অপরাধ জাতীয় ঢাকা

মঞ্জুর হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ

 আদালত প্রতিবেক:  রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেজর মঞ্জুর হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পশাপাশি আগামী ২২ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআডিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল বিকেল পাঁচটার পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত (অস্থায়ী) প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ খন্দকার হাসান মাহমুদ ফিরোজ এই আদেশ দেন। এর আগে এ মামলার নির্ধারিত শুনানির দিন বৃহস্পতিবারই আদালতে মামলার অধিকতর তদন্তের এ আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মামলার অভিযোগপত্র পর্যালোচনায় দেখায় যায়, বিভিন্ন মাধ্যম হইতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাইতেছে। এবং মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্তে কিছু ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে। এ জন্য ন্যায় বিচারের স্বার্থে অধিকতর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’ এছাড়াও আবেদনে বলা হয়, ‘এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। তাই কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বাদ পড়ায় মামলাটি যুক্তিতর্ক পর্যায় থেকে উত্তলনপূর্বক অধিকতর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’ পরবর্তীতে ওই আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আগামী ২২ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার নির্ধারিত শুনানির দিন উপলক্ষে অন্যতম অভিযুক্ত আসামি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পুনরায় শুনানির জন্য ২৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন বিচারক। ওইদিন এ মামলার রায়ের তারিখ ছিল। কিন্তু এর আগে হঠাৎ করে বিচারক পরিবর্তন হওয়ায় রায় ঘোষণা হয়নি। নতুন বিচারক পুনরায় শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।   গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের বিরুদ্ধে মঞ্জুর হত্যা মামলার বিচারক হোসনে আরা আক্তারকে বদল করে নতুন বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়। তারও আগে গত ২২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত (অস্থায়ী) প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হোসনে আরা আক্তারের আদালত ১০ ফেব্রুয়ারি রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার নথি পত্রে দেখা যায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ওই ঘটনার পর চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার স্টাফ (জিওসি) মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর পুলিশের হাতে আটক হন। পুলিশ হেফাজত থেকে ১ জুন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নেয়ার পর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত মঞ্জুরের ভাই আইনজীবী আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ১৯৯৫ সালের ২৭ জুন এরশাদসহ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত বাকি চার আসামি হলেন- অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী এমদাদুল হক ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট কর্নেল মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভূইয়া, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আবদুল লতিফ ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামসুর রহমান শামসের। মামলার পাঁচ আসামিই উচ্চ আদালতের জামিনে রয়েছেন।