আন্তর্জাতিক

বিত্তশালী চীনাদের জন্য উন্মুক্ত সীমান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ৩ মার্চ (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : আইনি অনিশ্চয়তা, তীব্র পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি কারণে চীনের অতিবিত্তবানরা বিদেশে চলে যেতে চান। কিছু দেশ বিত্তশালী ‘ক্লায়েন্ট’-দের থাকার অনুমতি দিতেও প্রস্তুত। এর পরিবর্তে ‘আশ্রয় পাওয়া’ দেশটিতে অর্থ বিনিয়োগ করতে হয় তাঁদের। চীনা সমাজতন্ত্রে’ বিশাল সম্পদের অধিকারী হওয়া কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। বৈধ বা অবৈধ পথে, যেভাবেই হোক না কেন। অনুমান করা হয় এক মিলিয়নেরও বেশি চীনা ‘ডলার-মিলিয়ন’ বা মিলিয়ন ডলারের মালিক। সম্পদের দিক দিয়ে বিশ্বব্যাপী তৃতীয় স্থানে রয়েছেন চীনেরা। ৪০০ চীনা মিলিওনিয়ারকে নিয়ে এক জরিপ চালানো হয় সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে কমপক্ষে ৬৫ শতাংশ দেশ ছাড়তে আগ্রহী। তৃতীয় কোনো দেশে বসবাসের অনুমতি জোগাড় করতে চান তাঁরা। অনেকে পরিবার-পরিজনকে আগেই পাঠিয়ে দিতে চান অন্য কোনো দেশে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৩০ শতাংশের অন্য দেশের আবাসিক পারমিট রয়েছে।  ৫০০, ০০০ ইউরোর সম্পত্তি কিনলে পর্তুগালে বসবাস করার স্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয় ৫০০, ০০০ ইউরোর সম্পত্তি কিনলে পর্তুগালে বসবাস করার স্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয় প্রশ্ন জাগতে পারে, মিলিওনিয়াররা কেন স্বদেশ ত্যাগ করতে চান? বার্লিনের ‘মের্কার্টোর ইন্সটিটিউট অফ চায়না স্টাডিস’-এর ক্রিস্টিন কুপ্ফার মনে করেন, এর পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে: প্রথমত নিরাপত্তার অভাব, দ্বিতীয়ত সন্তানদের অন্য দেশের শিক্ষার পরিবেশ সম্পৃক্ত করার আকাক্সক্ষা। তৃতীয়ত, চীনের চরম দূষিত আবহাওয়া থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার চেষ্টা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ‘বিত্তশালী শরণার্থী’-দের ব্যাপারে প্রস্তুতি নিয়েছে। গ্রহণ করেছে বিশেষ কর্মসূচি অর্থ বিনিয়োগের পরিবর্তে দেওয়া হবে আবাসিক পারমিট। অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অসংখ্য দেশ এক্ষেত্রে যেন রীতিমত প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অর্থনৈতিক সংকটে পড়া দেশ পর্তুগাল ২০১২ সালে ‘গোল্ডেন ভিসা’ প্রোগ্রাম চালু করে। কমপক্ষে ৫০০, ০০০ ইউরোর সম্পত্তি কিনলে পর্তুগালে বসবাস করার স্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। গত বছর আবেদনকারীদের ৯০ শতাংশ ছিলেন বিত্তশালী চীনা ও হংকং-এর মানুষ। প্রতিবেশী স্পেনও প্রায় একই ধরনের কর্মসূচি চালু করেছে। অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়া গ্রিস ও সাইপ্রাস কমপক্ষে ২৫০, ০০০ ইউরো মূল্যের সম্পদ কিনলে আবাসিক পারমিট দিয়ে থাকে। ধনী দেশ নেদারল্যান্ডসও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। স্থানীয় অর্থনীতিতে ১.২৫ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের বিনিময়ে পাওয়া যায় দেশটিতে থাকার অনুমতি। চীনের আইনে বছরে ৫০, ০০০ ডলারের বেশি দেশের বাইরে পাচার করা নিষেধ। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে অর্থ পাচার করা হয়। চীনা বিশেষজ্ঞ কুপ্ফার জানান, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশগুলিতে রয়েছে চীনা মালিকাধীন ২১, ০০০ লেটার বক্স কোম্পানি। যেখানে কর ফাঁকি দিয়ে টাকা পাচার করা চলে। প্রচুর অর্থ হংকং-এর মাধ্যমেও পাচার করা হয়। ‘‘শহরটি বিদেশে অর্থ পাঠাবার সেতু হিসাবে কাজ করে থাকে’’, বলেন কুপ্ফার। সমালোচনার চোখে দেখা হয়। চীনেও অতি বিত্তবানদের এই বিদেশমুখী প্রবণতাকে সমালোচনার চোখে দেখা হয়। ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির কারণেই এমনটি হয়ে থাকে বলে করেন বিশেষজ্ঞরা। বেজিং-এর পিপলস ইউনিভার্সিটির প্রফেসর জাও শিয়াওজেং বলেন, ‘‘চীনের সংস্কারবাদি নেতা ডেং জিয়াওপিং বলেছেন জনগণের এক অংশ সম্পদশালী হতে পারে। তবে তাঁদের এই সম্পদ অর্জন করতে হবে সৎপথে। কিন্তু অতিবিত্তশালীদের অনেকেই স্বজনপ্রীতি, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ, ফটকাবাজির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড়। করেছেন। এখন তাঁরা তাঁদের অর্থ বিদেশে নিরাপদে রাখতে চান। অবশ্য বৈধ পথে অর্থ উপার্জন করেও নিরাপত্তার অভাবে দেশ ছাড়েন অনেকে।