ধর্ম

সূরা ইউনুসের শানে নুজুল

ধর্ম প্রতিবেদক, ৬ মার্চ (হটনিউজ২৪বিডি.কম) :

নামকরণ, শানে নুজুল, পটভূমি ও বিষয়বস্তু

নামকরণ
যথারীতি ৯৮ আয়াত থেকে নিছক আলামত হিসেবে এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে। এ আয়াতের প্রসংগক্রমে হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের কথা এসেছে কিন্তু মূলত ও সূরার আলোচ্য বিষয় হযরত ইউনুসের কাহিনী নয়।

নাযিল হওয়ার স্থান
এ গোটা সূরাটি মক্কা মুয়াযযামায় নাযিল হয়। হাদীস থেকে একথা প্রমাণিত। সূরার বিষয়বস্তু এ বক্তব্য সমর্থন করে। কেউ কেউ মনে করেন এর কিছু আয়াত মাদানী যুগে নাযিল হয়। কিন্তু এটা শুধুমাত্র একটি হাওয়াই অনুমান ছাড়া আর কিছুই নয়। বক্তব্যের ধারাবাহিক উপস্থাপনা গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে পরিস্কার অনুভুত হয়, এগুলো একাধিক ভাষণ বা বিভিন্ন সময় নাযিলকৃত বিভিন্ন আয়াতের সমষ্টি নয়। বরং শুরু থেকে শেষ পর্যন্তএটা একটি সুবিন্যস্ত ও সুসংবদ্ধ ভাষণ। এটা সম্ভবত এক সাথে নাযিল হয়ে থাকবে এবং এর বক্তব্য বিষয় একথা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এটা মক্কী যুগের সূরা।

নাযিল হওয়ার সময়-কাল
এ সূরাটি কখন নাযিল হয়, এ সম্পর্কিত কোন হাদীস আমরা পাইনি। কিন্তু এর বক্তব্য বিষয় থেকে বুঝা যায় এ সুরাটি রাসূলুল্লাহ (সা)মক্কায় অবস্থানের শেষের দিকে নাযিল হয়ে থাকবে। কারণ এর বক্তব্য বিষয় থেকে সুষ্পস্টভাবে অনুভুত হয় যে, এসময় ইসলামী দাওয়াতের বিরোধীদের পক্ষ থেকে বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কাজ প্রচণ্ডভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে। তারা নিজেদের মধ্যে নবী ও তার অনুসারীদেরকে আর বরদাশত করতে রাযী নয়। উপদেশ অনুরোধের মাধ্যমে তারা সঠিক পথে চলবে, এমন আশা করা যায় না। নবী চুড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করার ফলে তাদের যে অনিবার্য পরিণতির সম্মুখিন হওয়ার কথা। এখন তা থেকে তাদের সতর্ক করে দেয়ার সময় এসে গেছে। কোন ধরনের সূরা মক্কার শেষ যুগের সাথে সম্পর্ক রাখে বক্তব্য বিষয়ের এ বৈশিষ্ট্যই তা আমাদের জানিয়ে দেয়। কিন্তু এ সূরায় হিজরতের প্রতি কোন ইংগিত পাওয়া যায় না। তাই যেসব সূরা থেকে আমরা হিজরতের ব্যাপারে সুষ্পষ্ট বা অস্পষ্ট কোন না কোন ইংগিত পাই এ সূরাটির যুগ সেগুলো থেকে আগের মনে করতে হবে। এ সময় কাল চিহ্নিত করার পর ঐতিহাসিক পটভূমি বর্ণনা করার প্রয়োজন থাকে না। কারণ , সূরা আনআম ও সূরা আরাফের ভুমিকায় এ যুগের ঐতিহাসিক পটভুমি বর্ণনা করা হয়েছে।

বিষয়বস্তু
এ ভাষণের বিষয়বস্তু হচ্ছে, দাওয়াত দেয়া, বুঝানো, ও সতর্ক করা। ভাষণের শুরু হয়েছে এভাবে : একজন মানুষ নবুওয়াতের বানী প্রচার করেছে। তা দেখে লোকেরা অবাক হচ্ছে। তারা অযথা তার বিরুদ্ধে যাদুকারিতার অভিযোগ আনছে। অথচ যেসব কথা সে পেশ করেছে তার মধ্যে আজব কিছুই নেই এবং যাদু ও জ্যোতির্বিদ্যার সাথে সম্পর্ক রাখে এমন কোন বিষয়ও তাতে নেই। সে তো দুটো গুরুত্বপুর্ণ সত্য তোমাদের জানিয়ে দিচ্ছে। এক, যে আল্লাহ এ বিশ্ব জাহানের স্রষ্টা এবং যিনি কার্যত এর ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করেছেন একমাত্র তিনিই তোমাদের মালিক ও প্রভু এবং একমাত্র তিনিই তোমাদের বন্দেগী ও আনুগত্য লাভের অধিকার রাখেন। দুই, বর্তমান পার্থিব জীবনের পরে আর একটি জীবন আসবে। সেখানে তোমাদের পুনর্বার সৃষ্টি করা হবে। সেখানে তোমরা নিজেরদের বর্তমান জীবনের যাবতীয় কাজের হিসেব দেবে। একটি মৌলিক প্রশ্নের ভিত্তিতে তোমরা শাস্তি বা পুরষ্কার লাভ করবে। সে প্রশ্নটি হচ্ছে, তোমরা আল্লাহকে নিজেদের প্রভু মেনে নিয়ে তা ইচ্ছা অনুযায়ী সৎকাজ করছো না তার বিপরীত কাজ করছো? তিনি তোমাদের সামনে এই যে সত্য দুটি পেশ করেছেন এ দুটি যথার্থ ও অকাট্য বাস্তব সত্য। তোমাদের মানা নামানায় এর কিছু আসে যায় না। এ সত্য তোমাদেরকে আহবান জানাচ্ছে, যে একে মেনে নিয়ে সেই অনুযায়ী তোমরা নিজেদের জীবন গড়ে তোলো। তার এ আহবানে সাড়া দিলে তোমাদের পারিণাম ভাল হবে। অন্যথায় দেখবে নিজেদের অশুভ পরিণতি।

আলোচনার বিষয়াদি
এক. যারা অন্ধ বিদ্বেষ ও গোঁড়ামিতে লিপ্ত হয় না এবং আলোচনায় হারজিতের পরিবর্তে নিজেরা ভুল দেখা ও ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাঁচার চিন্তা করে তাদের বুদ্ধি- বিবেককে আল্লাহর একত্ব ও পরকালীন জীবন সম্পর্কে নিশ্চিন্ত করার মতো যুক্তি প্রমাণাদি।

দুই. লোকদের তাওহীদ ও রিসালাতের আকীদা স্বীকার করে নেয়ার পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে যেসব বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল সেগুলো দূর করা এবং যেসব গাফলতি সৃষ্টি হয়েছিল সেগুলো সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়া।

তিন. মুহম্মাদ (সা) এর রিসালাত এবং তিনি যে বাণী এনেছিলেন সেসব সম্পর্কে যে সন্দেহ ও আপত্তি পেশ করা হতো, তার যথাযথ জবাব দান। চারঃ পরবর্তী জীবনে যা কিছু ঘটবে সেগুলো আগেভাগেই জানিয়ে দেয়া, যাতে মানুষ সে ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করে নিজের কার্যকলাপ সংশোধন করে নেয় এবং পরে আর তাকে সে জন্য আফসোস করতে না হয়।

পাঁচ. এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া যে, এ দুনিয়ার বর্তমান জীবন আসলে একটি পরীক্ষার জীবন। এ পরীক্ষার জন্য তোমাদের যে অবকাশ দেয়া হয়েছে তা শুধুমাত্র ততটুকুই যতটুকু সময় তোমরা এ দুনিয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছো । এ সময়টুকু যদি তোমরা নষ্ট করে দাও এবং নবীর হেদায়াত গ্রহণ করে পরীক্ষায় সাফল্য লাভের ব্যবস্থা না করো, তাহলে তোমরা আর দ্বিতীয় কোন সুযোগ পাবে না। এ নবীর আগমন এবং এ কুরআনের মাধ্যমে তোমাদের কাছে সত্য জ্ঞান পৌছে যাওয়া তোমাদের পাওয়া একমাত্র ও সর্বোত্তম সুযোগ। একে কাজে লাগাতে না পারলে পরবর্তী জীবনে তোমাদের চিরকাল পস্তাতে হবে।

ছয়. এমন সব সুষ্পষ্ট অজ্ঞতা, মূর্খতা, ও বিভ্রান্তি চিহ্নিত করা, যা শুধুমাত্র আল্লাহর হেদায়াত ছাড়া জীবন যাপন করার কারণেই লোকদের জীবনে সৃষ্টি হচ্ছিল। এ প্রসঙ্গে নূহ (আ) ঘটনা সংক্ষেপে এবং মূসা (আ) ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। চারটি কথা অনুধাবন করানোই এ ইতিহাস বর্ণনার উদ্দেশ্য। প্রথমত, মুহাম্মাদ (সা) এর সাথে তোমরা যে ব্যবহার করছো তা নূহ (আ) ও মূসার(আ) সাথে তোমাদের পূর্ববর্তীরা যে ব্যবহার করছে অবিকল তার মতই। আর নিশ্চিত থাকো যে, এ ধরনের কার্যকলাপের যে পরিণতি তারা ভোগ করেছে তোমরাও সেই একই পরিণতির সম্মুখীন হবে। দ্বিতীয়ত, মুহাম্মাদ (সা) ও তার সাথীদের আজ তোমরা যে অসহায়ত্ব ও দুর্বল অবস্থার মধ্যে দেখছো তা থেকে একথা মনে করে নিয়ো না যে, অবস্থা চিরকাল এ রকমই থাকবে। তোমরা জানো না, যে আল্লাহ মূসা ও হারূনের পেছনে ছিলেন এদের পেছনেও তিনিই আছেন। আর তিনি এমনভাবে গোটা পরিস্থিতি পাল্টে দেন যা কেউ চিন্তাও করতে পারে না। তৃতীয়ত, নিজেদের শুধরে নেয়ার জন্য আল্লাহ তোমাদের যে অবকাশ দিচ্ছেন তা যদি তোমরা নষ্ট করে দাও এবং তারপর ফেরাউনের মতো আল্লাহর হাতে পাকড়াও হবার পর একেবারে শেষ মুহূর্তে তাওবা করো, তাহলে তোমাদের মাফ করা হবে না।চতুর্থত, যারা মুহাম্মাদ (সা) এর ওপর ঈমান এনেছিল তারা যেন প্রতিকূল পরিবেশের চরম কঠোরতা ও তার মোকাবিলায় নিজেদের অসহায়ত্ব দেখে হতাশ হয়ে না পড়ে । তাদের জানা উচিত, এ অবস্থায় তাদের কিভাবে কাজ করতে হবে। তাদের এ ব্যাপারেও সতর্ক হতে হবে যে, আল্লাহ যখন নিজের মেহেরবানীতে তাদেরকে এ অবস্থা থেকে উদ্ধার করবেন তখন যেন তারা বনী ইসরাঈল মিসর থেকে মুক্তি পাওয়ার পর যে আচরণ করেছিল তেমন আচরণ না করে।

সবশেষে ঘোষণা করা হয়েছে : এ আকীদা-বিশ্বাস অনুযায়ী এবং এ পথ ও নীতির ভিত্তিতে এগিয়ে চলার জন্য আল্লাহ তার নবীকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে সামান্যতমও কাটছাট করা যেতে পারে না। যে ব্যক্তি এটা গ্রহণ করবে সে নিজের ভাল করবে এবং যে একে বর্জন করে ভূল পথে পা বাড়াবে সে নিজেরই ক্ষতি করবে।

আয়াতভিত্তিক শানে নুজুল 
আয়াত-৫ : এখানে আসমান যমীন এবং এদুয়ের মধ্যে অন্যান্য যতসব সৃষ্ট বস্তু রয়েছে এসব কিছুর সৃষ্টিতে আল্লাহ্ তা’আলা আপন প্রভূত্ব ও পূর্ণতা এবং আপন বিস্ময়কর কারুকার্যের শিল্পকলা ও কারিগরী প্রমাণ করে হাশর হবার কথা এবং আপন অস্তিত্ব ও বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ এবং শিরক রদের ঘোষণা করেছেন। বলা হয়েছে, তিনিই সেই সত্তা যিনি সূর্যের মধ্যে উজ্জ্বলতা প্রদান করেছেন, নতুবা এটাও তো দেহধারী পদার্থের অন্যতম একটি; এ বৈশিষ্ট্য এটার মধ্যে আপনা আপনি কিরূপে আসতে পারে? এবং চন্দ্রকে আপন কক্ষপথে পরিচালনা করেন। এসব কিছুতেই তিনি স্বীয় প্রভূত্ব বিকাশ করেছেন এবং বান্দার উপকারও এর মধ্যে নিহিত রেখেছেন, যথা- বছরসমূহের পরিগননা প্রত্যেক কিছুর মেয়াদ হিসাব করা চন্দ্র-সূর্যের উপর নির্ভর করে হয়। এরূপ দিন-রাতের বিবর্তনে এবং সৌরজগৎ ও ধরা পৃষ্ঠের সৃষ্ট বস্তসমূহে আল্লাহ্ভীরুদের জন্য আল্লাহর প্রভূত্বের অনেক নিদর্শন রয়েছে। ঐ সব লোকের জন্য নয় যারা পার্থিব ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে অন্ধ হয়ে রয়েছে।

আয়াত-১৫ : নবী করীম (সা.) যখন মুশরিকদের নিকট পবিত্র কোরআনের সে সব আয়াত পাঠ করতেন, যে সব আয়াতে তাদের প্রতিমা এবং তাদের প্রতিমা পূজার অসারতা ও সমালোচনার বিবরণ আছে, তখন অলীদ ইবনে মুগীরা ও অপরাপর মুশরিকরা বলত, যদি তুমি এ কোরআন আমাদেরকে মানিয়ে নিতে চাও, তবে এ সমস্ত সমালোচনামূলক আয়াত পরিবর্তন করে দাও। তাদের এ আবেদনের পেছনে উদ্দেশ্য হল- যদি এ কোরআন নবী করীম (সা.)-এর আপন পক্ষ হতে গড়া হয়, তবে নিশ্চয় তিনি তাদের মনঃতুষ্টির জন্য এটাতে কিছু পরিবর্তন করে দেবেন। আর যদি বাস্তবিকই এটা আল্লাহ্র কালাম হয়, তবে তিনি কখনও পরিবর্তন করবেন না। তাদের এ উক্তি রদকল্পে আয়াতটি নাযিল হয়।

আয়াত-২৪ : পানি মাটির সঙ্গে মিলিত হলে এতে উদ্ভিধ জন্মে, যা মানুষ ও পশুরা আহার করে। এখানে মানুষের পার্থিব জীবনের উদাহরণে আকাশের যে পানির কথা বলা হয়েছে এটা যেন পতির শুক্রবিশেষ, আর যমীন অর্থে স্ত্রীর গর্ভাশয়কে বলা হয়েছে। অনন্তর উদ্ভিদ পানির সংস্পর্শে জন্ম লাভ করে মুক্ত বাতাসে যেমন পতপত করতে থাকে। তেমনি মানুষও ভূমিষ্ট হয়ে যৌবন তরঙ্গে দীপ্তমান হতে থাকে। অতঃপর ঘাস যেমন কিছু দিন পর হলুদ বর্ণ ধারণ করে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে এবং আস্তে আস্তে চুর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মাটির সাথে বিলীন হয়ে যায়। তেমনি মানুষের যৌবনেরও অবসান ঘটে বৃদ্ধ হয় এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে পাড়ি জমিয়ে ভূগর্ভস্থ হয়ে যায়। সে যত দীর্ঘ দিনই আমোদ প্রমোদে লিপ্ত থেকে ইহজীবন ভোগ করুক না কেন, এর কোন নাম নিশান পর্যন্তও অবশিষ্ট থাকে না।

আয়াত-৩৪ : এ আয়াতে সৃষ্টি সম্বন্ধীয় উল্লিখিত কথাটির তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ অন্যান্য আয়াতসমূহে বর্ণিত আছে। এখানে তৎপ্রতি প্রশ্নাকারের মাধ্যমে ইঙ্গিত সহকারে বক্তব্যের ইতি টানা হয়। এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিধান যে, শ্রোতার নিকট যদি কোন কথা জানা থাকে অথবা কোন বিষয়ে শ্রোতা যদি চিন্তা করে, তবে এটা তার নিকট প্রতিভাত হয়ে যায়। তখন যারা সুবক্তা তারা বিষয়টি প্রশ্নাকারে বর্ণনা করে পরিসমাপ্তি ঘটান যদ্দ¦ারা শ্রোতার হৃদয়ে বিরাট প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শ্রোতীমণ্ডলী যদিও পুনর্বার সৃষ্ট হওয়াতে অবিশ্বাসী ছিল তবুও এ বিষয় যেহেতু দলীল প্রমাণে সাব্যস্ত হয়েছে, তাই এ বিষয়সমূহকে তাদের স্বীকৃত বস্তুরূপে পরিগণিত করে এদেরকে আল্লাহ তা’আলা প্রশ্নাকারে বর্ণনা করেন।

আয়াত-৪৪ : এটি এজন্যই বলা হয়েছে যে, মানুষের কৃতকর্ম তাদের প্রতিই আরোপ করা হয়। এ কারণেই আল্লাহ তা’আলা পাপীদের তাদের কু-কর্মের জন্য আযাবে নিক্ষেপ করবেন।

আয়াত-৪৫ : অর্থাৎ মুশরিকদের যখন কিয়ামতের দিন একত্রিত করাবেন। সেদিন তারা পরস্পর পরিচিতি হবে। আর সে দিনের ভয়াবহতা ও দুর্যোগের কারণে পৃথিবী ও কবরের জীবনকে তাদের নিকট এক-আধ ঘন্টার সমান মনে হবে, যদিও তারা ঐ দু জগতে শত সহস্র বছর অবস্থান করে থাকুক। সেদিন পরস্পরকে চেনা সত্বেও চিনবে না। কেউই কারও কোন সমস্যা সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে না। তাই এ জানা-শুনা কাজে আসবে না, কেউই কারও কোন উপকারও করতে পারবে না। ফলে তাদের দুঃখ কষ্ট দ্বিগুণ হবে।

আয়াত-৫৭ : প্রকৃতপক্ষে কুরআন সর্বরোগের নিরাময়, তা অন্তরের রোগই হোক কিংবা দেহেরই হোক। তবে আত্মিক রোগের ধ্বংসকারিতা মানুষের দৈহিক রোগ অপেক্ষা বেশি মারাÍক এবং এর চিকিৎসাও কারো সাধ্যের ব্যাপার নয়। হাদীসের বর্ণনা ও উম্মতের আলেম সম্প্রদায়ের অসংখ্য অভিজ্ঞতাই এটির প্রমাণ যে, কুরআন মজিদ যেমন আত্মার ব্যাধির জন্য অব্যর্থ মহৌষধ, তেমনি দৈহিক ব্যাধির জন্যও উত্তম চিকিৎসা। (মারেফুল কোরান, তাফসিরে মাজহারি)

আয়াত-৫৮ : এ আয়াতে দুটি বিষয়কে আনন্দের উপকরণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। একটি আল্লাহর ফযল এবং অপরটি তার রহমত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ফযল এর মর্ম হল কুরআন এবং রহমতের মর্মার্থ হল, কুরআন অধ্যায়ন এবং তদানুযায়ী আ’মল করার তাওফীক লাভ। (মারেফুল কোরান)

গ্রন্থনা : মাওলানা মিরাজ রহমান