অর্থ ও বাণিজ্য

সরকারের পদক্ষেপে চা উৎপাদনকারীরা হতভম্ব

ঢাকা, ৩ মার্চ (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : চা আমদানির ওপর ইতোপূর্বে আরোপিত ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল না রাখায় চা উৎপাদনকারীরা হতভম্ব হয়েছেন।

সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে বাংলাদেশ চা সংসদের নেতাদের সাক্ষাত শেষে চা সংসদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাফওয়ান চৌধুরী এ কথা জানান।

বৈঠকে চা সংসদ ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দেননি।

চা সংসদের নেতারা বলেন, ‘বিগত ২০১০ সাল থেকে বিদেশ থেকে নিম্নমানের বা সস্তা মূল্যের চা আমদানি বাড়ছে। তখন থেকে আমরা এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে আসছি। এ লক্ষ্যে  চা সংসদের একটি প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চা আমাদানি নিরুৎসাহিতকরণে রেগুলেটরি শুল্ক এবং ১০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার আবেদন জানাই।

চা সংসদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে সরকার চা আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপ করে। পরবর্তীতে সরকার রেগুলেটরি ডিউটি ৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ করে, যা ২০১৩ সালে প্রস্তাবিত অর্থ আইনেও বহাল ছিল। কিন্তু ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট পাশের ঠিক আগে আকস্মিভাবে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক অর্থ আইন ২০১৩ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। সরকারের এমন পদক্ষেপের কোনো কারণ আমাদের জানা নেই। এ পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা চা উৎপাদনকারীরা হতভম্ব।

অর্থমন্ত্রীকে দেয়া চা সংসদের লিখিত বক্তব্যে দেখো গেছে, বিদেশ থেকে নিম্নমানের চা আমদানির পরিমাণ বেড়েছে কয়েক গুন। তবে ২০১২ সালে সম্পূরক শুল্ক থাকায় আমদানি হ্রাস পেয়েছে।

তাদের তথ্যমতে, ২০১০ সালে চা আমদানি হয়েছে ৪ দশমিক ১৩ মিলিয়ন কেজি। আর ২০১১ সালে হয়েছে ৪ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন কেজি, ২০১২ সালে ১ দশমিক ৯২ মিলিয়ন কেজি। কিন্তু ২০১৩ সালে এ শুল্ক প্রত্যাহার করায় আমদানি আরো কয়েকগুন বেড়ে ১০ দশমিক ৬২ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।