জাতীয়

রাজধানীতে হাইজ্যাক রোড

ঢাকা, ১ এপ্রিল (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : রাজধানীতে হাইজ্যাক রোড! শুনলেই মন আঁতকে ওঠে। এখানে দিনের কোন না কোন সময় ছিনতাই হয়ই। মাসের প্রায় প্রতিটি দিনই কাউকে না কাউকে এখানে হারাতে হয় জিনিষপত্র।

জায়গাটি দুই থানার জিরো পয়েন্ট হওয়ায় কোন থানাই এ ব্যাপারে দায়িত্ব নিতে চায় না। ফলে ছিনতাইকারীরা সহজেই পার পেয়ে যায়।

স্থানীয়রা এ সড়কের নাম দিয়েছে হাইজ্যাক রোড। এটি রাজধানীর ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোড। মোহাম্মদপুর থেকে সড়কটি সিটি হাসপাতাল হয়ে চলে গেছে শঙ্কর, ধানমন্ডি ও জিগাতলার দিকে।

রোববার সরেজমিনে গিয়ে এ রোডের দুইধারের মানুষ ও দুই থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় নানা তথ্য।

লোকজন জানান, সাতমসজিদ রোডে ধানমন্ডি ১৫, শঙ্কর ও ২৭ নম্বর রোডের মাথা এলাকায় ছিনতাই নিত্যদিনের ঘটনা। রাস্তার যে স্থানে সবচেয়ে বেশি ছিনতাই হয় তা ধানমন্ডি থানার উত্তর মাথা এবং মোহাম্মদপুর থানার দক্ষিণ মাথার মিলন স্থল। জায়গাটিকে অনেকে দুই থানার জিরো পয়েন্টও বলেন। এখানে রাস্তার একপাশে বাংলাদেশ স্টেট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস আর অপরপাশে ফোর সিজনস হোটেল নামের একটি রেস্তোরাঁ। এখানে সাতমসজিদ রোডে এসে মিশেছে মিরপুর রোড থেকে আসা ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক।

জিরো পয়েন্টে ফুটপাথে ডাব বিক্রেতা জলিল জানান, দিন বা রাত নেই, এই রাস্তায় ছিনতাই প্রতিদিনের ঘটনা। ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল, অটোরিকশা এমনকি ট্যাক্সিক্যাবে এসে ছিনতাই করে। তারা রিকশাযাত্রীদের কাছ থেকে ব্যাগ ও মূল্যবান জিনিষপত্র টান মেরে নিয়ে চলে যায়। সন্ধ্যার পর পথচারীদের কাছ থেকে সব কিছু কেড়ে নেয়। ছিনতাইয়ের শিকার রিকশাযাত্রী ও পথচারীদের অনেকেই হাউমাউ করে কাঁদেন। কিন্তু করার থাকে না কিছুই।

রাস্তার দুপাশের অনেকেই জানান, ছিনতাইকারীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রিকশার নারী যাত্রীদের ব্যাগ টেনে নিয়ে চলে যায়। অনেক সময় রিকশা থেকে নারী যাত্রীরা ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। হাত-পায়ের অনেক স্থান ছিলে যায়, অনেকে গুরুতর জখম হন। রাতে ছিনতাইকারীরা ছিনতাইকালে অনেককে ছুরিকাঘাত করে।

ছিনতাইয়ের শিকার লোকজন অভিযোগ নিয়ে ধানমন্ডি থানা বা মোহাম্মদপুর থানার গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে চান না। এক থানা পুলিশ অপর থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন।

ছিনতাইয়ের শিকার স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র নাজমুল শিমুল রাইজিংবিডিকে জানান, তিনি ২৭ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে রিকশা যোগে মোহাম্মদপুর যাচ্ছিলেন। শঙ্কর পাড় হওয়ার পর ওই মোড়ের কাছাকাছি তার পথ রোধ করে মোটরসাইকেলে আসা তিন আরোহী। তারা ল্যাপটপ, মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ধানমন্ডি থানাকে জানালে তারা মোহাম্মদপুর থানায় যেতে বলে। কিন্তু মোহাম্মদপুর থানায় গিয়েও কোন কাজ হয়নি। তারা একইভাবে ধানমন্ডি থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়। শেষ পর্যন্ত কোন উপায় না পেয়ে তিনি বাসায় চলে যান।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকাটি মুলত ধানমন্ডি থানার দেখার কথা। তারপরও আমাদের টহল দল সেখানে থাকে। এছাড়া পাশেই র‌্যাব-২ এর কার্যালয়। কিন্তু তারপরও দু’একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে থাকে। মুলত ধানমন্ডির কিছু ছেলে আমাদের এলাকায় এসে ছিনতাই করে চলে যায়। অভিযোগ পেলেও তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করা যায় না।’

অপরদিকে ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের ছেলেরা ধানমন্ডি এলাকায় এসে অপরাধ করে পালিয়ে যায়। মোহাম্মদপুর থানায় বারবার যোগাযোগ করেও এ ব্যাপারে কোন কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আমরা আমাদের এরিয়াকে অপরাধমুক্ত রাখার চেষ্টা করছি।’

এদিকে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব কুমার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমার এরিয়াতে কোন কিছু ঘটে থাকলে সে ব্যপারে পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। কিন্তু ধানমন্ডি তো আমার এরিয়ার মধ্যে পড়ে না, তাই কিছু করার নেই। এ বিষয়ে রমনা বিভাগের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন।’