প্রধান খবর

তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন শনিবার

ঢাকা, ১৪ মার্চ (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের সহিংসতার ধারাবাহিকতার আশঙ্কায় উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার মধ্যদিয়ে শনিবার শুরু হচ্ছে চতুর্থ উপজেলা পরিষদের ৮১ উপজেলার নির্বাচন। তফসিল অনুযায়ী ৮৩ উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সহিংসতার কারণে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

দ্বিতীয় ধাপের ধারাবাহিকতায় তৃতীয় ধাপের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নিজেদের কঠোরতা ঘোষণা দিয়েছে। তবে সরকারি দলের মারমুখী আচরণ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে উপেক্ষা করার কারণে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয়ের মধ্যে আছে খোদ নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার মো: আব্দুল মোবারক বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আশা করছি। বাকিটা আল্লাহর হাতে। অন্য একটি বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার মো. আবু হাফিজ বলেছেন, নির্বাচনে সহিংসতা হবে না এটা আশা করা ঠিক না। তিনি মন্তব্য করেন, সহিংসতা না হওয়াটা অস্বাভাবিক। এ অবস্থায় তৃতীয় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

এসব নির্বাচনী এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বুধবার মধ্যরাত থেকে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। সাথে রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই শেষ হয়েছে মিছিল-মিটিংসহ সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। একই সঙ্গে বন্ধ হয়েছে সব ধরনের যান্ত্রিক যান চলাচল। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও দুর্বল মনিটরিং ও সমন্বয়হীনতার কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপজেলা পরিষদের এ নির্বাচন দলীয় ব্যানারে না হলেও দলীয় প্রভাব রয়েছে সবখানেই। আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের পছন্দমতো প্রার্থী দিয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মাঝে রয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে (ইসি)। এদিন সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ।

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শন্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব আশফাকুর রহমান জানান, নির্বাচনের ৩২ ঘণ্টা পূর্বে সকল প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকবে। তা অব্যাহত থাকবে নির্বাচনের পর ৬৪ ঘন্টা পর্যন্ত। কেউ আইন ভঙ্গ করলে কারাদ- ও আর্থিক দ-ে দ-িত হবেন। এমনকি প্রার্থিতাও বাতিল হবে।

তিনি জানান, প্রতি উপজেলায় ১ প্লাটুন করে সেনাবাহিনীর সদস্য টহল দেবেন। বড় উপজেলায় এ সংখ্যা বাড়তে পারে।

এছাড়া মোবাইল ফোর্স হিসেবে পর্যাপ্ত পরিমাণ র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নির্বাচনের দিন প্রতি কেন্দ্রে একজন পুলিশ (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার একজন (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার ১০ জন (মহিলা-৪, পুরুষ-৬ জন) এবং আনসার একজন (লাঠিসহ) ও গ্রামপুলিশ একজন করে আইনশৃংখলার দায়িত্বে থাকবে।

ঝুঁকিপূর্ণ, পার্বত্য এলাকা, দ্বীপাঞ্চল ও হাওর এলাকায় এ সংখ্যা শুধুমাত্র পুলিশের ক্ষেত্রে দু’জন হবে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ৮১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৮১ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এ ৮১ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। তাছাড়া নির্বাচনের ২ দিন আগে থেকে আরো ২৪৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের পরের একদিন দায়িত্ব পালন করবেন।

ইতোমধ্যে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার ৩১ ভোট কেন্দ্রে মালামাল ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া আসার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থা হরেছে ইসি।

৮১ উপজেলায় মোট ১ হাজার ১১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে ৪১৯, ভাইস-চেয়ারম্যান (পুরুষ) প্রার্থীর সংখ্যা ৪২৩ জন ও ভাইস-চেয়ারম্যান (মহিলা) প্রার্থীর সংখ্যা-২৭৭ জন।

এসব উপজেলায় মোট ভোটার ১ কোটি ৩১ লাখ ৮৫ হাজার ১৩  জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৫ লাখ ৬৭ হাজার ৯৩২ জন, মহিলা ভোটার ৬৬ লাখ ১৭ হাজার ১৮১ জন।

ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৪৪ টি, ভোটকক্ষ ৩৫ হাজার ২৩১ টি। প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন করে ৫ হাজার ৪৪৪ জন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকক্ষের জন্য এক জন করে মোট ৩৫ হাজার ২৩১ জন। পোলিং অফিসার সংখ্যা ৭০ হাজার ৪৬৪ জন।

১৫ মার্চ তৃতীয় ধাপের ধারাবাহিকতায় ইসির তফসিল অনুযায়ী চতুর্থ ধাপে ৯২ উপজেলায় ২৩ মার্চ ও ৫ম ধাপের ৭৪ উপজেলায় ৩১ মার্চ  নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।