জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

‘বাংলাদেশের বিজয় গণতান্ত্রিক বিশ্বের জয়’

 ডেস্ক রিপোর্ট :  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী এসোসিয়েশনের (সিপিএ) চেয়ারপারসন এবং ইন্টার-পার্লামেন্টারী ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশের দুই প্রার্থীর বিজয়কে গণতান্ত্রিক বিশ্বের বিজয় বলে বর্ণনা করেছেন। স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী সিপিএ’র চেয়ারপারসন এবং সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী আইপিইউ’র প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় তাদের সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটি গণতান্ত্রিক বিশ্বের বিজয়, দেশের জনগণের বিজয়। বুধবার সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংসদ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া।

এতে বক্তব্য রাখেন- বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সংসদীয় দলের নেতা হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, এমপি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। সংসদীয় উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এবং সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আশরাফুল মকবুল ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

কূটনৈতিক কোরের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন এবং ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সন্দ্বীপ চক্রবর্তী বক্তব্য রাখেন।

স্পিকার শিরিন শারমীন চৌধুরী সিপিএ’র চেয়ারপার্সন এবং সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী আইপিইউ’র প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

এর আগে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের অভিনন্দন বার্তা পড়ে শোনান।

প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখার জন্য দেশের জনগণকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ আস্থা ও বিশ্বাস বহু প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে।

তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আমরা পাহাড় সমান সমস্যা অতিক্রম করেছি। দেশের জনগণ আস্থা রেখে আমাদেরকে নির্বাচিত না করলে আজ এ সফলতা অর্জিত হতো না।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ তিনবার এই দুটি সংস্থার সদস্য পদ হারিয়েছিল। প্রথমবার ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর, দ্বিতীয়বার ১৯৮২ সালে সামরিক শাসন জারির পর এবং তৃতীয়বার ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার এই সংস্থাগুলোর সদস্য পদ হারিয়েছি কিন্তু আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর পুনরায় সদস্যপদ ফিরে পেয়েছি। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সিপিএ এবং আইপিইউ-তে বিজয় লাভ করায় বিশ্বে মর্যাদার আসন পেয়েছে। তিনি বলেন, যারা আমাদের পক্ষে ভোট প্রদান করেছেন আমি তাদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মাথায় মুকুট পড়ানোর জন্য ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী ও সাবের হোসেনকে অভিনন্দন জানান।

সরকার ও বিগত নির্বাচনের সমালোচনা করার উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি আনন্দপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চান না। কারণ, তাতে এই অনুষ্ঠানের ভাবটি পাল্টে যাবে।
তিনি বলেন, ‘আমি একটি কথা বলতে চাই, একজন রাজনীতিবিদের জন্য আত্মবিশ্বাস থাকা জরুরি। তাদেরকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাহলেই দেশ ও দেশের মানুষ এগিয়ে যেতে পারবে।’

বাংলাদেশের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, দেশ ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য মুক্ত হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি চলতি অর্থ বছরে ২,৫০,৫০৬ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন, বর্তমানে ২২ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকা, ৩০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানী আয়ের এবং দারিদ্র্য ২৪ শতাংশে নেমে আসার উল্লেখ করেন।

শিক্ষাকে জনগণের অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, তার সরকার জনসংখ্যাকে শ্রমমক্তিতে পরিণত করতে চায়। তিনি বলেন, ‘তাই আমরা শিক্ষার উন্নয়নে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়েছি।

পরে, প্রধানমন্ত্রী বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী এসোসিয়েশনের (সিপিএ) চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়েছেন। ক্যামেরুনের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ৬০তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী কনফারেন্সে এই পদে নির্বাচিত ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী আগামী তিন বছর ৩৫ সদস্যের এই কমিটিতে নেতৃত্ব দিবেন।

অন্যদিকে, সাবের হোসেন চৌধুরী আগামী তিন বছরের মেয়াদে ইন্টার পার্লামেন্টারী ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যাণ্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১৩১তম সম্মেলনে ১৬৯-৯৫ ভোটে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ব্রনউইন বিশপকে হারিয়ে আইপিইউ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

দক্ষিণ এশিয়া থেকে নাজমা হেপতুল্লাহ (১৯৯৯-২০০২) এবং গুরদয়াল সিং ধীলন (১৯৭৩-১৯৭৬) নির্বাচিত হওয়ার পর সাবের হোসেন চৌধুরী আইপিইউ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন।