক্ষণশীল সমাজের শৃঙ্খল ভেঙে তিনি নারী জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দেন শিক্ষার আলো।

বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। আজ দেশজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম রোকেয়া তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে নারীর প্রতি সমাজের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণের মূলে আঘাত হানেন। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মধ্য দিয়ে পশ্চাৎপদ নারীসমাজকে আলোর পথ দেখান। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রভূত অবদান রাখেন।

বেগম রোকেয়া দিবস-২০১৪ উদ্যাপন এবং বেগম রোকেয়া পদক-২০১৪ প্রদান করা হচ্ছে জেনে প্রধানমন্ত্রী আনন্দ প্রকাশ করেন। বলেন, আমি নারীজাগরণের অগ্রদূত এই মহীয়সী নারীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। সেই সঙ্গে পদকপ্রাপ্তদেরও তিনি অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম রোকেয়ার আদর্শকে সমুন্নত রেখে তার সরকার নারী শিক্ষার প্রসারে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছে। উপবৃত্তি, বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং অবৈতনিক শিক্ষা প্রদানের ফলে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার হ্রাস পেয়েছে। ছাত্রীদের স্কুলে ভর্তির হার শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে।

তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর স্বাক্ষরতা ও শিক্ষা প্রসারে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো তাকে ‘শান্তিবৃক্ষ’ স্মারক পুরস্কারে ভূষিত করেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নারী শিক্ষায় তাদের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছে।

শিক্ষার পাশাপাশি নারী উন্নয়নে তার সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ ও পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছে। নারীর দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা, শ্রমবাজারে ব্যাপক অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে এবং নারীর প্রতি সামাজিক অপরাধ রোধে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভা প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীর বলিষ্ঠ অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, বিচারপতি, সচিব, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী এবং পুলিশ ও আনসারবাহিনীর বিভিন্ন পদে নারীরা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। নারীদের এই উন্নতি বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নেরই সফল ধারাবাহিকতা।