অপরাধ ঢাকা ফরিদপুর স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুনীতি ও নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ঘুষ, দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে চরমভাবে ফুসে উঠেছে স্থানীয় জনগন। এতে করে পৌর এলাকাসহ বার ইউনিয়নের তিন লক্ষাধীক সাধারন মানুষের স্বাস্থ্য সেবা চরম আকারে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। জানা গেছে, গত তিন বছর আগে ডাঃ ইমরান ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি কাজে যোগদানের পর থেকে তার অধীনস্থ মেডিকেল আবাসিক কর্মকর্তা-কর্মচারী হাসপাতালে বহিরাগত রোগী ও তার স্বজনের সঙ্গে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। তার প্রতি স্থানীয় জনগনের দীর্ঘ দিনের পুঞ্জীভুত চাপা ক্ষোভগুলো বড় ধরনরে ঘটনা সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মতে, অবিলম্বে তাকে অন্যত্র বদলী করা না হলে পরনারী লোভী ও দুঃশ্চরিত্র প্রকৃতির স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন হতে পারে। অভিযোগে প্রকাশ, ডাঃ ইমরানের বাড়ি ফরিদপুর জেলার সদর থানার ঝিলটুলি এলাকায়। তিনি বাড়ি থেকে মাত্র ৩০ কিলো মিটার অদুরে চাকুরী করছেন। সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে তিনি স্ত্রী পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন জেলা সদরে। ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তিনি যোগদান করার পর অসামাজিক ও অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িত করার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এর মধ্যে হাসপাতালে তার নিজস্ব সরকারী কোয়াটারে ভ্রাম্যমান যৌন কর্মী নিয়ে আমোদ-প্রমোদ, হাসপাতালে কর্মরত নারী চিকিৎসক, রোগী ও তার স্বজনদের প্রতি লোলভ দৃষ্টি উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরানের যৌন প্রতারনার শিকার জনৈক এক নারী বাধ্য হয়ে আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরও করেন। মামলার বিবরনীতে প্রকাশ, রুনু নামে এক বিধবা মহিলা সেবিকা স্থানীয় একটি বেসরকারী হাসপাতালে সহকারী সেবিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে রোগী নিয়ে প্রায়ই সরকারী হাসপাতালে তাকে যাতায়াত করতে হতো।  ডাঃ ইমরানের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার ভাল কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভনে ফেলে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এভাবে পরনারীলোভি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চাকুরীর প্রলোভন দিয়ে রুনুসহ বিভিন্ন রোগী ও তার স্বজনদের নিজের কামলালসার আগুনে পুড়িয়ে ভোগ করেছেন। পরে বাধ্য হয়ে বিধবা রুনু আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বলে জানা গেছে। ডাঃ ইমরানের বিরুদ্ধে দুনীতি ও অনিয়মমের অনান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, হাসপাতালের ডিএসএফের টাকা আত্মসাত, কর্মস্থলে অনুপস্থিত চিকৎ দের কাছ থেকে  টাকা নিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর গ্রহণ, হাসপাতালে কন্টিজেন্সীর টাকা ভুয়া ভাউচার, নিপা ভাইরাসের সরকারী ফান্ডের টাকা আত্মসাত। তার বিরুদ্ধে গুরুত্বর অভিযোগ হচ্ছে, সদ্য সমাপ্ত হাম রুবেলার টিকা বাবদ সরকারের বরাদ্দকৃত ১৩ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, হাম রুবেলার টাকা নাম মাত্র কিছু খরচ করেছেন কিন্ত বাকি টাকা তিনি কি করেছেন তা কেউ জানতে পারেন নি। হাম রুবেলার টাকা নিয়ে মেডিকেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিবাদের সুত্রতায় একজন অভিজ্ঞ এনেসথেশিয়ায় এক্সপার্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে তিনি অন্যত্র বদলী করতে উঠে পড়ে লেগেছেন। এ কাজে তাকে সহযোগীতা করছেন তারই এলাকার (ফরিদপুরের) সিভিল সার্জন। ইতমধ্যে তার বিরুদ্ধ চারন করায় তিনি হাসপাতাল থেকে একজন মেডিকেল সহকারীকে সম্প্রতি বদলীও করেছেন। সরকার কর্তৃক নিপা ভাইরাসের জন্য বরাদ্দকৃত পাঁচ লাখ টাকাও নামমাত্র খরচ দেখিয়ে তার পকেটে ভরেছেন। অভিযোগে আরোও প্রকাশ, হাসপাতালে জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে অকোজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে অথচ তিনি জেনারেটর চালান বাবদ টাকা এবং গর্ভবতি মহিলাদের ডিএসাফে কার্ড বিক্রি করে গত তিন বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ভাঙ্গা উপজলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ইমরান হোসেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে ডাঃ ইমরান  বলেন, গত তিন বছর ধরে তিনি ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন। সুরু থেকে বিভিন্নভাবে নামে-বেনামে অজ্ঞাতনামা চাঁদাবাজরা চাদাদাবী করে আসছিল। এ ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় জিডিও করেন। ২০১২ সালে তার হাসপাতাল কোয়াটারে  রুনুসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ যুবক রোগি দেখানোর নামে প্রবেশ করে। এ সময় রুনু পাঁচ লাখ টাকা দাবী করে তাকে ব্লাকমেইল করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় তিনি তার জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা কর্মকর্তাকে জানান। থানায় তিন একটি জডিও করেন। পরবর্তীতে তিনি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বলে জানান। তিরি আরও দাবী করেন তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট ছিল বলে আদালত রুনুর মামলা খারিজ করে দিয়েছেন বলে উক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান।