অপরাধ জাতীয় মৌলভীবাজার সিলেট

স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার দায়ে ঘাতক স্বামী গ্রেফতার

 মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পদ্মছড়া চা বাগানে স্ত্রীকে হত্যার পর হাত পা বেঁধে ঘর তালাবদ্ধ করে আগুন নিয়ে পুড়ালো পাষন্ড স্বামী। অগ্নিকান্ডে তিনটি ঘর পুড়ে গেছে। এ নারকীয় ঘটনাটি ঘটে বুধবার ভোর রাত সাড়ে ৩টায় পদ্মছড়া চা বাগানের শ্রমিক বস্তি মুন্ডা লাইনে।বুধবার সকাল সাড়ে ৯ টায় সরেজমিন পদ্মছড়া চা বাগানে গেলে চা শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বপন মুন্ডা (৩৫) বুধবার ভোর রাত সাড়ে তিনটায় দুই সন্তানের জননী স্ত্রী মহিলা চা শ্রমিক স্বপ্না মুন্ডাকে (৩০) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। হত্যার পর স্ত্রীর হাত পা বেঁধে ঘরের দরজায় তালা দিয়ে বাহির থেকে আগুন লাগিয়ে দেয়। সে আগুনে স্ত্রী পুড়ে যায়, পাশাপাশি আনন্দ মুন্ডা ও লাল মোহন মুন্ডার আর ও দুটি ঘর পুড়ে যায়। আগুনে দুইটি ছাগল ও দুইটি মোরগও পুড়ে মরে। ঘটনার পূর্বে পাষন্ড স্বামী সন্তান বৃষ্টি মুন্ডা (৪) ও সঞ্জিত মুন্ডাকে (২) পাশের একটি বাড়িতে রেখে দিয়েছিল। খবর পেয়ে বুধবার সকাল ৯টায় কমলগঞ্জ থানার ওসি মো: এনামুল হকের নের্তৃত্বে পুলিশের একটি দল লাশের সুরতহাল তৈরী করে লাশ উদ্ধার করে পাষন্ড স্বামী স্বপন মুন্ডাকে গ্রেফতার করে। বুধবার সকাল ১০ টায় কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন।কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এনামুল হক বলেন, গ্রেফতার হওয়া স্বামী নিজেই স্বীকারোক্তিতে এভাবে স্ত্রীকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। তিনি আরও বলেন, লাশের সুরতহালে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আগে হত্যা করে পরে ঘরে আগুন লাগানো হয়েছে। এখন তদন্তক্রমে আসল তথ্য বের করতে হবে। পদ্মছড়া চা বাগান সহকারী ব্যবস্থাপক রাশেদুল হাসান রনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চা শ্রমিকদের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন স্বামী কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আসামী নিজেই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করছে ও তাকে দেখেতো মনে হয়না যে মানসিক ভারসাম্যহীন। এখন পুলিশ তার জোর তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকাল সাড়ে ৬টা) কমলগঞ্জ থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। তবে পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মামলার প্রস্তুতি চলছে।