বিনোদন

এবারের অস্কারে সেরা এনিমেশন মুভি ‘ফ্রোজেন’ (ভিডিও)

বিনোদন প্রতিবেদক, ৪ মার্চ (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : অ্যানিমেশন মুভির জগতে সবচাইতে সাম্প্রতিক নাম হলো ডিজনির “ফ্রোজেন”। নাম শুনেই আঁচ করে নেওয়া যায়, এর কাহিনীর সিংহভাগ আবর্তিত হয় বরফ, তুষারপাত এবং ঠাণ্ডার দেশে আর যা যা থাকতে পারে- সে সব ঘিরে। অ্যানিমেশনকে যারা বাচ্চাদের সিনেমা বলে উড়িয়ে দেন, তাদেরও উচিৎ হবে এই মুভিটির দিকে দৃষ্টি দেওয়া, কারণ অনেকটাই ব্যতিক্রমধর্মী কাহিনীর এই মুভিটি যেমন বাচ্চাদের বোঝার মতো সরল, তেমনি একটু মনোযোগ দিলেই বোঝা যায় এখানে বড়দেরও শিক্ষা নেবার মতো অনেক কিছুই আছে।

ডিজনির মুভিগুলোতে সাধারণত কিছু কিছু উপাদান থাকে যা পরিবর্তিত হতে দেখাই যায় না সচরাচর। যেমন, খুব সুন্দরী এবং নম্র-ভদ্র একটি রাজকন্যা থাকবেই। সেই সাথে থাকবে একটি রাজপুত্র, প্রথম দেখাতেই একে অপরের প্রেমে পড়ে যাবে তারা। এর মাঝে থাকবে মায়াবী যাদুবিদ্যার মিশেল- ভালো এবং খারাপ উভয় ধরণের। খারাপ জাদুর কারণে রাজকন্যা বড় কোনো বিপদে পড়বে এবং তা থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসবে রাজপুত্র। সবশেষে রাজকন্যা এবং রাজপুত্রের “ট্রু লাভ” তথা খাঁটি ভালোবাসার শক্তিতে পরাজিত হবে অশুভ শক্তি। আপনি যদি ভেবে থাকেন ঠিক এই ব্যাপারগুলো ঘটবে “ফ্রোজেন” মুভিটিতেও, তবে আপনার এই ভুল ভাঙ্গানোর জন্য অপেক্ষা করছে বেশ কিছু চমক। তবে চিন্তিত হবেন না, আপনার আশাভঙ্গ হবে না মোটেই।

প্রথমত, “ফ্রোজেন” এর কাহিনী একজন নয়, বরং দু’জন রাজকন্যাকে নিয়ে। অন্যদের চোখে নম্র-ভদ্র এবং নিখুঁত মনে হলেও, তাদের দুজনেরই রয়েছে এমন অতীত, এমন দুঃখ যেমনটা সাধারণত ডিজনি মুভিতে দেখা যায় না। তাদের ব্যাথায় সমব্যাথি হতে পারবেন আপনিও। বয়সে বড় এলসা নামের যে রাজকন্যাটি, খালি হাতের স্পর্শে যে কোনো কিছুকে বরফ করে দেবার দুর্লভ ক্ষমতা রয়েছে তার। কিন্তু একে ভালো চোখে দেখে না কেউই। বরং ক্রমাগত তার এই ক্ষমতাকে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয় ছোটবেলা থেকেই। আর তা সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয় ছোট বোন আনা’র কাছ থেকে। এতে একটু একটু করে কষ্ট জমে উঠতে শুরু করে দুই বোনেরই মনে। একটা সময়ে এ কারনেই তাদের জীবনে নেমে আসে দুর্যোগ এবং এলসাকে চলে যেতে হয় নিজের রাজ্য ছেড়ে। তার পিছু নেয় ছোট বোন আনা। এর পর ক্রমেই একের পর এক অপ্রত্যাশিত মোড় নিতে থাকে কাহিনী।

যদি ভেবে থাকেন এলসা এবং আনা’র এই দুঃসময়ে আবির্ভাব হবে কোনো সুপুরুষ রাজপুত্রের, তবে ঠিকই ভেবেছেন। হ্যান্স নামের এই রাজপুত্র প্রথম দেখাতেই রাজকন্যা আনা’র মন গলিয়ে ফেলে। একে অপরের সাথে পরিচিত হবার কয়েক ঘণ্টার মাঝেই তারা বিয়ে করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। অন্য কোনো রূপকথার গল্প হলে ব্যাপারটা এখানেই মিটে যেত। কিন্তু অন্য সব রাজকন্যার মাঝে যে বুদ্ধিটা সাধারনত কাজ করে না, সে বুদ্ধিটুকু রাজকন্যা এলসার মাথায় আছে ঠিকই। সে আনা’কে সাফ বলে দেয় “এইমাত্র পরিচিত হওয়া একজন মানুষকে তুমি বিয়ে করতে পারবে না।” এমনকি যে “ট্রু লাভ” আমরা সচরাচর রাজকন্যা এবং রাজপুত্রের মাঝে দেখে এসেছি, তারও মাঝে নিয়ে আসা হয়েছে অভিনব এক টুইস্ট।

এখানেই শেষ নয়, কাহিনীর মাঝে আবির্ভাব ঘটে আরও কিছু প্রয়োজনীয় চরিত্রের। পাহাড়ি যুবক ক্রিস্টফ, তার বল্গাহরিণ স্ভেন, হাঁটা-চলা-কথা বলায় সক্ষম তুষারমানব ওলাফ আরও কতো কি। হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের “স্নো কুইন” গল্পটির ওপর ভিত্তি করে এই মুভিটি নির্মাণ করা হয়েছে বটে, কিন্তু আসল কাহিনীর সাথে “ফ্রোজেন” এর মিল খুঁজে পাওয়া শক্ত। গানে গানে ভরা ফ্রোজেন আপনাকে নিমিষেই নিয়ে যাবে এমন এক বরফের রাজ্যে, যা কোনো রুপকথায় এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাই সুযোগ পেলে দেখে ফেলুন এই মুভিটি। বিশেষ করে যাদের পরিবারে ছোট মেয়ে রয়েছে, তাদের জন্য তো এটা দেখা মোটামুটি আবশ্যক!