রাজনীতি

উপজেলা নির্বাচনে জয়ী হতে আরো কঠোর হবে আলীগ

ঢাকা, ৩ মার্চ (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : বিএনপি জোটকে আপাতত আর কোনোরকম ‘ছাড়’ দিচ্ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে শক্তি প্রদর্শনসহ নানা উপায়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চায় দলটি। পাশাপাশি বিএনপি জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে। তাদের কোনোভাবেই মাঠ দখল করতে দেয়া হবে না। দলীয় নেতাকর্মীদের ভেঙে পড়া মনোবল পুনরুদ্ধারেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দল ও সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচনের পর সারা দেশেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ে। নির্বাচনী ফলাফল দেখে চরম হতাশ হয়ে পড়েন তারা। তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভেঙে পড়া মনোবল ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ নেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক মহল। সভা, সমাবেশ, কাউন্সিল, বর্ধিতসভা, সাংগঠনিক সফরসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের উজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলোকে আরো ‘সিরিয়াসলি’ নেয়ার নির্দেশ দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। এসব নির্বাচনে কোনোভাবেই যাতে বিদ্রোহী প্রার্থী না দাঁড়াতে পারেন সে ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দলের সিনিয়র নেতাদের নির্দেশনা দেন তিনি। এরপর থেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। যেকোনোভাবেই হোক দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে উঠেপড়ে নামেন তারা। তারই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফায় উপজেলা নির্বাচনে সারা দেশে তৎপর ছিলেন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটকেন্দ্রে হামলা, জালভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ নানা উপায়ে দলীয় প্রার্থীর বিজয় ছিনিয়ে আনার চেষ্টা করেন আওয়ামী লীগ কর্মীরা।

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, জাতীয় নির্বাচনের ধাক্কা সামলে উঠলেও প্রথম দফার উপজেলা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের শীর্ষ নেতাদের ওপর তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপ বাড়ছে। কেন্দ্রের ঢিলেমির কারণেই প্রথম দফার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এমন ধরাশায়ী হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। এ ইস্যুতে রীতিমতো ‘কৈফিয়ত’ দিতে হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। তাই এই নেতাকর্মীদের ভেঙে পড়া মনোবল চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে তাদের ব্যাপকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। এবার কোনো ঢিলেমি নয়, দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে যা যা করার তাই করার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে বিএনপি-জামায়াত নতুন শক্তিতে সংগঠিত হতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে চিহ্নি ওই সব এলাকায় যেভাবেই হোক দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। হাইকমান্ডের এমন মনোভাবের কারণেই গত বৃহস্পতিবার সারা দেশে বেশ আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের কট্টরপন্থী একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, প্রথম পর্বের উপজেলা নির্বাচনে সাফল্য পেয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট আবার তৎপর হয়ে উঠেছে। মাঠে শক্ত অবস্থানের চিন্তা করছে তারা। সামনের দিনগুলোতে বিএনপি-জামায়াত জোটকে আর ছাড় দেয়া হবে না। উপজেলা নির্বাচন শেষে নতুন উদ্যমে মাঠে নামবে আওয়ামী লীগ। যেভাবেই হোক মাঠ আওয়ামী লীগের দখলেই রাখা হবে। দ্বিতীয় দফার উপজেলা নির্বাচনে সেই ট্রায়াল দেয়া হয়েছে মাত্র। এ নেতার মতে, সারা দেশে আওয়ামী লীগ নেতকার্মীদের এরকম তৎপরতা না থাকলে নির্বাচনের রেজাল্ট আরেকটু অন্যরকম হতে পারত। তাতে আওয়ামী লীগের আরো বিপর্যয়ের সম্ভাবনা ছিল। সেটি আপাতত রোধ করা গেছে। এ ধারা আগামীতেও অব্যাহিত থাকবে।

তবে অন্য আরেক নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জোর করে বিজয় ছিনিয়ে আনার পক্ষে নন। সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচনে তিনি সেটা প্রমাণ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ব্যাপক ভরাডুবির কথা জেনেও তিনি কোনোভাবেই হস্তক্ষেপের চিন্তা করেননি। আওয়ামী লীগের অধীনে সুুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই ‘ক্রেডিট’ই নিতে চান। তাই গতকালের নির্বাচনে যারা বাড়াবাড়ি করেছে তারা দলের ইমেজ নষ্ট করেছেন।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি নয়া দিগন্তকে বলেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া প্রথম দফার মতো বৃহস্পতিবারের নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপি এ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক ‘অপপ্রচার’ চালিয়ে যাচ্ছে। এটি তাদের কৌশল। আওয়ামী লীগ জোর করে বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার পক্ষে নয়। অতীতের নির্বাচনেও সেটি প্রমাণ হয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলকে সামনে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট মাঠ দখলের চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগ ঘরে বসে থাকবে না। আমরাও রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে তাদের মোকাবেলা করব। (নয়াদিগন্ত)