অপরাধ চট্টগ্রাম চাঁদপুর

সিরিয়াল কিলার রসু খার মামলাসমূহ ঝুলে আছে চাঁদপুরের আদালতে

 শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, চাঁদপুর:  রসু  খা’ নামটি অনেকেরই মনে থাকার কথা। বাংলাদেশের প্রথম সিরিয়াল কিলার। ১১ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এই খুনী বর্তমানে চাঁদপুর জেলা কারাগারে আছে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৯ টি মামলা চলছে আদালতে। কবে নাগাদ এসব মামলার নিস্পত্তি হবে তা কেউই জানে না। চাঁদপুরের মদনা গ্রামের ছিঁচকে চোর রসু খান ভালবাসায় পরাস্ত হয়ে এক সময় সিরিয়ার কিলারে পরিনত হয়। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তার লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের চিত্র বেরিয়ে আসে। নিজের মুখে স্বীকার করে ১১ নারী হত্যার কথা। টার্গেট ছিল ১০১ টি হত্যাকান্ড ঘটানোর। কিন্তু চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে ধরা পরার পর তার সেই আশা গুড়েবালিতে পরিনত হয়। রসু যাদের হত্যা করেছে তারা সবাই ছিল গার্মেন্টস কর্মী। রসু ভালবাসার অভিনয় করে নিন্মবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ঢাকার সাভার এলাকা থেকে চাঁদপুরে এনে প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়ে যেয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। হত্যার শিকার ওইসব হতভাগ্য মেয়েদের অধিকাংশেরই সঠিক নাম ঠিকানা বা পরিচয় আজো জানা যায় নি। এদর কারো বাড়ি রংপুর, কারো দিনাজপুর, কারো গাজীপুর। তবে সে চাঁদপুরের পরিদগঞ্জ উপজেলার পালতালুক গ্রামের  পারভীন আক্তার নামের একটি মেয়েকেও হত্যা করেছে। এলাকাবাসী  তার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। রসুকে গ্রেফতারের পর চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ থানায় মোট ১০ টি মামলা দায়ের করা হয়। এর ভেতর ১ টি হত্যা ও অপরগুলো নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে। তার মামলাগুলো বিচারের জন্য চট্রগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে একটি মামলার রায়ে রসু খালাস পেয়ে যায়। এ অবস্থায় তার বাদবাকি মামলাগুলো চাঁদপুর আদালতে পুনরায় ফেরত পাঠিয়ে দেয় ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১ টি এবং অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে ৮ টি মামলার বিচার চলছে। চাঁদপুরের পিপি অ্যাডভোকেট আমানউল্যাহ সরকার, বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান তালুকদা জানালেন, তারা তার সর্বোচ্চ সাজার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে স্বাক্ষী নিযে একটু সমস্যার কারণে বিচার কাজ প্রলম্বিত হচ্ছে।  আর রসুর পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী বললেন, রাষ্ট্রপক্ষ মামলার সাক্ষীদের হাজির করতে পরছে না। রসু খালাস পাবে।
রসু খান বর্তমানে চাঁদপুর জেলা কারাগারে রয়েছে। মাজে মধ্যেই তাকে আদালতে আনা হয় হাজিরার জন্য। সে আদালতে আসলে অস্বাভাবিক আচরন করে। কোর্টে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা জানালেন, তার ভেতর বেপরোয়া ভাব লক্ষ্য করা যায়। সে পুলিশের কাছে এটা সেটা দাবি করে। কেউ কিছু বললে সে তাকে মামলায় জড়িয়ে দেবার ভয় দেখায়। তবে চাঁদপুর জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মোঃ আব্দুল্লা আল মামুন জানান, সে জেলখানায় স্বাভাবিক আচরণ করে এবং জেলের সব নিয়ম-কানুন মেনে চলে।
রসু খা ২০০৯ সালের রোজার ভেতর ফরিদগঞ্জের মুন্সিরহাঁটে একটি মসজিদের ফ্যান চুরির ঘটনায় প্রথম পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তখন পুলিশ বুঝতে পারে নি সে একজন মারাত্বক খুনী। সেই চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় জামিনে ছাড়া পাবার পর তারই ফেলে যাওয়া একটি সিম কার্ডের সূত্র ধরে পরে পুলিশ তাকে আবারো গ্রেফতার করলে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তার খুনী জীবনের ইতিবৃত্ত। রসু খার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর মধ্যে ৮ টি মামলা সাক্ষ্য গ্রহন এবং একটি মামলা যুক্তিতর্ক  গ্রহনের পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলা কবে শেষ হবে তা কেউ বলতে পারছে না। ক্ষতিগ্রস্থ  পরিবারগুলো তাকিয়ে রয়েছে কবে হবে মামলার সমাপ্তি এবং তারা পাবে স্বজন হত্যার বিচার সেই দিকে।

শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, চাঁদপুর:  রসু  খা’ নামটি অনেকেরই মনে থাকার কথা। বাংলাদেশের প্রথম সিরিয়াল কিলার। ১১ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এই খুনী বর্তমানে চাঁদপুর জেলা কারাগারে আছে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৯ টি মামলা চলছে আদালতে। কবে নাগাদ এসব মামলার নিস্পত্তি হবে তা কেউই জানে না।
চাঁদপুরের মদনা গ্রামের ছিঁচকে চোর রসু খান ভালবাসায় পরাস্ত হয়ে এক সময় সিরিয়ার কিলারে পরিনত হয়। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তার লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের চিত্র বেরিয়ে আসে। নিজের মুখে স্বীকার করে ১১ নারী হত্যার কথা। টার্গেট ছিল ১০১ টি হত্যাকান্ড ঘটানোর। কিন্তু চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে ধরা পরার পর তার সেই আশা গুড়েবালিতে পরিনত হয়। রসু যাদের হত্যা করেছে তারা সবাই ছিল গার্মেন্টস কর্মী।
রসু ভালবাসার অভিনয় করে নিন্মবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ঢাকার সাভার এলাকা থেকে চাঁদপুরে এনে প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়ে যেয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। হত্যার শিকার ওইসব হতভাগ্য মেয়েদের অধিকাংশেরই সঠিক নাম ঠিকানা বা পরিচয় আজো জানা যায় নি। এদর কারো বাড়ি রংপুর, কারো দিনাজপুর, কারো গাজীপুর। তবে সে চাঁদপুরের পরিদগঞ্জ উপজেলার পালতালুক গ্রামের  পারভীন আক্তার নামের একটি মেয়েকেও হত্যা করেছে। এলাকাবাসী  তার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
রসুকে গ্রেফতারের পর চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ থানায় মোট ১০ টি মামলা দায়ের করা হয়। এর ভেতর ১ টি হত্যা ও অপরগুলো নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে। তার মামলাগুলো বিচারের জন্য চট্রগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে একটি মামলার রায়ে রসু খালাস পেয়ে যায়। এ অবস্থায় তার বাদবাকি মামলাগুলো চাঁদপুর আদালতে পুনরায় ফেরত পাঠিয়ে দেয় ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১ টি এবং অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে ৮ টি মামলার বিচার চলছে। চাঁদপুরের পিপি অ্যাডভোকেট আমানউল্যাহ সরকার, বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান তালুকদা জানালেন, তারা তার সর্বোচ্চ সাজার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে স্বাক্ষী নিযে একটু সমস্যার কারণে বিচার কাজ প্রলম্বিত হচ্ছে।  আর রসুর পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী বললেন, রাষ্ট্রপক্ষ মামলার সাক্ষীদের হাজির করতে পরছে না। রসু খালাস পাবে।
রসু খান বর্তমানে চাঁদপুর জেলা কারাগারে রয়েছে। মাজে মধ্যেই তাকে আদালতে আনা হয় হাজিরার জন্য। সে আদালতে আসলে অস্বাভাবিক আচরন করে। কোর্টে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা জানালেন, তার ভেতর বেপরোয়া ভাব লক্ষ্য করা যায়। সে পুলিশের কাছে এটা সেটা দাবি করে। কেউ কিছু বললে সে তাকে মামলায় জড়িয়ে দেবার ভয় দেখায়। তবে চাঁদপুর জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মোঃ আব্দুল্লা আল মামুন জানান, সে জেলখানায় স্বাভাবিক আচরণ করে এবং জেলের সব নিয়ম-কানুন মেনে চলে।
রসু খা ২০০৯ সালের রোজার ভেতর ফরিদগঞ্জের মুন্সিরহাঁটে একটি মসজিদের ফ্যান চুরির ঘটনায় প্রথম পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তখন পুলিশ বুঝতে পারে নি সে একজন মারাত্বক খুনী। সেই চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় জামিনে ছাড়া পাবার পর তারই ফেলে যাওয়া একটি সিম কার্ডের সূত্র ধরে পরে পুলিশ তাকে আবারো গ্রেফতার করলে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তার খুনী জীবনের ইতিবৃত্ত। রসু খার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর মধ্যে ৮ টি মামলা সাক্ষ্য গ্রহন এবং একটি মামলা যুক্তিতর্ক  গ্রহনের পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলা কবে শেষ হবে তা কেউ বলতে পারছে না। ক্ষতিগ্রস্থ  পরিবারগুলো তাকিয়ে রয়েছে কবে হবে মামলার সমাপ্তি এবং তারা পাবে স্বজন হত্যার বিচার সেই দিকে।