জাতীয়

বিচারহীনতার সংস্কৃতি দুর্নীতি বাড়াচ্ছে

হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা ১১ মার্চ  :  ভুল নীতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে দুর্নীতিও বাড়ছে।  জবাবদিহি নেবেন যারা, তারাই বর্তমানে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মেলনকক্ষে পরিবেশ বাঁচাও অন্দোলন (পবা) আয়োজিত ‘দুর্নীতিগ্রস্ত নীতি ও পরিবেশ বিপর্যয়’ শীর্ষক  আলোচনায় এ মন্তব্য করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখার আহমেদ।

তিনি বলেন, পুঁজি বিনিয়োগ বা ব্যবসা ও রাজনীতি এখন এক সূত্রে গাঁথা। সংসদের দিকে তাকালেই সহজেই বোঝা যায়। বর্তমান সংসদের ৫৮ শতাংশ সংসদ সদস্যই  ব্যবসায়ী। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পবা সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী।

তারিক চৌধুরী তার প্রবন্ধে বলেন, রাজউকের ভ্রান্ত নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি আসল কাজ ছেড়ে ডেভেলপারের ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি, তথা মন্ত্রী-সাংসদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্লট তৈরি করছে ও বরাদ্দ দিচ্ছে। এ কারণে নগর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিবহণ-ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের কথিত কাঠামোগত সংস্কারনীতির দোহাই দিয়ে আশির দশকের শেষ ভাগে রেলব্যবস্থার সংকোচন করা হয়। গণপরিবহণকে সুসংহত না করে হাজার হাজার প্রাইভেট গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়। এখনো সেই ধারা প্রবহমান। তথ্য পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন ২০০ প্রাইভেট গাড়ি বিআরটিএতে নিবন্ধিত হচ্ছে। এই নতুন গাড়ির মালিকদের আয়ের উৎস এবং করের হিসাব অনেক ক্ষেত্রেই অজানা থেকে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার দুর্নীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে পরিবেশ ও প্রকৃতির বিপর্যয় ঘটছে। বিশেষ করে, বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থে পেট্রোলিয়াম ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের নীতি পরিবেশের ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে। এভাবে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। তিনি গণমুখী নীতি গ্রহণ ও স্বচ্ছতা আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এসব ব্যাপারে জনগণকেও সজাগ হতে অনুরোধ করেন তিনি।

অধ্যাপক এম এম আকাশ, আনু মুহাম্মদ, পবার যুগ্ম সম্পাদক মো. আবদুস সোবাহান, আসলাম খান প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।