জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর মুন্সিগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জে দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত

  মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত অবনতি হচ্ছে। শ্রীনগরের ভাগ্যকুল পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত জেলার ৬৭টি ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম বন্যা কবলিত। ফলে নদী তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোর লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের সমস্যা লাঘবে প্রশাসন সর্বাত্মক চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের বিষয়েও প্লাবিত গ্রামগুলোতে মেডিকেল টিম কাজ করছে। সরকারিভাবে বন্যার্তদের জন্য ৩২ টন চাল ও ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

খোজঁ নিয়ে জানা যায়, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদী তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরের বাংলাবাজার ইউনিয়নের ১৭ গ্রাম, শিলই ইউনিয়নের ৯টি এবং টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের ১৬টি, হাসাইল বানারী ইউনিয়নের ১৭টি, পাচঁগাও ইউনিয়নের ১৩টি, আড়িয়ল বালিগাওঁ ইউনিয়নের ৮টি প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

এছাড়া পদ্মা নদী ঘেঁষা লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ১৪টি, হলদিয়া ইউনিয়নের ৬টি, কনকসার ইউনিয়নের ৩টি, কুমারভোগ ইউনিয়নের ৪টি, মেদেনী মন্ডল ইউনয়িনের ৩টি এবং শ্রীনগর উপজেলার রাঢীখাল ইউনিয়নের ৪টি, ভাগ্যকুল ইউনিয়নের ৭টি, বাঘরা ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামও প্লাবিত হয়ে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের আধারা ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম, গজারিয়ার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামসহ উপজেলার একাধিক গ্রাম, সিরাদিখানের শেখেরনগর, চিত্রকোট, রাজানগর, বালুরচর, লতব্দি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের একাধিক গ্রামও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

এতে এসব এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। বিপুল পরিমাণ ফসলী জমিও তলিয়ে গেছে।

আর পদ্মার ভয়াল ভাঙনে শ্রীনগর, লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নদীতীরবর্তী গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।

ইতোমধ্যে ভাঙনের মুখে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কামারখাড়া বড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়লয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ভাগ্যকুল পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৬ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটারের চেয়ে ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে পদ্মার ভাগ্যকুল পয়েন্টে পানির উচ্চতা রয়েছে ৬ দশমিক ৫২ সেন্টিমিটার।

জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের কারণে সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত ৪৯টি পরিবারের বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। ৮২৩ পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।