জাতীয়

বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির খেসারত দেবে সাধারণ মানুষ

ঢাকা, ১৪ মার্চ (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : বিদ্যুতের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে সব জিনিসের দাম। নির্ধারিত একটি ধাপ এবং সেচের ক্ষেত্রে দাম না বড়লেও এর সামগ্রিক খেসারত সরাসরি সাধারণ জনগণকেই দিতে হবে। এমন আশঙ্কার কথা জানালেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের দাম ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যা ১ মার্চ থেকে কার্যকর হবে। তবে কৃষিসেচে এবং নূন্যতম ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে মূল্য বাড়ানো হয়নি।

শুক্রবার এ প্রসঙ্গে কথা হয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন -দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদেও সঙ্গে। তিনি আশঙ্কা করে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ব্যহত হবে। বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়বেন। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

এমনিতেই দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। সামষ্টিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগের পরিবেশ বিবেচনা করে এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি সঠিক হয় নি বলেও মন্তব্য করেন কাজী আকরাম।

সংশ্লিষ্টদের মতে- সিস্টেম লস, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করলে বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকির পরিমাণ একদিকে যেমন কমে আসত, তেমনি এ মুহুর্তেই দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না।
সরকার শুধু নিজের স্বার্থে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে উল্লেখ করে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘মূল্য বৃদ্ধির ফলে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকে।’

দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সেবার মান বাড়ছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেবার মান বাড়ানোর জন্য সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি। কেবলমাত্র নিজেদের সুবিধার জন্য এ আয়োজন। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করলেই সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।

সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমত উল্লাহ রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বিদ্যুৎখাত হচ্ছে যেকোনো সরকারের একটি টোল সেন্টার। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে  (রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল) সক্রিয় রাখতেই প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার গচ্ছা দিতে হচ্ছে সরকারকে। অথচ এ বিষয়ে জোরালো কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে ভোগান্তিতে ফেলছে সাধারণ জনগণকে।