আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনে শেষ মুহূর্তের প্রয়োজনে সেনাবাহিনী: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ৪ মার্চ (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : ইউক্রেনে শেষ মূহূর্তের প্রয়োজনে রাশিয়া সেনাবাহিনী নামাতে পরে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত ইউক্রেনে সেনাবাহিনী পাঠানোর মতো কোন অবস্থা তৈরি হয় নি। তবে দেশটির পূর্বে বসবাসরত নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় যে কোন পদক্ষেপ নেবার অধিকার রাশিয়ার রয়েছে। মঙ্গলবার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। খবর বিবিসি।

প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানোকোভিচ এর ক্ষমতাচ্যুতি অসাংবিধানিক। আর এটা করা হয়েছে অস্ত্রের মুখে। এদিকে  ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার সেনা অবস্থান নেবার কথা অস্বীকার করে পুতিন বলেন, সেখানে রাশিয়ার কোন সেনাবাহিনী নেই। যাদের দেখা গেছে তারা রাশিয়ার সমর্থক, তারা নিজেদের আত্মরক্ষায় অবস্থান নিয়েছে।

এর আগে গতকাল ইউক্রেনের বাহিনীকে আত্মসমর্পণে সময় বেঁধে দেয় রাশিয়া। মঙ্গলবার ভোররাত তিনটার মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়  নতুবা হামলার হুমকি দেয় রাশিয়ান সেনাবাহিনী। রুশ নৌ বহরের অধিনায়ক আলেকসান্দর ভিতকো ওই আল্টিমেটাম দেন। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দেশটি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে এবং আল্টিমেটামের বিষয়টি অস্বীকার করে।

উপকূলবর্তী শহর সেভাস্টোপোলে রাশিয়ার সীমান্ত জাহাজগুলোকে টহল দিতে দেখা যাচ্ছে। এদিেক, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের শহর ডনেটস্কের আঞ্চলিক সরকারী ভবনের প্রথম তলা দখলে নিয়েছে রাশিয়া পন্থী সমর্থকেরা। গত তিন দিন ধরে ১১ তলা ওই ভবনটিতে ইউক্রেনের পতাকার বদলে রাশিয়ার পতাকা উড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইতিমধ্যে বলেছেন, রাশিয়া সামরিক আগ্রাসন বন্ধ না করলে ওবামা প্রশাসন রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা বিবেচনা করছে।

পশ্চিমা শক্তিগুলো ‘ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে’ ক্রিমিয়ায় রুশ সেনা পাঠানোর নিন্দা জানিয়েছে। এরই মধ্যে রুশ সেনারা কার্যত ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। জবাবে রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলায় সর্বশক্তি নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে ইউক্রেন।

রাজপথে মাসাধিককাল বিক্ষোভের পর গত মাসে রাশিয়াপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। রাশিয়ার দাবি, দেশটির সেনাবাহিনী ক্রিমিয়ায় মানবাধিকার রক্ষা করছে। কিন্তু ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো রাশিয়ার এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।