প্রধান খবর

ঢাকায় বিমসটেক দারিদ্র্য নিরসন সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব

মিয়ানমার (নেপিডো), ৪ মার্চ (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : ঢাকায় বিমসটেক দারিদ্র্য নিরসন সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে শুরু হওয়া বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ভাষণে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ দারিদ্র্যের মাত্রা ৪০ শতাংশ থেকে ২৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও। বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহারের পক্ষে কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত এই অঞ্চলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কথা। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের তিন কোটি মানুষের সম্ভাব্য অভিবাসনের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় ‘সংহতি ও সমৃদ্ধির জন্য অংশীদারিত্ব’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হয় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) নামে সাত জাতির এই আঞ্চলিক জোটের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নিয়েছেন এই শীর্ষ সম্মেলনে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রথম বক্তা হিসেবে আঞ্চলিক উন্নয়নে বিমসটেকের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে এই অঞ্চলের শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একযোগে কাজ করতে শীর্ষনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যে তিনি আঞ্চলিক উন্নয়নে আন্তদেশীয় যোগাযোগ স্থাপনের ওপর জোর দেন। এ ছাড়া বিমসটেকের মাধ্যমে এই অঞ্চলের দারিদ্র্য নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদস্যদেশগুলোর শীর্ষনেতাদের স্বাগত জানান মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে এবং থাইল্যান্ডের স্থায়ী সচিব সিহাশাক ফুয়াংকেতকিও। শীর্ষনেতারা সাতটি ক্রিস্টাল বক্সের ওপর হাত রেখে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্বোধনীতে অংশ নেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরপরই শুরু হয় শীর্ষনেতাদের বক্তব্য। এতে প্রথমেই বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য নিরসনে বিমসটেকের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া না হলে এর সদস্যদেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের পক্ষে কণ্ঠ জাগ্রত করতে অন্য দেশগুলোর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে বিমসটেক উদ্যোগ নিতে পারে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল উন্নয়নের জন্যই সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা এখন বিশ্বায়নের যুগে বাস করছি। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে। বিমসটেক যাতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বিশ্বাস নিয়ে সম্পদ ও সমৃদ্ধির সমবণ্টনের মাধ্যমে এগিয়ে যায়, সেই আহ্বানই জানান প্রধানমন্ত্রী।