কৃষি বগুড়া রাজশাহী

খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে বগুড়ায় তিনগুণ

   বগুড়া অফিস : বগুড়ায় প্রতিবছরই বেড়ে চলেছে খাদ্যশস্যের উৎপাদন। তবে চাহিদার বিপরীতে এ উৎপাদন বাড়ছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। পরিসংখ্যনে দেখা গেছে গত সাত বছরে উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণ। অর্থনৈতিক ফসল হিসাবে খাদ্যশস্য ও সবজি চাষে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। জেলার পশ্চিমাঞ্চলে যেমন একচেটিয়াভাবে ধান চাষ করা হচ্ছে তেমনি উত্তর ও পূর্বাঞ্চলও সবজি অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। এসব অঞ্চলের হাজার হাজার চাষী সবজি চাষে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। উৎপাদিত উদ্বৃত্ত চাল, গম, আলু, সবজি প্রতিদিনই বিক্রি হয়ে অন্য জেলায় চলে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে জেলায় ধান, গম, সবজি ও মরিচের চাহিদা ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৪শ’ ৮০ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ২৬ লাখ ১২ হাজার ৬শ’ ৯৩ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ও গমের চাহিদা ৬ লাখ ১৫ হাজার ৫শ’ ৯০ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৯শ’ ৩ মেট্রিক টন। এ ছাড়া আলুর ২ লাখ ২০ হাজার ৪শ’ ৫০ টন চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ৯ লাখ ১৪ হাজার ৫শ’ ৬০ টন, সবজির ১ লাখ ২০ হাজার ৪শ’ ৪০ টনের বিপরীতে উৎপাদন ৩ লাখ ১২ হাজার ৭শ’ ৭৭ টন এবং ২ হাজার মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে মরিচের উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজার ৪শ’ ৫৩ মেট্রিক টন। এ হিসাবে গত সাত বছরে চাহিদার বিপরীতে খাদ্যশস্য ও সবজির উৎপাদন বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। সূত্রমতে, ২০১১-১২ অর্থবছরে জেলায় খাদ্যপণ্যের চাহিদা ছিল ৫ লাখ ৭০ হাজার ৮শ’ ৮১ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৩শ’ ৯৮ মেট্রিক টন। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এসে ৬ লাখ ১৫ হাজার ৫শ’ ৯০ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৯শ’ ৩ মেট্রিক টন। এ হিসাবে গত সাত বছরে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ৯২ ভাগ থেকে বেড়ে ১২২ ভাগে দাঁড়িয়ে হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪শ’ ৮৩ মেট্রিক টন।
শুধু চাল ও গমের চাহিদা বেড়েছে সাত বছরে ৪৪ হাজার ৭শ’ ৯ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে উৎপাদন বেড়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ৫শ’ ৫ মেট্রিক টন। যা ৬ গুণেরও বেশি।  কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জেলার পশ্চিমাঞ্চলের আদমদীঘি, দুঁপচাচিয়া, কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা ধানের ভাণ্ডার হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। অপরদিকে শিবগঞ্জ, সোনাতলা ও গাবতলী এলাকা সবজি অঞ্চল হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সবজি মার্কেট গড়ে উঠেছে শিবগঞ্জের মহাস্থান এলাকা। শীত মৌসুমে প্রতিদিন ৪০-৫০ ট্রাক বোঝাই সবজি চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। সদরের নামুজা ভাণ্ডারীপাড়ার চাষী মাসুদ রানা ৮ বিঘা জমিতে আমন ও বোরো চাষ করে বছরে ৩শ’ মন ধান পান। বছরের চাহিদার ধান রেখে বাকিটা বিক্রি করে দেন। তিনি জানান, সাত বছর আগে বিঘাপ্রতি ধানের ফলন ছিল ৮-১০ মণ। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২০ মণের বেশি। তিনি জানান, আগে ভিটেমাটির ২/৩ বিঘা জমি পতিত থাকলেও এখন এসব জমিতে সবজি চাষ করে বছরে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করা হচ্ছে। ধুনটের বেলকুচি গ্রামের সোহরাব হোসেন তাদের ৪০ বিঘা জমিতে আমন ও বোরো চাষ করে ১ হাজার ৪শ’ মণ ধান পান। সারাবছরের জন্য ৪শ’ মণ ধান রেখে বাকি ১ হাজার মণ বিক্রি করে দেন। তিনি জানান, ধান এখন শুধু খাদ্যশস্যই নয়, অর্থনৈতিক ফসল হিসেবেই চাষ করা হচ্ছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চন্ডিদাস কুন্ডু জানান, পতিত জমি চাষের আওতায় আনায় এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন, উন্নত বীজ ও কৃষকের দক্ষতা বৃদ্ধির ফলেই প্রতিবছর জেলায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ছে।