জাতীয়

বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত মনোভাবে দিল্লি খুশি

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব পাল্টে যাওয়ায় নয়াদিল্লি খুশি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এটিকে তাদের সাফল্য হিসেবেই দেখছে। তারা মনে করছে, বাংলাদেশের প্রতি বৈরী মনোভাব থেকে কিছুটা সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিমবঙ্গের বহুল প্রচারিত আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল সিনেট কমিটির এক বৈঠকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো বাড়াতে হবে। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব প্রত্যাহার করারও প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। বাংলাদেশে নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরেছেন । নয়াদিল্লি এই বিষয়টির প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি গ্যারি বাসের লেখা দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী ভূমিকার প্রসঙ্গটি ফের সামনে এসেছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক কূটনীতিক এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যতম রূপকার রণেন সেন বলেন, এটি অবশ্যই ইতিবাচক ঘটনা। তবে বিষয়টি আচমকা ঘটেনি। বাংলাদেশে ভোট হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটনের তরফে কিছু ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

একটু দেরিতে হলেও যুক্তরাষ্ট্র অনুধাবন করছে যে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আইএসআই ছাড়াও ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলোর যোগসাজশ রয়েছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে উদ্ভূত সমস্যাতেও যে জামায়াত যুক্ত, এমন খবরও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের কাছে আছে।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকারী ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রজিত মিত্তারের মতে, বাংলাদেশে বিরোধী দলের সেই রাজনৈতিক জোর যে আর নেই, তা স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে, বাইরে থেকে হাওয়া দিয়ে তাদের বেশিক্ষণ ভাসিয়ে রাখা যাবে না। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শেখ হাসিনা সম্পর্ক খারাপ করায় যুক্তরাষ্ট্র নাখোশ।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন সতর্কতার সঙ্গে পুরো বিষয়টি দেখতে চাইছেন। তার কথায়, ‘কোনো দেশই তার পররাষ্ট্রনীতি রাতারাতি বদলায় না। কিছু সূক্ষ্ম তারতম্য ঘটায় মাত্র। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কেন শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি নরম মনোভাব নিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে তবেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে বিবৃতিতে বলেছিল, বাংলাদেশে কোনো রকম হিংসা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার তারা বরদাশত করবে না। অন্যদিকে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির জন্য শেখ হাসিনা সরকারের প্রশংসাও করেছে।