অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা

রফতানিতে ঝুঁকি বাড়ছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২ মার্চ :  বিদ্যমান বাজারে রফতানিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের। এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন তারা।  সমক্ষতা বাড়াতে এবার অপ্রচলিত বাজারকে গুরুত্ব দিচ্ছেন  ব্যবসায়ীরা। এ লক্ষ্যে দেশভিত্তিক নীতি কৌশল কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে ভারত ও জুনে চীনকে নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ বিপণন কার্যক্রম। এপ্রিলে দেশেই আয়োজন করা হবে একটি প্রদর্শনীর। সেখানে আমন্ত্রিত দর্শনার্থী হিসেবে থাকবেন ভারত ও চীনের পোশাক ক্রেতারা। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশ দুটিতেও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, এপ্রিলে প্রথম প্রদর্শনীটি হবে ভারতকে নিয়ে। পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এটি আয়োজন করবে। ‘বাংলাদেশ-ভারত ফেয়ার ফর গার্মেন্টস এক্সপোর্ট’ শীর্ষক এ আয়োজনে সহযোগিতা করবে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশন। এরপর একে একে বেশ কয়েকটি দেশ নিয়ে এ ধরনের প্রদর্শনী করা হবে।

পোশাক শিল্প ব্যবসায়ীরা জানান,  উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে পোশাক রফতানি খাত। এ নির্ভশীলতার কারণে সেখানকার ক্রেতাদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে চাপের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পণ্যের মূল্য কমানো, কারখানায় কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও শ্রমনিরাপত্তা জোরদারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছেন ক্রেতারা। এছাড়া প্রচলিত বাজার অনেকটা শীত মৌসুমনির্ভর। এ কারণে সেখানকার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সারা বছর উত্পাদন চালু রাখাও সম্ভব হয় না। বছরের কোনো কোনো সময় আবার পুরো এক প্রান্তিক উত্পাদন বন্ধ রাখতে হয়। সব মিলিয়ে বাধ্য হয়েই এখন অপ্রচলিত বাজার শক্তিশালী করা ও নতুন বাজার সৃষ্টিতে মনোযোগী হয়েছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোকে নিয়ে দ্বিপক্ষীয় প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এ গন্তব্যের তালিকায় আছে দক্ষিণ কোরিয়া, আফ্রিকা, রাশিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোও।

ব্যবসায়ীরা মনে করেন, বিপণন কৌশলের মাধ্যমে প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কাটানো সম্ভব হবে। ক্ষেত্রবিশেষে পণ্যের ভালো দামও নিশ্চিত করা যাবে। শুধু ব্যবসায়ীরা নন; বিপণন উদ্যোগকে ইতিবাচক মনে করছেন শিল্প বিশ্লেষকরাও। তবে কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ও শ্রমনিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এসব উদ্যোগের সুফল পাওয়ার চেষ্টা বিফল হতে পারে- মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ক্রেতারা প্রতিনিয়ত কর্মপরিবেশ ও শ্রমনিরাপত্তা জোরদারের চাপ দিচ্ছেন। এসব নিশ্চিত করতে না পারলে ব্যবসা বন্ধ করার হুমকিও দিচ্ছেন তারা। তাই বাজার বহুমুখী করা ছাড়া ব্যবসায় টিকে থাকার কোনো উপায় নেই।

বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজীম বলেন, প্রচলিত বাজারে ব্যবসা করতে করতে এখন এক ধরনের একঘেঁয়েমি চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ— শুধু এ দুই বাজারে চাহিদার আধিপত্যে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধতার ঝুঁকিও কাজ করছে।