কুড়িগ্রাম জাতীয় রংপুর

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

 ডাঃ জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতনিধিঃ কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্লাবিত হয়ে পড়েছে গ্রামের পর গ্রাম। চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৫৭ ইউনিয়নের ৩শতাধিক গ্রামের আড়াই লাখ মানুষ।ভেসে গেছে ৩ শতাধিক মৎস প্রকল্প। বন্ধ হয়ে গেছে দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কাচা-পাকা সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এসব এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা কলা গাছের ভেলা ও নৌকা। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, উলিপুর, নাগেশ্বরী ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নিন্মাঞ্চলসমুহ। দুই সপ্তাহ ধরে তলিয়ে থাকায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ও মৌসুমী ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষজন পড়েছে চরম বিপাকে। বেশ কিছু এলাকায় পানি বাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়লেও স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায় ২৪ঘন্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২৭সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার, ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ৪৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২৪  সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৮ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদ জানান,নগদ ১১লাখ টাকার মধ্যে ইতোমধ্যেই ৭লাখ টাকা বন্টন করা হয়েছে এবং বাকি টাকা শুকনো খাবার কিনে তা বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে। অপরদিকে,এ পর্যন্ত ৮শ মে.টন চাল পেয়ে ইতোমধ্যেই সাড়ে ৭শ মে.টন চাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বন্টনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।