আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনে অন্তর্বর্তী সরকারের নাম ঘোষণা করেছে বিক্ষোভকারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৭ ফেব্রুয়ারি (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রধান বিক্ষোভশিবির ‘ময়দানে’ দেশটির নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রিসভার নাম উপস্থাপন কর‍া হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আরনি ইয়াটসেনায়ুকের নাম ঘোষণা করে ময়দান পরিষদ। আগামী ২৫ মে’র আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত ফাদারল্যান্ড পার্টির নেতা ও পার্লামেন্টের সাবেক স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরনি ইয়াটসেনায়ুককে মন্ত্রিসভার নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে পরিষদ।

মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বিক্ষোভকারীরা ময়দান থেকে আভাকোব ও আরোশ আরোশ নামও উচ্চারণ করেন। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের অপসারণের পর এ নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করে বিক্ষোভকারীরা।

অবশ্য ইউক্রেনে নয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনে বৃহস্পতিবার এমপিদের দ্বারা পার্লামেন্টে ভোট‍াভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, ইউক্রেনের বিধ্বস্ত অর্থনীতি মোকাবেলায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, ইউক্রেনের অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতায় সহায়তা করতে ঋণ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি রাশিয়াকে সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করলে এটা মস্কোর জন্য বড় ধরনের ভুল হবে।

এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির সেনাবাহিনীকে ইউক্রেন সীমান্তে সামরিক মহড়া পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার তিনি সেনাবাহিনীকে এ নির্দেশ দেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়।

এছাড়া, পলাতক প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি গত সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে ময়দান প্রাঙ্গণের আশপাশে দাঙ্গ‍া পুলিশের হাতে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ এনেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত নভেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি চুক্তি থেকে সরে আসায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে দেশটিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। এতে সহিংসতায় অন্তত একশ’ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

বিক্ষোভের মুখে গত সপ্তাহে কিয়েভ ছেড়ে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা খারকিভে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ। তবে তার অপসারণের পর দেশটিতে মস্কোপন্থি ও পশ্চিমাপন্থিদের মধ্যে বিভক্তি বেড়েছে। এতে করে যেকোনো সময় দেশটি ভাগ হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।