জাতীয় প্রধান খবর

ইসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন : হুমকি আতঙ্কে তৃতীয় দফার নির্বাচন

ঢাকা, ১৩ মার্চ (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : হুমকি আতঙ্কে তৃতীয় দফার উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রূপ নিয়েছে প্রকাশ্যে। বিএনপি কিংবা ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় নিত্য বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এজেন্ট নিয়োগ করা নিয়ে হুমকি আসছে প্রতিনিয়ত। কোথাও কোথাও চলছে বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ভীতি।

এ দিকে তৃতীয় দফার নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রার্থীদের নানা অভিযোগ সত্ত্বেও তা আমলে নেয়া হচ্ছে না। নির্বাচন স্বতঃস্ফূর্ত রাখতে প্রশাসনকে কমিশন নিরপেক্ষভাবে ব্যবহার করতে পারছে না বলেও অভিযোগ আসছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাহী বিভাগের সম্পূর্ণ বশীভূত। এরাই উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপে করার েেত্র বড় বাধা। তিনি বলেন, গত দুই দফা নির্বাচনেও সরকার ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট পেপারে সিল মারার মহোৎসব করেও জনগণের ভোট নিজেদের পে আনতে পারেনি। আগামীতেও তারা একই কাজ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অথচ ইসি জেগে জেগে ঘুমাচ্ছে।

এ রকম অভিযোগের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ গতকাল বলেছেন, নির্বাচনে সহিংসতা হবেই। না হওয়াটা অস্বাভাবিক। তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে নির্বাচনে সহিংসতা হয়ে থাকে। তবে আমরা শক্ত অবস্থানে আছি বলে সহিংসতা তুলনামূলক কম হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী তৃতীয় দফায় আগামী ১৫ মার্চ দেশের ৮২টি উপজেলায় নির্বাচন হবে। এর আগের দুই দফা নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীরা বেশি সংখ্যক উপজেলায় জয়ী হয়েছেন। সংখ্যার দিক দিয়ে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীরা এগিয়ে থাকায় সরকারি দল আরো আঁটঘাট বেঁধে নেমেছেন। তৃতীয় দফা নির্বাচনের ফল পক্ষে নিতে চলছে সাংগঠনিক নানা তৎপরতা।

১৫ মার্চ ৮৩টি উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত শনিবার আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সেখানে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময় হয়। এতে একজন নিহত হন। পর দিন সেখানে অভিযান শুরু করে র‌্যাব-পুলিশ। শ্রীপুরের এ ঘটনা ভীতি ছড়িয়ে দেয় ভোটারদের মধ্যে। তৃতীয় দফা নির্বাচনে ৮২ উপজেলার মধ্যে অর্ধেক উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই-তিন জন করে প্রার্থী রয়েছেন। এসব উপজেলায়ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগে আছে। বিপাকে আছেন সাধারণ ভোটারেরা।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, ভোলা সদর, মনপুরা, নেত্রকোনা সদর, লক্ষ্মীপুর সদর, ফেনীর ফুলগাজী, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় মতাসীন দলের সমর্থিত প্রার্থীদের পে স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের হয়রানি ও নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নীলফামারী সদর উপজেলায় সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনী প্রচারণা চললেও জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে অব্যাহত যৌথ অভিযানে বিরোধী নেতাকর্মীরা এলাকায় থাকতে পারছে না। নির্বাচনী প্রচারণা দূরে থাক, এজেন্ট নিয়োগ করা নিয়েও বিপাকে পড়েছেন প্রার্থীরা। পুলিশি অভিযানের ভয়ে সদর উপজেলার রামনগর ও ইটাখোলা ইউনিয়নে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করার লোকও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার পাঁচটি উপজেলায়ও বিরোধী সমর্থিত নেতাকর্মীরা বিপাকে আছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচনে অনিয়মের আশঙ্কা করেছেন।
বাগেরহাটের পাঁচটি উপজেলায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা ১৯ দলীয় জোটের সমর্থক ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না আসার জন্য হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম।

তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিনে জেলার পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সশস্ত্র হামলা ও মারধরে আহত হয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য নাজমুল হুদা, ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রহমান, প্রভাষক ইসমাইল হোসেন, খেগড়াঘাট বাজারের বিএনপি নেতা খোকন, বারুইপাড়ার শেখ জিয়াউর রহমান, শ্রীঘাটের জামায়াতকর্মী আজমল হোসেন, কবির খান, মতিয়ার রহমান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মংলার শহিদুলসহ শতাধিক বিরোধী নেতাকর্মী। বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের প্রচার কাজেও বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফরিদপুরের ছয়টি উপজেলার নির্বাচনে সেনাবাহিনী চেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাদা মিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, ছয়টি উপজেলায়ই ভোট চুরির ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নির্বাচনের দিন নানা অনিয়মের আশ্রয় নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।(নয়া দিগন্ত)