নওগাঁ রাজশাহী শিক্ষাঙ্গন

পোরশায় জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

 জেলা প্রতিবেদক,নওগাঁ, ১৩ এপ্রিল : নওগাঁর পোরশার খাসাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনটি জরাজীর্ণ কক্ষে চলছে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও আট বছরেও কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আতঙ্কের মধ্যেই চলছে পাঠদান।

যেকোনো সময় বিদ্যালয়ের চার কক্ষবিশিষ্ট ভবনটির দেয়াল ভেঙে পড়তে পারে। শিক্ষক, অভিভাবক, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিদ্যালয়ের সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।

উপজেলার ঘাটনগর ইউপির খাসাহার গ্রামে ১৯৭০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯২ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। ভবনটির একটি কক্ষ অফিস ও তিনটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

কয়েক বছর আগে কক্ষগুলোর  দেয়ালের ছাদও ফেটে যায় এবং দেয়ালের প্লাস্টার উঠে যায়। এ ছাড়া বৃষ্টির পানিতে ছাদ স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষগুলোর বেহাল অবস্থা। বর্ষার সময় কক্ষে পানি জমে যায়। এ ছাড়া দেয়াল ফেটে যাওয়ায় ভয়ে ভয়ে তাদের ক্লাসে থাকতে হয়।

অবিভাবক ফয়তুল ও শাজাহান আলী জানান, বিদ্যালয়ের যে অবস্থা, তাতে শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে তাদের চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়। যেকোনো সময়ই বিদ্যালয় ভেঙে পড়তে পারে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত দুটি শিফটে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী জরাজীর্ণ ওই সব শ্রেণিকক্ষে লেখাপড়া করছে। বিদ্যালয়টির দেয়াল বিভিন্ন জায়গায় ফেটে যাওয়ায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ নিতে ভয় পায়। তার পরও অফিসের নিয়ম অনুযায়ী আমরা পাঠদান অব্যাহত রেখেছি।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মমতাজ আলী জানান, ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। আট বছর ধরে শিক্ষা অফিসসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পর ২০১৩ সালের জুন মাসে উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ থেকে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করলেও আজও শ্রেণিকক্ষগুলো সংস্কারের সরকারি কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার আবদুস ছোবহান জানান, বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।